আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সোনালী রোদে জমে উঠেছে সোনারচরের শুঁটকিপল্লী

প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারী ২০১৫
  • শংকর লাল দাশ গলাচিপা থেকে

শীতের মিঠেকড়া সোনালী রোদে জমে উঠেছে সোনারচরের শুঁটকি পল্লী। দিগন্ত বিস্তৃত সাগরের নীল জলরাশি। তার মাঝে সবুজের অরণ্য। এর পাশ ঘেঁষে গড়ে ওঠা পল্লী এখন হাজারো মানুষের কলরবে মুখর। নানা শ্রেণী বয়সের মানুষের কর্ম ব্যস্ততায় উধাও প্রকৃতির নির্জনতা। গভীর সাগর থেকে প্রতিদিন আসছে নানা প্রজাতির শত শত মণ মাছ। হচ্ছে বাছাই। হচ্ছে শুঁটকি। যাচ্ছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মোকামে। এ যেন রূপালী ঝলকের অন্য রকমের মেলা। যা দেখে পর্যটকরাও মুগ্ধ।

দ্বীপ সোনারচরের শুঁটকি পল্লীর বয়স ৪০ ছাড়িয়ে গেছে। ভোলা থেকে আসা জেলেরা এক সময়ে শুরু করেছিলেন। অস্থায়ী ডেরা বেঁধে হাতেগোনা কিছু সংখ্যক জেলে শীতের রোদে মাছ শুকানোর প্রক্রিয়া শুরু করেন। সময় পাল্টেছে। কিন্তু পাল্টায়নি শুঁটকির মৌসুম ও প্রক্রিয়া। তবে বেড়েছে এর ব্যাপ্তি। এখন শুঁটকি মৌসুম ঘিরে ২৫-৩০ হাজার জেলে ব্যবসায়ী কর্মীর সমাগম ঘটে। অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে শুঁটকির মৌসুম। যা চলবে এপ্রিল-মে মাস পর্যন্ত। এ মুহূর্তে শুঁটকির ভরা মৌসুম চলছে।

সোনারচরের অবস্থান পটুয়াখালী জেলার সর্বশেষ দক্ষিণ প্রান্তে। সাগর ফুঁড়ে জেগে ওঠা দ্বীপটি প্রকৃতির এক অপূর্ব দর্শনীয় স্থান। বনবিভাগের শ্রমে গড়ে উঠেছে বিশাল অরণ্য। যা এখন সংরক্ষিত বনাঞ্চল। দ্বীপটিকে পর্যটন কেন্দ্রে রূপ দিতে চলছে নানা আয়োজন।

পটুয়াখালীর গলাচিপা থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরত্বের এ দ্বীপে পৌঁছাতে সময় লাগে ঘণ্টাচারেক। সেখানে পৌঁছে দেখা গেল হাজারও মানুষের কলরবে মুখর হয়ে উঠেছে দ্বীপটি। দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে ছনের ছাউনি দেয়া অস্থায়ী স্থাপনাগুলোর আশপাশের খোলা মাঠে বসেছে শুঁটকির মেলা। সাগর থেকে নৌকা ভর্তি হয়ে আসছে হরিণা, চাকাচালি, টাইগার, লইট্যা, ছুরি, পোয়া, মাইট্যা, কামিলা, ফাইস্যা, রূপচাঁদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির শত শত মণ মাছ। শুঁটকি ব্যবসায়ী ও কর্মীরা জানান, বড় মাছ বরফের প্যাকেট হয়ে চলে যায় দেশ-বিদেশের মোকামে। ক্ষুদ্র সাইজের মাছ হচ্ছে শুঁটকি। যার অধিকাংশ হাঁস-মুরগির খাবার হিসেবে বিক্রি হয়। মাঝখানে মাছ বাছাইয়ের কাজ করা হয়। এ কাজ প্রধানত শিশুরাই করছে। শিশু শ্রমিক তোফাজ্জেল জানায়, সাগর থেকে প্রতিদিন জেলেরা অন্যান্য মাছের সঙ্গে নানা প্রজাতির প্রচুর চিংড়ি মাছ তুলে আনে। সে সব চিংড়ির প্রথমে মাথা ছিঁড়তে হয়। পরে সাইজভেদে বরফের প্যাকেট কিংবা রোদে শুকিয়ে শুঁটকি করতে হয়।

শুধু তোফাজ্জেল একা নয়। তার মতো কয়েক শ’ শিশু শ্রমিক কাজ করছে এ পল্লীতে। বাছাই ছাড়াও চিংড়ির শরীর থেকে মাথা ছেঁড়ার কাজটিও করে তোফাজ্জেলের মতো শিশুরা। মজুরি প্রতি কেজিতে পাঁচ টাকা। মজুরি বৈষম্য নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও শিশুরা তা মেনে নিয়েছে।

প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারী ২০১৫

১৭/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: