মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

রোগী ও ডাক্তার সুরক্ষার প্রস্তাবিত দুটি আইনই চিকিৎসকদের পক্ষে যাচ্ছে

প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারী ২০১৫
  • অভিমত বিশেষজ্ঞদের

নিখিল মানখিন ॥ খসড়া ‘রোগী সুরক্ষা আইন, ২০১৪’ ও ‘স্বাস্থ্য সেবা দানকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা আইন, ২০১৪’ চিকিৎসকদের পক্ষেই যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খসড়া আইন অনুযায়ী, অবহেলায় রোগী মরলেও চিকিৎসকদের সামান্যই শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। অপরদিকে ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালের ক্ষতি করলে বড় শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে রোগীর স্বজনদের। অবহেলার অভিযোগ ওঠা চিকিৎসককে বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে নিশ্চিত না হয়ে গ্রেফতার করা যাবে না। চিকিৎসক কিংবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সরকারী দাবি আদায় আইনের মাধ্যমে সহিংস কাজের ক্ষতিপূরণ আদায়েরও বিধান রাখা হয়েছে আইনে। রোগী সুরক্ষা খসড়া আইনে চিকিৎসকের অপরাধ আমল অযোগ্য ও জামিনযোগ্য করা হলেও চিকিৎসক সুরক্ষা আইনে স্বজনদের ক্ষতিসাধনের অপরাধ আমলযোগ্য ও জামিন অযোগ্য করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রোগী ও ডাক্তারদের সুরক্ষায় দুটি আইনের খসড়া প্রণয়ন করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। রোগীর সুরক্ষা আইনের খসড়া তৈরি করে মতামতের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠানো হয়েছে। ওয়েবসাইটেও মতামতের জন্য আপলোড করা হবে। খসড়া আইন দুটির কোন কিছুই চূড়ান্ত নয়। এ বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের মতামত নেয়া হচ্ছে। মতামত পাওয়ার পর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করে খসড়া দুটি চলতি বছরের মধ্যেই চূড়ান্ত করার চেষ্টা করা হবে।

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, চিকিৎসা অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের অপরাধ আমল অযোগ্য ও জামিনযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। অভিযুক্ত চিকিৎসককে ২ বছরের কারাদ- অথবা ২ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দ-ে দ-িত করা হবে। অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দ-বিধির ৩০৪ ধারায় মামলা করা হবে। পক্ষান্তরে স্বাস্থ্যসেবাদানকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি সহিংস কাজ করলে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। সে ক্ষেত্রে সেবাদানকারী ও প্রতিষ্ঠানের কোন সম্পত্তির ক্ষতিসাধন, বিনষ্ট করা, ধ্বংসের মতো অপরাধের শাস্তি ৩ বছরের সশ্রম কারাদ- এবং সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দ-ে দ-িত করা হবে। এ সংক্রান্ত অপরাধ আমলযোগ্য এবং জামিন অযোগ্য হবে। নতুন করে প্রণীতব্য আইনটিতে রোগীর চেয়ে চিকিৎসক ও চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানকে বেশি সুরক্ষার বিধান সংযোজন করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

আইন দু’টি প্রণয়নের প্রেক্ষাপট ॥ দেশের সরকারী-বেসরকারী, স্বায়ত্তশাসিত-আধাস্বায়ত্তশাসিত হাসপাতাল, ক্লিনিক, চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বার এবং রোগ নির্ণয় কেন্দ্র, চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী চিকিৎসক ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অবহেলার অভিযোগ উঠছে। একইসঙ্গে ভঙ্গ করা হচ্ছে চিকিৎসাসেবা, পেশার অঙ্গীকার ও আচরণবিধিও। রোগীকে করা হচ্ছে হয়রানি। আর্থিকভাবেও তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। রোগীদের হয়রানি, মানসিক ও আর্থিক ক্ষতিসাধনসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এক ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এতে দেশের চিকিৎসাসেবা প্রতিনিয়ত প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গোটা চিকিৎসা ব্যবস্থায় অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সে ক্ষেত্রে অবহেলার শিকার রোগীর সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঢাকা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রামসহ সারা দেশে সাংবাদিকদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে বেসরকারী টেলিভিশনের ক্যামেরা। এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার রোগী সুরক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি গ্রহণ করা হয় স্বাস্থ্য সেবা দানকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা আইন প্রণয়নের।

খসড়া আইন অনুযায়ী, যে ডাক্তার যে রোগের চিকিৎসার জন্য নিবন্ধিত নন, তিনি সে বিষয়ে ব্যবস্থাপত্র দিতে পারবেন না। অর্থাৎ হার্ট স্পেশালিস্ট শিশুরোগের ব্যবস্থাপত্র লিখতে পারবেন না। চাইলেই কোন ডাক্তার যে কোন ডিগ্রী ব্যবহার করে পদবী সংবলিত ভিজিটিং কার্ড ও প্যাড এবং সাইনবোর্ড ঝোলাতে পারবেন না। আইনটি কার্যকর হলে বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল স্বীকৃত নয় এমন কোন ডিগ্রীও ব্যবহার করা যাবে না। নিবন্ধিত না হয়ে কেউ চিকিৎসা দিতে পারবেন না, যা এখন অহরহ দেয়া হচ্ছে। হাসপাতাল, ক্লিনিক, নার্সিংহোম ও রোগ নির্ণয় কেন্দ্রের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

সেবাদানকারীকে দোষী ॥ স্বাস্থ্যসেবাদানকারীদের অবহেলার অভিযোগ উঠলে আদালত অভিযোগ গঠনের আগে তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে অবহেলা হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে মতামত নেবেন। যাদের পদবি সহযোগী অধ্যাপক ও সিনিয়র কনসালটেন্টের নিচে নয়। স্বাস্থ্যসেবাদানকারীর বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ উঠলেও তা নিশ্চিত না হয়ে তাকে গ্রেফতার করা যাবে না। নিশ্চিত অবহেলা হয়েছে- এমন প্রমাণ ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবে। খসড়া আইনে আরও বলা হয়েছে, রোগীর প্রতি কোন ধরনের অবহেলা প্রমাণিত হলে বা রোগীর ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের নিবন্ধন বাতিল করার (স্থায়ী বা সাময়িক) কথা বলা হয়েছে খসড়া আইনে। কোন রোগীকেই রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, জাতীয়তা বা লিঙ্গভেদে সেবা দেয়া থেকে চিকিৎসক বিরত থাকতে পারবেন না।

প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারী ২০১৫

১৭/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: