কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

শুঁটকি উৎপাদনের ধুম ॥ দম ফেলার সময় নেই

প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারী ২০১৫
  • এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার থেকে

কক্সবাজারে প্রতিদিন শুঁটকির জন্য খালাস হয় ১২ হাজার টন মাছ

দেশের বৃহত্তম শুঁটকি উৎপাদন জোন হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারে বিভিন স্থানে এখন শুঁটকি শুকানোর ধুম পড়েছে। শুঁটকি চরের শ্রমজীবী মানুষরা বর্তমানে প্রচ- ব্যস্ত সময় পার করছে। শুঁটকি চরে বিভিন্ন মাচাংয়ে যেন দম ফেলার ফুরসত নেই কারও। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রাত দিন সমান তালে চালিয়ে যাচ্ছে শুঁটকির সঙ্গে জড়িত নানা জাতের মাছের শুঁটকি উৎপাদন প্রক্রিয়া। জেলে পল্লীতে শুঁটকি উৎপাদনের মৌ মৌ গন্ধে পুরো এলাকা আনন্দে মাতোয়ারা। কক্সবাজারের জেলে ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাঁশের কেল্লা তৈরি করে সাগর থেকে আহরিত নানা প্রজাতির মাছ সনাতনি পদ্ধতিতে রোদে শুকিয়ে প্রতিদিন দেশ ও দেশের বাইরে রফতানি করে থাকে। এতে অর্থনৈতিকভাবে যোগান দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা। টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, শহরের কুতুবদিয়াপাড়া, সমতিপাড়া, বিশেষ করে নাজিরের টেক এলাকায় শ’ শ’ মাচাং তৈরি করে শুঁটকি করার দৃশ্য দেখলে অনায়াসে যে কোন রুচিশীল মানুষের মন ভরে যায়। ওখানে হাজারো শ্রমিক শুঁটকি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যার যে কাজের দায়িত্ব পড়েছে তা করে চলছে নিরলসভাবে। কেউ বিভিন্ন প্রকারের মাছ নড়াচড়া করে একত্রিত করছে। আবার কেউ মাছে যাতে মাছি ও পোকামাকড় না বসে সে ব্যবস্থা নিচ্ছে। অনেকে আবার নানা ধরনের কীটনাশক ও লবণ ব্যবহার করছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, শুঁটকি উৎপাদনের এখন ভরা মৌসুম। এ সময়ে বিএনপি-জামায়াতের অবরোধ-হরতাল মোটেও মেনে নিতে পারছি না। অহেতুক ওই হরতাল অবরোধে আমরা যারা শুঁটকি ব্যবসায় জড়িত, আমাদের প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার ব্যবসা বলতে গেলে মাঠেমরা হয়ে পড়ছে। মৌসুমে প্রতিদিন শুঁটকিভর্তি ১০-১৫টি গাড়ি ঢাকায় পৌঁছে। আরও কমপক্ষে ৫টি গাড়ি দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান করা হয়ে থাকে। তবে হরতাল-অবরোধের কারণে আমরা উৎপাদিত শুঁটকি গন্তব্যস্থলে পাঠাতে পারছি না। এ কারণে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রে পড়ে রয়েছে শ’ শ’ মেট্রিক টন শুঁটকি মাছ। হরতাল ও পথে পথে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী পিকেটারদের ভয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করা যাচ্ছে না শুঁটকি। শুঁটকি উৎপাদনকারী ৬নং ঘাটের নুরুল আলম জনকণ্ঠকে জানান, প্রতিদিন প্রায় ১শ’ মাছের ট্রলার সাগর থেকে মাছ শিকার করে সরাসরি নাজিরার টেক শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রে এসে খালাস করে থাকে। পরে সেখান থেকে শুকিয়ে গাড়িযোগে দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাওয়া হয়। নাজিরার টেক শুঁটকি পল্লীতে যেসব শুঁটকি পাওয়া যায়, সেগুলো হচ্ছেÑ লইট্যা, ছুরি, পাছকাড়া, চিংড়ি, ফাসিয়া, রূপচাঁদা, কামিলা, লাউক্ষ্যা, করতি, রূপসা, সুরমা, তাইল্যা, হাইরচাঁদা, মাইট্যা, কাচকি ও পোঁপাসহ আরও বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।

প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারী ২০১৫

১৭/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: