কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

উপগ্রহ উৎক্ষেপণের পথে বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারী ২০১৫
  • মোহাম্মদ মনকিউল হাসানাত

২০০৯-১৪, মাত্র ছয় বছরে রূপকল্প-২০২১ তথা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’র অগ্রযাত্রায় আমাদের অর্জন উল্লেখযোগ্য। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ ও ব্যবহার দেশের প্রতিটি মানুষকে করেছে আলোড়িত ও উদ্দীপ্ত। সেই উদ্দীপনার চূড়ান্ত বাস্তবায়ন হতে চলেছে ২০১৫ সালে মহাকাশে উৎক্ষেপিত প্রথম বাংলাদেশী স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১-এর মাধ্যমে। নিজস্ব এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়েই শুরু হবে বাংলাদেশের আরেক নতুন জয়গাঁথা, নতুন বিশ্বজয়ের ইতিহাস

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্রম-অগ্রগতি গোটা বিশ্বকে করেছে যেমন গতিশীল তেমনই প্রতিযোগিতা পূর্ণ। আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্ব তাই আজ সাইবার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে চাই সমসাময়িক প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও আধুনিক উদ্ভাবনী চেতনা। এই উদ্ভাবনী চেতনার ফসল ‘রূপকল্প-২০২১’ তথা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ নামক এক নতুন স্বপ্ন।

ডিজিটাল বাংলাদেশ হলো সেই বাংলাদেশ, যেখানে রয়েছে শিক্ষার্থীর মানসম্পন্ন উন্নত শিক্ষা পাবার নিশ্চয়তা, মানুষের সুচিকিৎসা পাবার নিশ্চয়তা, কৃষকের নিকট ফসলের বাজার পাবার নিশ্চয়তা, দিনের পর দিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে সেবা পেতে ব্যর্থ হবার বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি, একজন সরকারি কর্মচারীর কাজের মূল্যায়ন এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠতর হওয়া। এ লক্ষ্যে সারা দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ৫২৭৫টি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার। যেখানে কর্মরত আছে প্রায় ২০,০০০ কর্মী উদ্যোক্তা। যারা প্রতিমাসে আয় করছে ১০ হাজার টাকা হতে ১ লাখ টাকা। ২৫,০০০ ওয়েব সাইটের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ওয়েব পোর্টাল। দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি। ইন্টারনেট ব্যবহার করছে ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ। ইতোমধ্যে সারা দেশে ৩০০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব এবং প্রায় ২০ হাজার মাল্টিমিডিয়া শ্রেণীকক্ষ চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল কন্টেন্ট ভিত্তিক মাল্টিমিডিয়া শ্রেণী পাঠদানের আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান আছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকস্তরের জন্য মোট ১০৬টি পাঠ্যপুস্তক ইতোমধ্যে ই-বুকে রূপান্তরিত করা হয়েছে। যা ই-বুক রিডার, মোবাইল, আইপ্যাড, ল্যাপটপ কিংবা ডেস্কটপ কম্পিউটারে পাঠযোগ্য।

ই-গবর্নেন্স বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয়াধীন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের ডিজিটাল সিগনেচার সার্টিফিকেট প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আন্ত:মন্ত্রণালয় কর্মকর্তাদের ডেটাবেজ (চগওঝ) প্রস্তুত করা হয়েছে। উন্নত বিশ্বের আদলে সব সরকারী আদেশ, পরিপত্র, টেন্ডার, বিজ্ঞপ্তিসমূহ অনলাইনে প্রকাশিত হচ্ছে। সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি পদায়নসহ বিভিন্ন আবেদন অনলাইনে ই-মেইলের মাধ্যমে সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটসমূহে নতুন লিংক সংযোজিত হয়েছে। এছাড়া জাতীয় ওয়েব পোর্টাল হতে প্রয়োজনীয় যে কোন ধরনের ফর্ম ও আবেদনপত্রসহ অনলাইনে রেকর্ডরুম হতে নকলের আবেদন, ই-টিন (ঊ-ঞওঘ) নিবন্ধন, জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা ঘরে বসেই পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। বিশ্ব প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ই-কমার্স, অনলাইন ব্যাংকিং, ডিজিটাল সিকিউরিটি সিস্টেমের ব্যবহার শুরু হয়েছে। ইউরোপ আমেরিকাসহ উন্নত দেশসমূহের অনুকরণে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় স্পর্শকাতর স্থানগুলোয় সিসিটিভি, আইপি ক্যামেরাসহ এন্টি-থেপ্ট এলার্ম স্থাপন করা হয়েছে। যানবাহনসমূহে জিপিএস বা গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম সংযোজনের মাধ্যমে যানবাহনের নিরাপত্তাসহ তার অবস্থান শনাক্ত করণে কার্যকর ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। ৩য় প্রজম্মের নেটওয়ার্ক (৩এ) সেবা চালু হয়েছে। ফলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে গতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অতি সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে কিংবা জরুরী অবস্থায় সুদূরে অবস্থানরত প্রিয়জন কিংবা পরিবারের আপনজনকে খবর পৌঁছাতে টেলিগ্রাফ অফিসে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় বসে টরে-টক্কা আওয়াজে নির্ধারিত বাক্যের গুটিকতক শব্দে লিখতে হয় না ‘গড়ঃযবৎ ঝবৎরড়ঁং ঈড়সব ঝঁৎব’ কিংবা এনালগ ফোনের জটিলতায় করতে হয় না অনিশ্চিত অপেক্ষা। আজ একটি মাত্র ঝগঝ কিংবা মোবাইল ফোনের একটি ডায়ালেই কয়েক সেকেন্ডে খবর পৌঁছে যায় প্রত্যন্ত গ্রামের দুর্গম এলাকা থেকে বিশ্বের যে কোন প্রান্তে। ঋধপবনড়ড়শ, ঊ-সধরষ, ঝশুঢ়ব, খরহশবফ রহ, ইঁফফু ঞৎধপশবৎ কিংবা ঠবফরড় পধষষ প্রতি মুহূর্তেই প্রিয়জনকে রাখছে নিবিড় যোগাযোগের বন্ধনে আবদ্ধ।

শিক্ষা ক্ষেত্রেও তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতি লক্ষণীয়। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন ফরম পূরণসহ ভর্তি প্রক্রিয়া, পরীক্ষার ফি প্রদানসহ আসন বিন্যাস, পরীক্ষার সময়সূচী, প্রবেশপত্র সংগ্রহসহ ফলপ্রাপ্তি সব কিছুই সম্পন্ন হচ্ছে অনলাইনের মাধ্যমে। ফলে প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থী উভয়েরই সময় ও অর্থ দুইই সাশ্রয় হচ্ছে।

তথ্য ও যোগাযোগের প্রযুক্তির প্রসার দেশের তরুণ প্রজন্মকে করেছে এক নতুন চেতনায় উদ্দীপ্ত। তাদের মেধা, দক্ষতা আর সৃজনশীলতায় উন্মোচিত হয়েছে এক নব দিগন্ত। যার নাম ফ্রিল্যান্সিং। এ খাত হতে বর্তমান বার্ষিক আয় ১০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বিশ্বে বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের তৃতীয় বৃহত্তম উপার্জনের অধিকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। শুধু তা-ই নয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রসারে সারা বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন, গতিশীলতা এবং জনকল্যাণে তথ্যপ্রযুক্তির অবদানের জন্য বাংলাদেশ অর্জন করেছে ডড়ৎষফ ঈড়হমৎবংং ঙহ ওহভড়ৎসধঃরড়হ ঞবপযহড়ষড়মু অধিৎফ (ডঈওঞ) -২০১৪।

প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারী ২০১৫

১৭/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: