মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ডায়াবেটিক রোগীর পায়ের যত্ন

প্রকাশিত : ২০ জানুয়ারী ২০১৫

বর্তমানে ডায়াবেটিস পৃথিবীর মানুষের অন্যতম প্রধান অসুখ। দিন দিন বহু নতুন লোক এ কাতারে শামিল হচ্ছেন। ডায়াবেটিস দেহের প্রায় প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়নি, তারা প্রায়ই নানাবিধ জটিল সমস্যায় আক্রান্ত হন। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রধানতম কারণ হলো ডায়াবেটিসজনিত পায়ের সমস্যা। আর বর্তমান উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সময়ও পা কেটে ফেলার অন্যতম কারণ হলো ডায়াবেটিস। দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিসে পায়ের স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এসব অংশে রক্ত সরবরাহও বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে পায়ের কোন অংশে অল্প বিস্তার ব্যথা অনুভব করার কথা থাকলে তা অনুভূতির বাইরে থেকে যায়। আবার রক্ত সরবরাহ ঠিকমত না হওয়ার কারণে কোন ছোটখাটো ঘা বা আঘাতও সময়মত বা মোটেই সেরে ওঠে না। সামান্য ঘা ক্রমেই বড় হতে হতে রাক্ষসে পরিণত হয়। তখন যত ঘায়ের ওপরের সুস্থ কিছু অংশ বাদ দিয়ে পা কেটে ফেলা না হয়, তবে এর কারণেই এক সময় রোগীর মৃত্যু ঘটবে। ডায়াবেটিস রোগীরা না জানার কারণে বা গুরুত্ব না দেয়ার কারণে অনেকেই এরূপ একটি ভয়াবহ সমস্যায় পতিত হচ্ছেন। কেউ যদি ঠিকমত পায়ের যতœ নেন তবে ডায়াবেটিস নিয়েও অনেকদিন স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব। তাকে নিচের নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে।

১. প্রতিদিন কমপক্ষে একবার পা ঈষদুষ্ণ জলে ভালমতো ধুতে হবে এবং পায়ের কোথাও কোন আঘাত বা কাটা চিহ্ন আছে কি না তা খুঁজতে হবে। এ কাজে সাধারণ চেহারা দেখার আয়না ব্যবহার করা যেতে পারে। জলের সঙ্গে সাবানও মেশানো যেতে পারে।

২. পা দুটিকে যতটা সম্ভব শুষ্ক রাখার চেষ্টা করতে হবে। গোসল বা হাত-মুখ ধোয়ার সময় যদি পা ভেজানো হয় তবে সঙ্গে সঙ্গেই নরম তোয়ালে দিয়ে পা মুছে ফেলতে হবে।

৩. পায়ে আর্দ্রতা রোধক লোশন লাগানো ভাল। তবে দু’আঙুলের মাঝে লোশন লাগানো যাবে না।

৪. পায়ের নখগুলো সোজা করে কাটুন, যাতে এরা পার্শ্ববর্তী আঙুলে নিয়মিত আঘাত বা ঘষা দিতে না পারে।

৫. পায়ে কোন বয়ড়া বা কুনি হলে নিজে নিজে কাটার চেষ্টা করবেন না কখনও।

৬. খালি পায়ে হাঁটাহাঁটি করা নিষেধ। এমনকি বাসার ভেতরেও স্যান্ডেল বা জুতা পরে হাঁটতে হবে।

৭. সবসময়ই পায়ে আরামদায়কভাবে লাগে এরূপ জুতা বা স্যান্ডেল ব্যবহার করতে হবে। জুতা ঠিকমতো না লাগলে তা থেকে পায়ের কোন অংশে সামান্য চামড়া চড়ে যাবে বা ঘা হবে, যার পরিণাম হবে ভয়াবহ। জুতার তলি নরম হওয়া বাঞ্ছনীয়। আর জুতার ভেতরে পর্যাপ্ত বাতাস প্রবেশের সুযোগ রাখতে হবে।

৮. নিয়মিত ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞের কাছে পা দেখান।

ডা. শাহজাদা সেলিম

এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ

সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা

প্রকাশিত : ২০ জানুয়ারী ২০১৫

২০/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: