মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

সমাবর্তনে প্রাণের উচ্ছ্বাস

প্রকাশিত : ১৮ জানুয়ারী ২০১৫

চারদিকে সাজ সাজ রব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোড়ে মোড়ে ব্যানার, ফেস্টুন আর প্ল্যাকার্ডে লেখা স্বাগতম ৪৯তম সমাবর্তন। প্রতিটি ভবনে আলোকসজ্জা এবং বিভিন্ন রঙে আলপনা করা। সব মিলিয়ে ক্যাম্পাস সেজেছিল বর্ণিল সাজে। জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মাননা গ্রহণের গুঞ্জন শুরু হয়েছিল কয়েকদিন আগে থেকেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতির হাত থেকে মেধার স্বাক্ষর রাখার জন্য সনদ আর স্বর্ণপদক গ্রহণ করা জীবনের সবচেয়ে উপভোগ্য সময়। সত্যিকার অর্থে এমন উপভোগ্য সময় জীবনে বারবার আসে না।

সব অপেক্ষার অবসান হয় গত ১১ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে। কারণ সে দিন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ঢাবির ৪৭তম সমাবর্তন। ওইদিন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আনন্দের মাত্রা পৌঁছেছিল পাহাড় চূড়ায়। সমাবর্তনে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশনের ডিরেক্টর জেনারেল অধ্যাপক ড. ফ্রান্সিস গ্যারি। তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না খেলার মাঠে। নতুন-পুরনোদের একাত্মতা যেন মুহূর্তেই রূপ নিয়েছিল মিলনমেলায়। সে নয়নাভিরাম দৃশ্য সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার নয়।

সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিকতার পর শিক্ষার্থীরা সারা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়েন। মুহূর্তেই কনভোকেশন ক্যাপগুলো শূন্যে উড়ল। ক্লিক ক্লিক শব্দে আলোকিত হয়ে উঠল পুরো প্রাঙ্গণ। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীরাও যেন একই রঙের পাখি হয়ে ডানা মেলে আকাশে উড়তে চাইলেন। সেদিন সকাল থেকে কলাভবন ও অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারীদের মিলনমেলা বসে। সেখানে অনেক শিক্ষার্থী একসঙ্গে জড়ো হয়ে শিক্ষা জীবনের স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ছবি তুলেছেন। শুধু কলাভবনেই নয়, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় আড্ডায় মেতে উঠেছেন সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারীরা। স্মৃতিচারণ করেছেন পুরনো দিনগুলোর। আনন্দে একে অন্যকে জড়িয়ে ধরলেন। গাইলেন গলা ছেড়ে। স্নাতক শেষ করা রাশেদুল, নূরনবী, সাদিয়া ছবি তুলতে ব্যস্ত ছিলেন মল চত্বরে। সমাবর্তনের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তারা জানান, আজকের এ দিনটি জীবনের স্মরণীয় একটি দিন। প্রতিটি মুহূর্ত যেন একেক নতুন প্রেরণার জন্মদাতা।

এক নজরে : কালো গাউন আর মাথায় ক্যাপ পরে সমাবর্তনে যোগ দেয়া সব পিএইচডি, এমফিল ও স্নাতক ডিগ্রীধারীরা সকাল থেকেই অপেক্ষা করছিলেন। এই বুঝি এলো সে মাহেন্দ্রক্ষণ। এক সময় সব অপেক্ষার অবসান হয়। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ১৯২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ৪৮তম সমাবর্তন হয়েছিল ২০১৩ সালে। এবারের সমাবর্তনের মাধ্যমে মোট ৬ হাজার ১০৪ জনকে ডিগ্রী দেয়া হয়। ডিগ্রীপ্রাপ্তদের মধ্যে পিএইচডি ক্যাটাগরিতে পাবেন ৪২ জন, এমফিল ২০ জন, স্বর্ণপদক ২৯, এমডি, এমএস ৪৯ জন, অনার্স ৩১৬০ জন, মাস্টার্স ৫৬৫ জন, এমবিবিএস ১৬২৫ জন, বিডিএস ৩১৯ জন, নার্সিং ও ফিজিও থেরাপি ১৮৬ জন এবং হোমিওপ্যাথিক ও আয়ুবের্দিক ডিগ্রী পাবেন ১০৯ জন।

লক্ষণীয় বিষয় ছিল যে, বিগত বছরের মতো এ বছরও ডিগ্রীপ্রাপ্তদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যা বেশি ছিল। মোট ৬ হাজার ১০৪ জনের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৩৬৭ জন। যেখানে ছেলেদের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৭৩৭ জন। ৪৯তম সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য এবং রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এবারের সমাবর্তনের মূল আকর্ষণ ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অধ্যাপক ড. ফ্রান্সিস গ্যারিকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লজ ডিগ্রী দেয়া-নেয়া।

মুহাম্মদ ইব্রাহীম সুজন

প্রকাশিত : ১৮ জানুয়ারী ২০১৫

১৮/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: