মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

সবার সহযোগিতায় আজ আমি সালমা খাতুন

প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারী ২০১৫

খুলনার মেয়ে সালমা খাতুন এখন একজন কৃতী ক্রিকেটার। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় বেশিদূর যেতে না পারলেও ক্রিকেট তাঁকে আজ পৌঁছে দিয়েছে সাফল্যের শীর্ষে। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল তাঁর। মামাত ভাইয়ের সহায়তায় ২০০৬ সালে তিনি ভর্তি হন খুলনার একটি ক্রিকেট একাডেমিতে। সেই থেকেই ক্রিকেটের সঙ্গে তাঁর পথচলা শুরু। এখন ক্রিকেটই তাঁর একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান। সালমা খাতুন ১৯৯০ সালের ১ অক্টোবর খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়ন পরিষদের মিলকীদেয়াড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ২ ভাই আর ২ বোনের মধ্যে সবার ছোট সালমা। মাত্র আট বছর বয়সে পিতৃহারা হন তিনি। ছোটবেলা থেকে খেলাধুলার প্রতি ছিল তাঁর প্রবল আগ্রহ। সামাজিক প্রতিকূলতা থাকলেও পরিবারের সহযোগিতায় ক্রিকেটে নাম লেখান তিনি। প্রথমে জেলা পর্যায়ে অংশ নেন কিছু ম্যাচে। এরপর একসময় ডাক পান জাতীয় দলে। ২০০৮ সালে জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দলে অধিনায়কত্ব লাভ করেন। সালমা তাঁর নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ছাড়াও কিছু আন্তর্জাতিক ম্যাচে নৈপুণ্য দেখিয়েছে জাতীয় নারী ক্রিকেট দল। ডানহাতি ব্যাটসম্যান সালমা ডান হাতে অফ ব্রেক বোলিংও করেন। ২০১১ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তাঁর। এর পরের বছর ২০১২ সালে তিনি ডাবলিনে আয়ারল্যান্ড দলের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও নাম লেখান। ক্রিকেটে প্রাপ্তির কথা জানতে চাইলে সামলা জানান, ‘ক্রিকেট আমাকে অনেক দিয়েছে। সত্যি কথা বলতে বাংলাদেশের হয়ে খেলতে পেরে আমি ধন্য। ক্রিকেট থেকে আমি যা পেয়েছি, তা আমার প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আমি এখানেই থেমে যাব। আমি আরও সাফল্য চাই। বাংলাদেশের মুখ আরও উজ্জ্বল করতে চাই।’ নারী ক্রিকেটে বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা প্রসঙ্গে সালমা বলেন, ‘মেয়েদের এক্ষেত্রে সাফল্য লাভের সম্ভাবনা এখন অনেক বেশি। আগের চেয়ে সরকারী সুবিধা ও পৃষ্ঠপোষকতাও বেশি। তবে প্রমীলা ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করতে আরও বেশি ম্যাচ খেলানোটা জরুরী। আর এর প্রচারও জরুরী। যদি টিভিতে ম্যাচ দেখানো বা রেডিওতে আরও বেশি এ সম্পর্কে প্রচার করা যায়, তাহলে নারী ক্রিকেট আরও জনপ্রিয়তা ও সাফল্য পাবে বলে আমি মনে করি।’

ভবিষ্যতে মেয়েদের ক্রিকেটে আরও আগ্রহী করতে আরও বেশি সরকারী-বেসরকারী সহায়তা কামনা করেন সালমা। বিভাগীয় পর্যায় ছাড়াও জেলা পর্যায়ে ক্রিকেট একাডেমি স্থাপনের কথা বলেন তিনি। শুধু তাই নয়, ভাল নারী ক্রিকেটার গড়ে তুলতে হলে ঘরোয়া ক্রিকেট ম্যাচ বাড়ানোর প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশ্বসেরা ক্রিকেটার সালমা তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, ‘ক্রিকেটের সঙ্গে আজীবন সম্পৃক্ত থাকতে চাই। একসময় হয়ত খেলা ছেড়ে দিতে হবে। তখন অন্তত কোচ হিসেবে কাজ করতে চাই। কোন না কোনভাবে যুক্ত থাকতে চাই ক্রিকেটের সঙ্গে।’

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যেসব মেয়ে ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত আছেন তাঁদের উদ্দেশে সালমা বলেন, ‘কষ্ট করতে হবে। তাহলেই সাফল্য আসবে। আর কোচের কথা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। তবেই ভাল ক্রিকেটার হওয়া সম্ভব।’

নিউজিল্যান্ডের নেলসনকে পেছনে ফেলে টি-টোয়েন্টিতে সেরা বোলার হয়েছেন সামলা। আর বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হতে সালমাকে টপকাতে হয়েছে শ্রীলঙ্কার শশীকালা সিরিওয়ার্ধনকে। এ প্রাপ্তিতে উচ্ছ্বসিত হয়ে সালমা বলেন, ‘সবার সহযোগিতায় আজ আমি সালমা খাতুন। তবু এ প্রাপ্তি যথেষ্ট নয়। আমি চাই আরও ভাল করতে। আমি স্বপ্ন দেখি বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল একদিন বিশ্বকাপ খেলবে। আর সে লক্ষ্যেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’ সালমার মতো আমরাও স্বপ্ন দেখি বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল একদিন বিশ্বকাপ খেলবে। দেশের জন্য আরও সাফল্য ও সুনাম বয়ে আনবে।

প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারী ২০১৫

১৬/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: