কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন হচ্ছে কলাপাড়ায়

প্রকাশিত : ২০ জানুয়ারী ২০১৫
দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন হচ্ছে কলাপাড়ায়
  • এ বছরই প্রশাসনিক ভবনে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা

মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া, ১৯ জানুয়ারি ॥ কলাপাড়ায় দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ২০১৫ সালের মাঝামাঝি স্টেশনের প্রশাসনিক ভবনে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে ২০১৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশ যুক্ত হচ্ছে নিরবচ্ছিন্ন তথ্যপ্রযুক্তির সেবায়। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এক হাজার তিন শ’ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ ইন্টারনেট যুক্ত হবে বাংলাদেশে। ফলে ইন্টারনেট প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের প্রকল্প এলাকার সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে ভূমধ্যসাগরের গ্রাউন্ড লোকেশন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার গোড়া আমখোলা পাড়া। এ লক্ষ্যে ১০ কোটি টাকা ব্যয় ২০১৩ সালে ১০ একর জমি কিনে দ্বিতীয় সাবমেরিন ল্যান্ডিং স্টেশনের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়েন জাপানের একটি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে।

বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, দেশের একমাত্র সাবমেরিনের ল্যান্ডিং স্টেশন রয়েছে কক্সবাজার। যেখান থেকে বর্তমানে সমগ্র বাংলাদেশে ইন্টারনেট সুবিধা দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে সিঙ্গাপুর হয়ে সমুদ্র পথে আসা সাবমেরিন সংযোগ কোন কারণে কাটা বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংস্কার কিংবা মেরামতকালে বাংলাদেশ সাইবার সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী কোটি মানুষের তথ্যপ্রযুক্তির সুযোগ ব্যাহত হয়। গণমাধ্যমসহ ইন্টারনেট গ্রাহকরা চরম বিপাকে পড়েন। বিশ্বায়নের এ যুগে ইন্টারনেটবিহীন একটি মুহূর্ত চিন্তা করা যায় না। তাই দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন চালু হলে দ্রুতগতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সুবিধা পাবে এ অঞ্চলের ই-গ্রাহকরা। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপসহ ১৪ দেশের সঙ্গে সরাসরি তথ্যপ্রযুক্তিতে যুক্ত হবে বাংলাদেশ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রকল্প এলাকার সীমানা প্রাচীরসহ ভরাট কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চলছে প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের কাজ। জুন নাগাদ শেষ হওয়ার কথা জানালেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কে.কে এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের কর্তাব্যক্তিরা। ৬৬৮ কোটি ব্যয় বাস্তবায়িত হচ্ছে প্রকল্পটি। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এ স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত হবে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ১৫ টেলিকম কোম্পানি।

সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশনের প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ২০১৫ সালের মাঝামাঝি গভীর সমুদ্র থেকে কেবল এনে প্রশাসনিক ভবনে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, দ্রুততার সঙ্গে জাপানের একটি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এক হাজর তিন শ’ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ ইন্টারনেটে যুক্ত হবে বাংলাদেশ। ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন জানান, দ্বিতীয় সাবমেরিন ল্যান্ডিং স্টেশনের মাধ্যমে বিশ্বের তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের সাবমেরিন যোগাযোগ ব্যবস্থার বহুমুখীকরণ করা হবে। ল্যান্ডিং স্টেশনের সংযুক্তির মাধ্যমে ডাটার পরিধি বৃদ্ধি করা হবে। দেশের তথ্যপ্রযুক্তির চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এর সরবরাহ বৃদ্ধি করা হবে এবং সরকার এ খাতে অতিরিক্ত রাজস্ব^ আদায়ের সুযোগ পাবে। তিনি আরও জানান, প্রকল্পটি যথাসময়ে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটে সংযুক্ত থাকবে।

প্রকাশিত : ২০ জানুয়ারী ২০১৫

২০/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: