কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

শীঘ্রই চালু হতে যাচ্ছে পাকশী নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল

প্রকাশিত : ১৮ জানুয়ারী ২০১৫

তৌহিদ আক্তার পান্না, ঈশ্বরদী ॥ দেশের সাদা কাগজ উৎপাদনকারী একমাত্র সরকারী প্রতিষ্ঠান পাকশী নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল শীঘ্রই চালু হতে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ওয়াদা হিসেবে এই মিলটি চালু করা হবে আরও বৃহৎ আকারে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে। মিল চালু হওয়ার সংবাদ পেয়ে মিল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যক্তি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। কর্তৃপক্ষ মিলটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করছেন।

জানা গেছে, দেশে সাদা কাগজের মোট চাহিদার প্রায় সব মেটানো হতো পাকশী নর্থ বেঙ্গল পেপার মিলের কাগজ দিয়ে। এলাকার বেকার জনশক্তির ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পেপার মিল তৈরির সিদ্ধান্ত হয়।

চিনি মিল থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ এবং সহজে পানি গ্রহণ ও নিষ্কাশন এবং নদী, রেল ও সড়ক পথে সহজে কাঁচামাল এবং উৎপাদিত পণ্য পরিবহনের সুবিধার কথা চিন্তা করে উত্তরবঙ্গের পাকশীতে সরকারী মালিকানায় গড়ে তোলা হয়েছিল নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল। এজন্য সাবেক ইস্ট পাকিস্তানী ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন ১৯৬৪ সালের এপ্রিল মাসে প্রকল্প পরিকল্পনা অনুমোদন করেন। এ সময় প্রথম প্রজেক্ট ইনচার্জ হিসাবে এম ওয়াজির ইমাম দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৬৫-৬৬ সালে ১শ’ ৩৩ দশমিক ৭১ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সরকার ও দাতাদের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ৩ মার্চ ১৯৬৭ সালে মিলের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৭০ সালের জুন মাসে।

দাতা দেশ জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স আর্থিক সহায়তা দেয়। মূলত দেশের বিভিন্ন চিনিকল থেকে প্রাপ্ত আখের ছোবড়া (ব্যাগাস)-এর ওপরে ভিত্তি করেই মিলটি স্থাপিত হয়। এ আখের ছোবড়া (ব্যাগাস) পাকশী নর্থ বেঙ্গল পেপার মিলের মূল কাঁচামাল। এছাড়া সিলেট পাল্প, বেদেশী পাল্প, পাটকাঠী, গমের নাড়া, কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহৃত হয়। চিনিকলগুলো চিনি উৎপাদনের জন্য আখ মাড়াইয়ের পর উদ্বৃত্ত আখের ছোবড়া (ব্যাগাস) সড়ক ও রেলপথে মিলে আনা হতো। নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল কাগজ সভ্যতার ইতিহাসে অত্যাধুনিক মিল হিসাবে পরিচিতি পেয়েছিল। এই মিলের কাগজ উৎপাদন প্রক্রিয়া উন্নত ব্যাগাস ডাইজেস্টার পাল্প মিলওয়াশিং, স্কিনিং, রিচিং, রিফাইনিং, ওয়েবারজেশন, ডায়িং, ক্যালেন্ডারিং, রিউইনজিং, ফিনিশিং।

দৈনিক ৬০ মেট্রিকটন (৬৫ জিএসএস) ভিত্তিতে বার্ষিক ১৫ হাজার মেট্রিকটন প্রডাক্ট মিক্সড ভিত্তিতে সাদা ছাপা বাদামি, মেনিফোল্ড, ব্লু ম্যাচ ইত্যাদি কাগজের উৎপাদন শুরু হয় ২৫ জুলাই ১৯৭০ সালে। ১৯৭০-৭১ সালে পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমে ২ হাজার ৬শ’ ৫৭ মেট্রিকটন কাগজ উৎপাদিত হয়। কিন্তু মার্চ ১৯৭১ থেকে জুন ১৯৭৩ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ এবং তৎপরবর্তী মেরামতের জন্য মিলটি বন্ধ থাকে। এরপর ১৯৭৫ সালের মার্চ মাস থেকে ১৩১ জন কর্মকর্তা এবং ১১৩৮ শ্রমিক-কর্মচারী নিয়ে নর্থবেঙ্গল পেপার মিল বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে। উৎপাদনের প্রথম মৌসুমে ১৯৭৫-৭৬ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়। ওই বছর লোকসান হয় ৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

মিলের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়ার পর থেকে মিলটি চালু থাকার ২৭ বছর ধরে মিল কর্তৃপক্ষ ও সিবিএ নেতাদের নানা প্রকার দুর্নীতির কারণে লোকসান অব্যাহত থাকে। ২৭ বছরে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩শ’ কোটি টাকা। অবশেষে বিপুল অঙ্কের লোকসানের বোঝা নিয়ে গত ৩০ নবেম্বর ২০০২ সালে মিলটি বন্ধ হয়ে যায়।

প্রকাশিত : ১৮ জানুয়ারী ২০১৫

১৮/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: