মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

প্রফেশনাল ডিগ্রী

প্রকাশিত : ২০ জানুয়ারী ২০১৫
  • মুসান্না সাজ্জিল

কুয়াশায় ঢাকা মেঘের পড়ন্ত বিকেল, সঙ্গে শীতল হাওয়ায় আচ্ছাদিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। বাতাসে দুলে উঠা ম্রিয়মাণ গাছের ডাল-পালা গলে অস্তমিত সূর্যের আলো পড়ছে বাণিজ্য অনুষদে। সাপ্তাহিক বন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের পদচারণা ক্যাম্পাসে কম থাকলেও বাণিজ্য অনুষদে এসিসিএ ফেয়ারের ফলে কিছুটা কোলাহল নজর কাড়ে। মূল ভবনের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিনারের চিত্র তখন ভেসে আসছে প্রজেক্টরের স্ক্রিনে সিভি রাইটিং মক ইন্টারভিউ, লাইভ ড্রামা, বিজনেস গেমসহ নানা আয়োজন মুখরিত সেমিনার কক্ষ। এসিসিএ ফেয়ার আয়োজকদের পক্ষ হতে এসব বিষয়ে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃতও করা হয়। পাশাপাশি আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের সাক্ষাত ও এ্যাপ্রুভড লার্নিং পার্টনারদের স্টলেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ্যাকাউন্টেন্সিতে ক্যারিয়ার গড়ার প্রত্যয় যাদের তারা সবাই অডিটর হওয়ার প্রত্যাশা করেন। অডিটর হওয়ার জন্য একাডেমিক ক্যারিয়ারের পাশাপাশি প্রফেশনাল অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মূলত সিএ এবং এসিসিএ দুটোয় হলো প্রফেশনাল ডিগ্রী, অর্থাৎ এতে অভিজ্ঞতার বিষয়টি অত্যন্ত জরুরী। সিএ এবং এসিসিএ দুই ডিগ্রীর ব্যাপারেই শিক্ষার্থীদের মাঝে ধূম্রজাল রয়েছে। এ্যাকাউন্টেন্সি নিয়ে পড়াশোনা করা প্রতিটি শিক্ষার্থী আগ্রহী হোন ভবিষ্যত জীবনে প্রফেশনাল ডিগ্রী অর্জনের। কারণ কেবল একাডেমিক ডিগ্রী অর্জন কোন শিক্ষার্থীকে চাকরির বাজারে পারদর্শী করে না বরং নানা সেমিনার ও কোর্স তাকে এগিয়ে রাখে প্রতিদ্বন্দ্বী চাকরি প্রত্যাশার চেয়ে।

বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে জানা যায় ২০২০ সালের মধ্যে প্রফেশনাল এ্যাকাউন্টেন্সির যে চাহিদা তা পূরণ করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ বিদ্যমান প্রফেশনালদের উপস্থিতি সত্ত্বেও এ খাতে প্রচুর মানব সম্পদের ঘাটতি থাকবে। তাই ঘাটতি পূরণে তরুণদের উচিত এখুনি সময়যোগী এই পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার। এসিসিএ ও সিএ নিয়ে অনেকের মনে অস্বচ্ছ ধারণা রয়েছে। এসিসিএ ও সিএ হলো প্রফেশনাল ডিগ্রী। এসব ডিগ্রী অর্জন করতে হলে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার পাশাপাশি এ্যাকাউন্টেন্সি ফার্মে কাজ শিখতে হয়। মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে এসব প্রফেশনাল ডিগ্রী অর্জন করা সম্ভব হলেও শিক্ষার্থীদের কাছে এমন ডিগ্রী অর্জন তখন দুরূহ হয়ে উঠে। বরং এসব প্রফেশনাল ডিগ্রী অর্জনের জন্য গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করা জরুরী। গতানুগতিক পড়াশোনার মতো নয় বলে এমন ডিগ্রী অর্জন কষ্টসাধ্য। কারণ পড়াশোনা ও কাজের অভিজ্ঞতা দুটো সমান তালে এগিয়ে নিতে হয়। নির্দেশিত অফিসে শিক্ষার্থীরা যখন কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন তখন তাদের মাসিক ভাতা প্রদান করা হবে। এসব ডিগ্রী অর্জনের অন্যতম অন্তরায় হলো দিনে অফিস শেষে রাতে পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে রাতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেয়া, সপ্তাহের ছুটিতে অবকাশে যাওয়া সব বন্ধ করতে হয়। এ ছাড়া টিউশন ফি এবং পড়াশোনার খরচও কম নয়। সিএ এবং এসিসিএ ব্যয়ের মাঝেও তারতম্য রয়েছে। প্রশ্ন আসতে পারে সিএ এবং এসিসিএ পার্থক্য নিয়ে? সিএ হলো আইসিএবি কর্তৃক অনুমোদিত দেশীয় ডিগ্রী। অন্যদিকে এসিসিএ হলো ব্রিটিশ সরকারের অনুমোদিত প্রফেশনাল ডিগ্রী যা বিশ্বময় গ্রহণযোগ্য। তবে দুটো ডিগ্রীই বাংলাদেশের কর্পোরেট হাউসগুলোয় গ্রহণযোগ্য। এমন ডিগ্রী আজকের তারুণ্যকে আগামীতে নেতৃত্ব দিতে সাহায্য করবে এমনটা আশা করা যায়।

প্রকাশিত : ২০ জানুয়ারী ২০১৫

২০/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: