আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

পর্ষদ ছাড়াই ১৮ দিন ধরে চলছে বিমান

প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারী ২০১৫

আজাদ সুলায়মান ॥ একদিন দু’দিন নয়, টানা ১৮ দিন ধরে বিমান চলছে পর্ষদ ছাড়া। অথচ কোম্পানি আইনে-কোন প্রতিষ্ঠান ও পর্ষদ ছাড়া এক ঘণ্টা চলাও আইনসম্মত নয়। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে বিমানে এতদিন ধরে পর্ষদ না থাকায়, প্রশাসনিক কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। গুরুত্বপূর্ণ কোন সিদ্ধান্তই নিতে পারছে না বিমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। পর্ষদের ফাইল বিমানে ফেরত আসতে এত বিলম্ব হওয়াটা রহস্যজনক বলে মনে করছেন বিমানের একাধিক পরিচালক।

জানতে চাইলে বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, আমি কি করব? আমি তো ফাইল কবেই সই করে পাঠিয়েছি প্রধানমন্ত্রীর অফিসে। এখন সেখানে কেন আটকে আছে, আমি সেটা বলতে পারব না। বিমানের জনসংযোগ মহাব্যবস্থাপক খান মোশাররফ হোসেন জনকনণ্ঠকে বলেন, ‘এমডি নতুন। পর্ষদ নেই। ফলে গুরুত্বপূর্ণ কোন সিদ্ধান্তই নিতে পারছে না বিমান। এমনকি সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন মোসাদ্দিক আহমেদও কোথাও কোন দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারছেন না। তাকে কোথায় বসানো হবে সে সিদ্ধান্ত দেয়ার বৈধ এখতিয়ার একমাত্র পরিচালনা পর্ষদের। কিন্তু গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে বিমানে কোন পর্ষদ নেই।

সূত্রমতে, পাবলিক লিমিটেডের নিয়ম অনুযায়ী- গত ৩০ ডিসেম্বর বিমান পরিচালনা পর্ষদের বার্ষিক সাধারণ সভায় সব সদস্য পদত্যাগ করেন। সভা শেষে ওই দিনই পর্ষদ পুনর্গঠন করতে হয়। বিমানের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল জামাল উদ্দিনসহ সব সদস্য ওই দিনই পদত্যাগ করেন। তারপর সেটা পুনর্গঠনের অনুমোদনের জন্য একটি সারসংক্ষেপ বিমান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তারপর থেকে সে ফাইল আজ পর্যন্ত বিমানে ফেরত আসেনি। ও দিন থেকেই বিমান চলছে পর্ষদ ছাড়াই।

এদিকে বিমানের একাধিক পরিচালক শুক্রবার জনকণ্ঠকে জানান, পর্ষদ ছাড়া বিমান বর্তমানে চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। গুরুত্বপূর্ণ কোন সিদ্ধান্তই কারোর পক্ষে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় গত ৫ জানুয়ারি বিমানে যোগদান করেন ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত আফ্রিকান এমডি কাইল হেয়্যুড। তিনি এমন এক সময়ে বিমানে যোগ দেন, যখন বিমানে ছিল না কোন পর্ষদ। ফলে তিনিও বিপাকে পড়েন। তিনি তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত এমডি ক্যাপ্টেন মোসাদ্দিক আহমেদের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন। কিন্তু মোসাদ্দিককে কোথায় কোন দায়িত্বে ফেরত পাঠানো হবে সে সিদ্ধান্ত দিতে পারেননি। ৫ জানুয়ারি থেকে মোসাদ্দিক আহমেদ ‘ডিরেক্টর ফর নাথিং’।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্যাপ্টেন মোসাদ্দিক আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, আমার কোন দায় দায়িত্ব নেই। চেয়ার টেবিল নিয়ে বেকার বসে সময় কাটাচ্ছি। কোন ফাইলও নেই। কাজও নেই। সারাদিন বসে চা খাই। আর কি করা? পর্ষদ না হওয়া পর্যন্ত আমার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্তও কেউ দিতে পারছে না।

বিমান সূত্র জানায়, পর্ষদ না থাকায় চলতি মাসে বিমানের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই বিমানের একটি টিম মিসর টার্বো প্রপ উড়োজাহাজ পরিদর্শনে যাবার সিডিউল ছিল। ওই টিম মিসরে যেতে না পারায় উড়োজাহাজ আসছে না পূর্ব নির্ধারিত সময়ে। ফলে চলতি মাসে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু সম্ভব হচ্ছে না। একইভাবে বড় বড় দরপত্র, আর্থিক সংক্রান্ত অনুমতি, মার্কেটিং শাখার অগ্রগতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকছে। এ জাতীয় সিদ্ধান্তের এখতিয়ার একমাত্র বিমান পর্ষদের।

এদিকে কেন পর্ষদের ফাইল এত দিনেও বিমানে আসছে না এ নিয়েও চলছে নানা গুঞ্জন।

এ বিষয়ে বিমান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ৩০ ডিসেম্বর পর্ষদ পদত্যাগ করার পরদিনই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগের পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সব সদস্যকে বহাল তবিয়তে রেখেই পর্ষদ পুনর্গঠনের সবুজ সঙ্কেত দেন।

তারপর সে ফাইলে অনুমোদন দেন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেন, গত সপ্তাহেই আমি ফাইল অনুমোদন দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে ফেরত পাঠিয়েছি। তারপর সেটা কেন আসছে না আমি তা বলতে পারব না।

পর্ষদ ছাড়া বিমানের মতো প্রতিষ্ঠান তো এক ঘণ্টা চলাও আইনসম্মত নয়। এ বিষয়টি কিভাবে দেখছেন জানতে চাইলে রাশেদ খান মেনন বলেন, এটা ঠিক নয়, কিন্তু আমার করার কি আছে। হয়তো ফাইল দু’এক দিনে এসে যাবে।

এদিকে বিমানের অবসরপ্রাপ্ত চার পাইলট পর্ষদে অন্তর্ভুক্তি হবার জন্য দৌড়ঝাঁপ অব্যাহত রেখেছেন। পর্ষদ গঠনে বিলম্ব হওয়ার সুযোগ তারা কাজে লাগানোর জন্য নানা মহলে ধর্ণা দিচ্ছেন।

প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারী ২০১৫

১৭/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: