রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ভরা মৌসুমেও বরিশালের শুঁটকি পল্লীতে হতাশা

প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারী ২০১৫

স্বাদু পানির দেশী প্রজাতের মৎস্য অঞ্চল হিসেবে পরিচিত ও বিলাঞ্চলখ্যাত বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় ভরা মৌসুমেও শুঁটকি পল্লীর জেলেদের মুখে হাঁসি নেই। ভরা মৌসুম সত্ত্বেও মাছের আকালের কারণে হতাশায় ভুগছেন এলাকার শুঁটকি পল্লীর সঙ্গে জীবিকা নির্বাহ করা শতাধিক মৎস্যজীবী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। মাছ সঙ্কট ও অর্থাভাবে মাছ ক্রয় করতে না পারায় তারা ক্রমেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। ফলে পুরো শুঁটকি পল্লীতেই এখন দেখা দিয়েছে বিষাদের ছায়া।

সরেজমিনে আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজাপুর গ্রামের শুঁটকি ব্যবসায়ী অবনী রায় জানান, উপজেলার শতাধিক পরিবার শুঁটকির ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন। বিশেষ করে একপাশে নদী অববাহিকা এলাকা অন্যপাশে কোটালীপাড়ার বিলাঞ্চল এলাকার মধ্যবর্তী আগৈলঝাড়ার পয়সারহাট, ত্রিমুখী, রাজাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন পূর্বে গড়ে উঠেছে শুঁটকি পল্লী। ওই অঞ্চলের সুস্বাদু মিঠা পানির নানা প্রজাতের শুঁটকি মাছ দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা হয়। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট অঞ্চল ও ভারতের আগরতলা পর্যন্ত এখানকার শুঁটকি মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে আগের তুলনায় সরপুঁটি, পাবদাসহ দেশী অনেক প্রজাতের মাছের চরম আকাল চলছে। শুঁটকি পল্লীর সঙ্গে জড়িত পরিবারগুলোর সদস্যরা মাছ ক্রয় করে আঁশ ছাড়িয়ে রোদে শুকিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুদ করে রাখেন। দেশী-বিদেশী পাইকাররা এখানে এসে মাছ ক্রয় করে। আবার মোকামে গিয়েও মাছ বিক্রি করা হয়। তবে অধিকাংশ ব্যবসায়ী মহাজনী দাদন ও স্থানীয় বিভিন্ন মাধ্যমে ঋণগ্রস্ত মাছের ব্যবসা করলেও মৌসুমের শেষ পর্যায়ে গিয়ে দাদন ও ঋণের টাকা পরিশোধ করে তাদের হাতে আর তেমন কোন সম্বল থাকে না। মৌসুম শেষে তাদের জীবনে নেমে আসে চরম হতাশা।

সূত্রমতে, প্রায় একযুগ পূর্বে ভৌগোলিক পরিবেশের কারণে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠে পয়সারহাট, রাজাপুর, ত্রিমূখী শুঁটকি পল্লী। ওই পল্লীতে দেশী প্রজাতের বিভিন্ন প্রকার মাছের মধ্যে পুঁটি, শৌল, টেংরা, খলশা, পাবদা, কৈ, শিং, মাগুর, মেনি, ফলি, বজুরী, বাইন মাছ উল্লেখযোগ্য। এ পল্লীর মাছগুলো প্রাকৃতিক নিয়মে রোদে শুকিয়ে বিক্রির জন্য রাখা হয়।

-খোকন আহম্মেদ হীরা

বরিশাল থেকে

প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারী ২০১৫

১৭/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: