আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

অস্ত্র উদ্ধার সত্ত্বেও বাবুর রিমান্ড আবেদন খারিজ, সড়ক অবরোধ আজ

প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারী ২০১৫
  • লৌহজংয়ে চাঞ্চল্যকর মোবারক ও রফিক হত্যা মামলা

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার চাঞ্চল্যকর আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক ও যুবলীগ নেতা রফিক হত্যা মামলার প্রধান আসামি শাহাবুদ্দিন খান বাবুর রিমান্ড আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। এ নিয়ে বাদীপক্ষসহ এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। আইন বিভাগের উচ্চ পদে আসীন একজন কর্মকর্তার নাতি এই খুনী চক্রের সঙ্গে থাকায় আসামি বাবুকে রিমান্ডে দেয়া হচ্ছে না বলে এলাকায় অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে ওই কর্মকর্তার আশীর্বাদে তাঁর নাতি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও খুব সহজেই জামিনে বের হয়ে এসেছে। রিমান্ডে না দেয়ার প্রতিবাদে এলাকাবাসী আজ শনিবার সকাল ১০টায় মাওয়ায় অনির্দিষ্টকালের মানববন্ধনসহ ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচীর ঘোষণা দিয়েছে।

লৌহজংয়ের কাজির পাগলা গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হোসেন খান ও যুবলীগ নেতা একই গ্রামের রফিকুল ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামি শাহাবুদ্দিন খান বাবু দীর্ঘদিন পালিয়ে থেকে গত ১ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করে। গত ৬ জানুয়ারি পুলিশ আদালতের কাছে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। রিমান্ডে থাকা অবস্থায় গত শনিবার রাতে বাবুর স্বীকারোক্তি মতে ডিবি পুলিশ লৌহজং থানা পুলিশের সহযোগিতায় বাবুর বাড়ি হতে একটি দেশীয় তৈরি রিভালবার উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে ডিবির এসআই মোঃ মাসুম খান বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে বাবুর বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা রুজু করেছে।

তিন দিনের রিমান্ড শেষে বাবুকে গত রবিবার মুন্সীগঞ্জ আদালতে হাজির করা হয়। আদালতটির বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নার্গিস ইসলাম পরের দিন সোমবার রিমান্ড আবেদনের শুনানির দিনধার্য রেখে বাবুকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু জর্জ কোর্ট হতে নথি না আসায় ঝুলে যায় রিমান্ড শুনানি। অবশেষে বৃহস্পতিবার পুলিশ ওই দুটি হত্যা মামলায় বাবুকে আরও ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। পুলিশের বিশ্বাস বাবুর কাছে আরও অস্ত্র আছে। এসব অস্ত্র উদ্ধারসহ ওই হত্যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে পুলিশ বাবুকে আরও ১০ দিনে রিমান্ড আবেদন করে। কিন্তু আদালতটির বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নার্গিস ইসলাম বাবুকে পুলিশি রিমান্ডে না দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এতে এলাকাবাসী এ দুটি হত্যা মামলা নিয়ে বার বার নানারকম আইনী মারপ্যাঁচ দিয়ে আসামিদের বাঁচাতে নানারকম অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দুর্ধর্ষ এই বাবুকে রিমান্ড না দেয়ায় এলাকবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবসী বলছে, বাবু মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েই মাঠে নেমেছে। নয়তো তার মতো দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীর আদালতে আত্মসমর্পণ করার কথা নয়। তাঁদের ধারণা লৌহজংয়ের ওই এলাকার সন্তান আইন বিভাগের একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা বাবুর পেছনে কাজ করছেন। শুধু তাই নয়, ওই কর্মকর্তার এক নাতি যুবলীগ নেতা রফিক হত্যা মামলার একজন আসামি। ইতোমধ্যে নানার জোরে ওই আসামি আদালত হতে জামিন পেয়েছে। তাঁর আশির্বাদে বাবুও উচ্চ আদালত হতে মোবারক হত্যা মামলায় জামিনে রয়েছে।

২টি হত্যা মামলার এ দুর্ধর্ষ আসামিকে আদালত পুলিশি রিমান্ডে না দেয়ায় বাদী পক্ষ আবারও তাঁদের জীবনের নিরাপত্তার অভাব অনুভব করছেন। তাঁরা দাবি করছে খুব শীঘ্রই বাবু জামিনে বেরিয়ে এসে তাঁদের জীবন বিপন্ন করবে। এ রকম দুই দুটি হত্যা মামলার আসামিকে রিমান্ডে না দেয়ায় এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাছাড়া তাঁকে এক দফা রিমান্ড দেয়ার পর পুলিশ যখন আসামি নিকট থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধার করেছে, তখন দ্বিতীয় দফায় জজ কোর্টের ফাইলের অজুহাতে কালক্ষেপণ করায় এ নিয়ে সাধারণ জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

নিহত মোবারকের মেয়ে ও বাবার হত্যা মামলার বাদী ওয়াহিদা খান দিয়া বলেন, বাবু আমার সামনেই আমার বাবাকে গুলি করে হত্যা করেছে। হত্যার পর মামলা তুলে নিতে আমার প্রতি বার বার হুমকি দিয়েছে। এবারও জামিনে বেরিয়ে এসে আমাকেও বাবার কাছে পাঠিয়ে দিবে বলে হুমকি দিয়েছে। বাবুকে পুলিশের নিকট রিমান্ড না দেয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন সে। যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম হত্যা মামলার বাদী তাঁর ভাই নজরুল ইসলামও বাবুর রিমান্ড মঞ্জুর না করায় চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানায়, বাবু অর্থ ও নানার জোরে আদালত থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে ঠিকই। আর এই হত্যাকারী বেরিয়ে এলে এ এলাকায় আবারও অশান্তি শুরু হবে। আরও দুই-একজন বাবুর হাতে খুন হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিন্তু এবার আর বাবুকে সে সুযোগ দেয়া হবে না। এলাকাবাসী প্রস্তুত রয়েছে। বাবু জামিনে বেরিয়ে এলেই তাকে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলবে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলেও যখন আমাদের জীবন পড়েছে টানাটানির মধ্যে তখন এছাড়া আমাদের আর কোন উপায় নেই। তাই আদালতের ওপর চরম ক্ষোভ থেকে এলাকাবাসী এখন নিজেদের জীবন বাঁচাতে আইন হাতে তুলে নিতে যাচ্ছেন।

মুন্সীগঞ্জ ডিবির এসআই মোঃ মাসুম খান জানান, রিমান্ডে ডিবি ও পুলিশের যৌথ জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে দুর্ধর্ষ এই আসামি। তার কাছে আরও অস্ত্র রয়েছে বলে পুলিশের বিশ্বাস। আসামিকে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে পাওয়া গেলে দু-এক দিনের মধ্যে আসামির কাছ থেকে এ মামলার আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতো। উদ্ধার হতো হত্যার রহস্য। ইতোমধ্যে সে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তা এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

২০১২ সালের ১৮ অক্টোবর লৌহজং উপজেলার কাজির পাগলা ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মোবারক হোসেন খানকে তাঁর ঘরের সামনে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই মামলার অন্যতম পরিচালনাকারী উপজেলা যুবলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিককে গত বছর ২৫ সেপ্টেম্বর অপহরণের পর পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়। ওই দুটি হত্যা মামলাই প্রধান আসামি শাহাবুদ্দিন খান বাবু।

দুর্ধর্ষ বাবু মোবারক হত্যা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে দাপটের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। ইতোমধ্যে যুবলীগ নেতা রফিক হত্যাকা-ে প্রধান আসামি হওয়ায় সে আবারও গাঁ ঢাকা দেয়। দীর্ঘদিন পালিয়ে থেকে অবশেষে গত ১ জানুয়ারি বাবু মুন্সীগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করে।

প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারী ২০১৫

১৭/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: