মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বিয়ে-শাদি যখন অনলাইনে

প্রকাশিত : ১৯ জানুয়ারী ২০১৫
বিয়ে-শাদি যখন অনলাইনে
  • তৌফিক অপু

বিয়ে শাদি নিয়ে বাঙালীর উৎসব পালন যেন ঐতিহ্যের ধারক। সেই গ্রামবাংলার গীত মুখ বিয়ে থেকে আজকের ডিজে পার্টি পর্যন্ত থেকে বিয়ের জমকালো উৎসব। সময়ের প্রবাহমানতায় পাল্টেছে বিয়ের ধরন, যুক্ত হয়েছে আধুনিকতা তাই বলে আবেগ কমেনি এতটুকু। আগে ছেলেমেয়ে দেখা থেকে শুরু করে বৌভাত পর্যন্ত চলত নানা ধরনের আনুষ্ঠানিকত। কিন্ত এখন সময়ের স্বল্পতায় এ উৎসবের গ-ি ছোট হয়ে এসেছে। একটা সময় মেয়ে দেখা নিয়ে ছিল নানা ধরনের আনুষ্ঠানিকতা। চলত নানা ধরনের আয়োজন। ছেলেপক্ষ থেকে বেশ কিছু লোকজন গিয়ে হাজির হতো মেয়েপক্ষের বাড়িতে। নানা ধরনের পিঠা পায়েসের আপ্যায়নে সিক্ত হতো ছেলেপক্ষ। এ আপ্যায়নের ভেতর দিয়ে বিচার করা হতো পারিপারিক মর্যাদা। আবার ছেলেপক্ষ থেকে আনা উপহার তাদের পারিবারিক ঐতিহ্য বহন করত। এভাবে নানা ধরনের আনুষ্ঠানিকতা অন্যরকম এক আবহ তৈরি করত।

বিয়ে-শাদির অনলাইন সাইট

কিন্তু সময়ের প্রেক্ষাপটে পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। এখন আর ঘটা করে ছেলেমেয়ে দেখা হয় না। এ পরিপ্রেক্ষিতে নেই কোন উৎসবের ছটা। ব্যস্ততা মানুষকে আজ উৎসব আয়োজন থেকে যেন অনেকটাই দূরে ঠেলে দিয়েছে। তাই বলে থেমে নেই জীবন গতি। ব্যস্ততার সঙ্গেই তাল মিলিয়ে উৎসব পালন হয় আজকাল। যেমন পাল্টেছে ছেলেমেয়ে দেখার ধরন। আজকাল বাড়িতে বসে ছেলেমেয়ে পছন্দ করা হয় না। সব কিছুই এখন নির্ভর করে অনলাইনের ওপর। অর্থাৎ অনলাইন এ বেশ কিছু সাইট রয়েছে যেগুলোতে পাত্র-পাত্রীর নাম-পরিচয়সহ সম্পূর্ণ বায়োডাটা দেয়া থাকে। দেয়া থাকে ছবিসহ যোগাযোগের ঠিকানা। নিজেদের গ-ির মধ্যে যে যার মতো বেছে নিয়ে যোগাযোগ করে নিচ্ছে। যেমন, বরকনে ডটকম, নববধূ ডটকম, ম্যারেজ মিডিয়া ডটকম ইত্যাদি সাইটগুলোতে দেখা মিলবে পাত্র-পাত্রীর। দেখা সাক্ষাতের ব্যাপারটিও সেরে নিচ্ছে বাইরের কোন মার্কেটে কিংবা চাইনিজ রেস্টুরেন্টে। এর পর মতের মিল হলে তা গড়িয়ে যায় বিয়ে পর্যন্ত।

অনলাইনে আয়োজন

কাজের ব্যস্ততায় মানুষ আজকাল এতটাই ব্যস্ত যে নিজ ঘরের আয়োজন নিজে থেকে করার যেন ফুসরত পায় না। আর এ প্রতিবন্ধকতা থেকেই সৃষ্টি হয়েছে অনলাইন ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি। এ ধরনের কোম্পানিগুলো আকদ, গায়ে হলুদ থেকে শুরু করে বিয়ে বৌভাতে সব ধরনের আয়োজনের দায়ভার নিয়ে থাকে। পার্টি সেন্টার থেকে শুরু করে অতিথি আপ্যায়ন পর্যন্ত সকল কাজ কোম্পানিগুলো করে থাকে। এতে করে খরচ একটু বেশি হলেও নির্ভার থাকা যায় এবং সময়ও বাঁচে।

পার্টি সেন্টার

বর্তমান সময়ে কমিউনিটি সেন্টার শব্দটি যেন উঠে যেতে বসেছে। সে জায়গা দখল করেছে কনভেনশন শব্দটি। আর এই কনভেনশন শব্দ কেন্দ্রিক বেশ কিছু সাজানো গোছানো সেন্টারের দেখা পাওয়া যায় এই শহরে। শুধু ঢাকার কথা বললে ভুল হবে, বিভিন্ন জেলা শহরেও আজকাল কনভেনশন সেন্টারগুলো পৌঁছে গেছে। বসুন্ধরা কনভেনশন, এ্যাবাকাস কনভেনশন, ম্যারিওট কনভেনশন, সামারাই কনভেনশন, পুলিশ কনভেনশন, ক্যাপ্রিকর্ন কনভেনশন, জয় কনভেনশন, অফিসার্স ক্লাবসহ বেশ কিছু কনভেনশন বেশ প্রচলিত। এরা অনলাইনেই বুকিং নিয়ে থাকে। যে কারণে কষ্ট করে আর দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে খোঁজখবর নিতে হবে না। ঘরে বসেই সব ধরনের খোঁজ এখন পাওয়া সম্ভব।

ছবি: সামির ও তুষার

কৃতজ্ঞতা: ব্রাইডাল জোন

প্রকাশিত : ১৯ জানুয়ারী ২০১৫

১৯/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: