কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

যুদ্ধাপরাধী বিচার ॥ হাসান আলী বাঁশিতে ফুঁ দিলে আমার শ্বশুরসহ ২ জনকে হত্যা ক

প্রকাশিত : ১৯ জানুয়ারী ২০১৫
  • প্রসিকিউশনের নবম সাক্ষী রেখা রানীর জবানবন্দী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত কিশোরগঞ্জের রাজাকার কমান্ডার হাসান আলীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের নবম সাক্ষী রেখা রানী ঘোষ জবানবন্দীতে বলেছেন, হাসান দারোগা বাঁশিতে ফুঁ দেয়ার পর রাজাকাররা গুলি করে আমার শ্বশুর কামিনী কুমার ঘোষ ও জীবন ঠাকুরকে হত্যা করে। জবানবন্দী শেষে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী সাক্ষীকে জেরা করেন। আজ আবার জেরার জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত নেত্রকোনার মুসলিম লীগ নেতা আতাউর রহমান ননী (৬২) ও নেজামে ইসলামের ওবায়দুল হক তাহেরের (৬৪) বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের বিষয়ে শুনানি শুরু হয়েছে। রবিবার প্রসিকিউশন পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসামিপক্ষের শুনানির জন্য ২৬ জানুয়ারি পরবর্তী দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। রবিবার চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক। সাক্ষীকে জবানবন্দীতে সহায়তা করেন প্রসিকিউটর আবুল কালাম।

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কিশোরগঞ্জের রাজাকার কমান্ডার হাসান আলীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন পক্ষের সাক্ষী জবানবন্দী প্রদান করেছেন। জবানবন্দীতে সাক্ষী বলেন, আমার নাম রেখা রানী ঘোষ। আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৭৭ বছর। আমার ঠিকানা গ্রাম- আড়াইউড়া, থানা- তাড়াইল, জেলা- কিশোরগঞ্জ। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল আনুমানিক ৩৫ বছর। তখন আমি বিবাহিত ছিলাম এবং স্বামীর বাড়িতে থাকতাম। ১৯৭১ সালের ৮ অক্টোবর বাংলা ২১ আশ্বিন শুক্রবার আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে আমাদের বাড়িতে রাজাকাররা আক্রমণ করে। রাজাকারদের দেখে আমি ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলে রাজাকাররা আমাকে বলে কোথায় যাও। ইতোমধ্যে আমাদের ঘরে ১০-১৫ জন রাজাকার ঢুকে পড়ে।

আসামি হাসান রাজাকারের নির্দেশে ৫-৬ জন রাজাকার আমাদের পাশের চিকনী গ্রামের জীবন ঠাকুরকে ধরে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসে। হাসান রাজাকারকে দেখে জীবন ঠাকুর তার কাছে প্রাণ ভিক্ষা চায়। কিন্তু হাসান রাজাকার চুপচাপ থাকে। এরপর আসামি হাসান দারোগাসহ রাজাকাররা আমাদের উঠান থেকে আমার শ্বশুর কামিনী কুমার ঘোষ ও জীবন ঠাকুরকে ৫/৭ হাত দূরে একটি খালি জায়গায় নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর হাসান বাঁশিতে ফুঁ দিলে রাজাকাররা গুলি করে আমার শ্বশুর কামিনী কুমার ঘোষ ও জীবন ঠাকুরকে হত্যা করে। তাদের হত্যা করার পর হাসান দারোগা আবার আমাদের বাড়ির উঠানে আসে। আমাকে বলে তোমার শ্বশুরকে পোড়াতে পারবে না। মাটি চাপা দিবে। সে আরও বলে যে তোমরা যদি মুসলমান না হও তাহলে তোমাদের বংশ নিপাত হবে।

ননী-তাহের ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত নেত্রকোনার মুসলিম লীগ নেতা আতাউর রহমান ননী (৬২) ও নেজামে ইসলামের ওবায়দুল হক তাহেরের (৬৪) বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের বিষয়ে প্রসিকিউশন পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসামিপক্ষের শুনানির জন্য ২৫ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকাশিত : ১৯ জানুয়ারী ২০১৫

১৯/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: