মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আড্ডালাপে পাঁচ সৃষ্টিমুখী

প্রকাশিত : ২০ জানুয়ারী ২০১৫
  • জুয়েইরিযাহ মউ

‘আমি কখনই কবিতাকে বুঝতে চাই না। অনুভব করতে চাই। একটি ভাল কবিতা পাঠ করা মাত্র আমার অনুভূতি জগতকে নাড়া দিয়ে যাবে, এমন প্রত্যাশা করি। না বোঝা, অথচ ভীষণ আত্মস্পর্শী বাক্য বা বাক্য-সমবায় যখন কোন লেখাতে খুঁজে পাই, আমি মগ্ন হয়ে তার সৌন্দর্য উপভোগ করতে থাকি।’ কথাগুলো বলছিলেন বিধান সাহা। অবশ্যই তা আড্ডাতে আড্ডা জমে উঠেছিল কবিতা নিয়ে, কাব্যগ্রন্থ নিয়ে আর হ্যাঁ বইমেলা নিয়েও। আড্ডানেশা একটা দারুণ ব্যাপার, জমে গেলেই হলো। সামনে আবার একুশে বইমেলাও। আর তাই আড্ডাটা জমল ইদানীং লিখছেন এমন তরুণ পাঁচ কবির সঙ্গে। রাজীব দত্ত, তারেক রহিম, বিধান সাহা, হাসনাত শোয়েব আর আল ইমরান সিদ্দিকী-কবিতা নিয়ে তরুণ কবিদের ভাবনা অবশ্য একেক রকম। কোথাও কোথাও এসে আবার মিলে যাচ্ছিল কথাগুলো। কথা বলছিলাম কবিতা পাঠক বোঝে না এ অভিযোগ কেন ওঠে?

আল ইমরান সিদ্দিকী বলেন, উৎকৃষ্ট কবিতা পাঠকের সঙ্গে কমিউনিকেট করার ক্ষমতা রাখে। কবিতাকে বোঝা বা না-বোঝার বিষয় হিসেবে এ কবি দেখতেই রাজি নন। আর হাসনাত শোয়েবের ভাষায় অবচেতনে যে ‘আমি’টা কবিতা লেখে তাকে অনুভব করতে হয়। বিনয় মজুমদারের একটা কথা আছে, বুঝতে হলে অভিধান পড়ুন কবিতা নয়।

একটা সন্ধ্যা কিংবা গোধূলী তখন ধীরে ধীরে কবিতাময় হয়ে উঠছিল। বন্ধুমহলে তারেক রহিম না কি আলস্যের রাজা হিসেবেই খ্যাত। তিনিও আলস্য ঝেড়ে দু’চার কথা বলে দিলেন। তাকে যে বিষয়গুলো বিচলিত করে সেগুলোর থেকে নির্মোহ হয়ে কবিতায় আনার ব্যাপারটা তার মাঝে মাঝে অমানবিক লাগে। নিজেকে পলায়নপর ভাবেন এ কবি। অনিশ্চয়তার প্রতি তার ভালবাসার কথা জানিয়ে বলেন, সেই রক্তপাতের চিহ্ন মুছে দিতে কবিতার আশ্রয় নিতে চাই, কিন্তু সবসময় যে আশ্রয় পাই, তা নয়। সবসময় যে আশ্রয় চাই, তাও নয়।

কথা গড়াতে গড়াতে চিরকাল টিকে থাকা না থাকার যে দ্বন্দ্ব তা নিয়েও কথা চলল। আর রাজীব দত্তের তখন মনে পড়ল নজরুলকে। নজরুলকে শৈলজানন্দ জিজ্ঞেস করেছিলেন- এত কেন লিখছো? ছাপতেও দিচ্ছ। এতে বাজে লেখাই বাড়ছে। নজরুল বলেছিলেন- গাছের কাজ ফুল ফোটানো। কোন ফুল কই যাচ্ছে তাতে গাছের কী! আর সব ফুল তো দেবতার পায়ে যায় না। রাজীব বলেন, আসলে বিষয়টা আপেক্ষিক। আজ যেটা বাজে মনে হচ্ছে, কাল মনে হচ্ছে সেটাই ভাল। আজ যে লেখাকে ক্লাসিক বলা হচ্ছে পরে তা ক্লাসিক থাকবে তো?

এ পাঁচ কবিই নতুন বই নিয়ে হাজির থাকছেন আসন্ন অমর একুশে বইমেলায়। গল্প উপন্যাস কিংবা কোন ফিল্ম, অথবা চারপাশের মানুষ-পথ থেকেই কবিতার উপাদান খুঁজে ফেরেন তারা। রাজীব বলছিলেন আজও ভাবা যাচ্ছে না যে বই আসবে মেলায়। আর বিধানের তো কত না ঘটন-অঘটনে জড়ানো পৃষ্ঠার প্রতীক্ষা, ভয়ানন্দ নিয়েই। প্রত্যেকেই নতুন বইয়ের ঘ্রাণ নিতে গুনে গুনে দিন পার করছেন ইদানীং।

রাজীব দত্ত ‘সাবানের বন’Ñএর প্রচ্ছদ করেছেন নিজেই যা প্রকাশ করছে ‘মিতাক্ষরা’। ‘যেন মাঝপথেই’ তারেক রহিমের বই, ‘শুদ্ধস্বর’ আনবে স্টলে, প্রচ্ছদ জিহান করিমের করা। চৈতন্য থেকে আল ইমরান সিদ্দিকীর ‘কাঠঠোকরার ঘরদোর’ এবং বিধান সাহার ‘অব্যক্ত সন্ধির দিকে’ আসছে। আর মেঘনাদ থেকে হাসনাত শোয়েবের ‘সূর্যাস্তগামী মাছ’ এর জন্য অপেক্ষাও কম নয়।

অনেকে ভাবেন বইমেলা একটা বাজারও। বাজারই বটে, মেলাও। প্রাণে প্রাণ মিশে যাওয়ার। আর সে প্রতীক্ষা আলো ছড়াচ্ছে ক্যালেন্ডারের পাতা যত কাটা পড়ছে এ মাস থেকে।

প্রকাশিত : ২০ জানুয়ারী ২০১৫

২০/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: