আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

পদ্মা সেতু ॥ নদী শাসনের কাজ শুরু হচ্ছে ১০ দিনের মধ্যে

প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারী ২০১৫
পদ্মা সেতু ॥ নদী শাসনের কাজ শুরু হচ্ছে ১০ দিনের মধ্যে
  • মাওয়ায় ভারি যন্ত্রপাতি

মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল, মুন্সীগঞ্জ ॥ আগামী ১০ দিনের মধ্যে পদ্মা সেতু নদী শাসনের কাজ শুরু হচ্ছে। পদ্মা সেতুর নদী শাসন কাজের যন্ত্রপাতি এখন মাওয়ায়। চীন থেকে এসব যন্ত্রপাতি মাওয়ায় এসেছে। আফ্রিকার মৌরিতানিয়া থেকে আরও যন্ত্রপাতি আনা হচ্ছে নদী শাসনের কাজে। বুধবার চীন থেকে মূল সেতুর কাজের টেস্টিং পাইল জাহাজে করে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে। দ্রুতই এ পাইল দেশে চলে আসবে। আর এসব পাইল মাটির গভীরে স্থাপনের জন্য পদ্মার বুকে চলছে ফ্রেম বা মঞ্চ নির্মাণের কাজ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পদ্মা সেতুর নদী শাসনের কাজের জন্য মাওয়ার পদ্মায় এসেছে ভারি ভারি যন্ত্রপাতি ও জাহাজ। চীন থেকে গত ২ দিন আগে মাওয়ায় এসে পৌঁছেছে তিনটি ড্রেজার, দুটি এ্যাঙ্কার, তিনটি টাগবোট ও একটি মাল্টিপারপাস শিপ। এছাড়া মৌরিতানিয়া থেকে আরও ভারি ভারি যন্ত্রপাতি এখন বাংলাদেশের পথে রয়েছে।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (নদী শাসন) সারফুল ইসলাম জানান, আগামী ১০ দিনের মধ্যে নদী শাসনের কাজ শুরু করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিনো ইইড্রো কর্পোরেশন। চীন থেকে যেসব ড্রেজার এসেছে তা নাব্য সঙ্কটের কারণে মাওয়া পদ্মার ওপারে যেতে পারছে না। জাহাজ ও ড্রেজারের জন্য পর্যাপ্ত পানি নেই চ্যানেলে। এ তিনটি ড্রেজার এখন পদ্মার বুকে মাটি কাটতে কাটতে ওপারে যাবে। এতে ১০ দিনের মতো সময় লাগতে পারে। যদি ১০ দিনের আগে যাওয়া যায়, তবে ওপারে পৌঁছা মাত্রই কাজ শুরু করা হবে নদী শাসনের। জাজিরা পয়েন্টের কাছে মাঝিকান্দিঘাটের দেড় কিমি উজান হতে শুরু করা হবে এ নদী শাসনের কাজ। প্রথমে নদীতে ড্রেজিং করে ৬০ থেকে ৭০ মিটার গভীরতা করা হবে। এর পর ৮০০ কেজি ওজনের বালুর বস্তা ফেলে নদীর তলদেশ সমান করা হবে। এভাতে তিন স্তরে প্রতিটি ৮০০ কেজি ওজনের বালুর বস্তা দিয়ে নদীর তলদেশ সমান করা হবে। তারপর নদীর পারে বিশেষ ব্লক নির্মাণ করে তা বসানো হবে নদীর ঢালে। জাজিরা প্রান্তে ১২ কিমি এবং মাওয়া প্রান্তে ১.৬ কিমি নদী শাসনের কাজ করা হবে।

এদিকে গত বুধবার চীন থেকে নির্মাণ করা ১২ টি টেস্টিং(পরীক্ষামূলক) পাইল জাহাজে করে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে। এসব পাইল বাংলাদেশে পৌঁছতে এক মাসের মতো সময় লাগবে। তার পূর্বেই পদ্মার বুকে মাটির নিচে এসব পাইল বসানোর সকল রকম প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। ১২০ মিটার দৈর্ঘের পাইলগুলো দেশে পৌঁছামাত্রই তা পদ্মার বুকে মাটিতে বসানোর কাজ শুরু হবে।

সরজমিনে মাওয়া গিয়ে দেখা যায়, সদ্য বিলুপ্ত মাওয়া চৌরাস্তা বরাবর দক্ষিণের পদ্মায় ২ নং পিলার স্থলে তৈরি করা হচ্ছে ফ্রেম বা মঞ্চ। নদীর তীর থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে তৈরি করা হচ্ছে এ মঞ্চ। মঞ্চ ও ভাসমান জাহাজে থেকে এখানে বসানো হবে এই পাইল। পরীক্ষামূলক এসব পাইল ঠিকঠাক থাকলে এ আদলেই আরও পাইল তৈরি করা হবে। নতুবা পরিমাপমতো বুঝে পাইল নির্মাণ করা হবে। তবে চীনের এই পাইল নির্মাণ ওয়ার্কশপটি এখন লৌহজংয়ের কুমারভোগের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এখানেই তৈরি করা হচ্ছে এ ওয়ার্কশপ। সব মিলিয়ে পদ্মা সেতুর বিশাল কর্মযজ্ঞ দ্রুতই এগিয়ে চলছে।

প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারী ২০১৫

১৬/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: