মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ট্রেন দুর্ঘটনা ॥ অপ্রতিরোধ্য!

প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারী ২০১৫
ট্রেন দুর্ঘটনা ॥ অপ্রতিরোধ্য!
  • এক বছরে দুর্ঘটনা বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি
  • তিন বছরে প্রায় ৫ হাজার দুর্ঘটনার অধিকাংশের কারণ সিগন্যাল অমান্য, চালকের অসাবধানতা, রেলপথ সংস্কার না করা এবং নাশকতা

মশিউর রহমান খান ॥ কোন ক্রমেই থামছে না রেল দুর্ঘটনা। প্রতিদিন দেশের কোন না কোন স্থানে রেল দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। এমন কোন দিন নেই যে, দেশের যে কোন প্রান্তে রেলের ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে না। বাস্তবে রেল কর্তৃপক্ষের দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে অপ্রতিরোধ্য হয়ে পড়েছে ট্রেন দুর্ঘটনা। প্রতিবছরই দুর্ঘটনার এ হার বেড়েই চলেছে। ২০১৩ সালের চেয়ে ২০১৪ সালের রেল দুর্ঘটনার হার দ্বিগুণেরও বেশি হওয়াই অন্যতম উদাহরণ। একসময় দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচতে চলাচলের অন্যতম বাহন হিসেবে ট্রেনকে সবাই বেছে নিলেও বর্তমানে মানুষ শুধু দুর্ঘটনার হার দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবহন ঝুঁকিও বাড়ছে। ফলে ক্রমেই মানুষ ট্রেন ছেড়ে অন্য বাহনের দিকে ঝুঁকছে। আর এতে রেল হারাচ্ছে তার কাক্সিক্ষত যাত্রী। অতি দ্রুত রেল দুর্ঘটনার চলমান হার কমাতে বা বন্ধ করতে বিশেষ উদ্যোগ না নিলে পরিবহন সেক্টরে রেলের শত শত বছরের সুনাম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকগণ।

প্রায় প্রতিদিনই ঘটা দুর্ঘটনার কারণ খুঁজতে রেল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে দুই কিংবা তিন সদস্যের বিশেষ অনুসন্ধান কমিটি গঠন করলেও হয় না এর কোন স্থায়ী সমাধান। আবার ট্রেন চলে আগের মতোই হেলে দুলে। আবার ঘটে দুর্ঘটনা। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের সকল উন্নত দেশেই কমবেশি রেল দুর্ঘটনা ঘটলেও বাংলাদেশ তথা উন্নত বিশ্বের কোন দেশে বাংলাদেশের মতো এত রেল দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায় না। ট্রেন দুর্ঘটনার হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে জানমালের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও। তাই এক সময়ের সবচেয়ে নিরাপদ বাহন হিসেবে স্বীকৃত ট্রেন এখন যাত্রীদের কাছে চলমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ ট্রেনে চড়ে নির্বিঘেœ গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে সেই নিশ্চয়তা নেই কারো কাছেই। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও যাত্রীদের সময় ও ভ্রমণের নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিতে নারাজ। দুর্ঘটনাকবলিত যাত্রীদের ক্ষতিপূরণের স্বার্থে কোন ইন্স্যুরেন্সেরও ব্যবস্থা রাখেনি রেল কর্তৃপক্ষ। সব বেসরকারী যানবাহনের জন্য ইন্স্যুরেন্স বাধ্যতামূলক হলেও সরকারী এ সংস্থায় তা মানা হয়নি কখনোই। এ নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষের তেমন কোন মাথাব্যথা নেই।

রেলের উন্নয়নে বর্তমান সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করলেও রেল পরিচালনায় ও ট্রেন দুর্ঘটনা রোধে কর্তৃপক্ষের তেমন কোন দৃশ্যমান সফলতা চোখে পড়ছে না। রেলসূত্র জানায়, গত ৫ বছরের রেলের উন্নয়নে সরকার প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে। রেলের উন্নয়নে সরকার যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে গঠন করেছে পৃথক রেলপথ মন্ত্রণালয়। পার্শবর্তী দেশ ভারতের প্রধান বাহন যেখানে ট্রেন সেখানে বাংলাদেশ ঠিক তার উল্টো হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যান্য সমস্যার পাশাপাশি রেলের দুর্ঘটনার কারণে রেলপথকে ছেড়ে অন্য বাহনের দিকে ক্রমেই ঝুঁকছে যাত্রীসাধারণ।

স্বাভাবিকভাবেই গত কয়েক বছরে যেসব ট্রেন দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছে তার কারণ উদ্ঘাটন করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও সকল কমিটির রিপোর্টই প্রায় কাছাকাছি বা আংশিক পার্থক্য থাকতে দেখা যায়। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অতি দ্রুত প্রদান করা এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা থাকলেও রেল কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে অনেকটা উদাসীন বলে প্রতীয়মান হয়। দুর্ঘটনার পর কারণ খুঁজে বের করতে বিভিন্ন প্রস্তাবিত কমিটির জোর তৎপরতা লক্ষ্য করা গেলেও সময়মতো না দেয়ায় বা লোকচক্ষুর অন্তরালে উক্ত দুর্ঘটনার খবর চলে যাওয়ার পর উক্ত কমিটি রিপোর্ট জমা দেয়ায় তা নিয়ে সংবাদ মাধ্যম বা যাত্রীরাও তেমন একটা আগ্রহ দেখায় না। পরে বড় আর একটি রেল দুর্ঘটনা ঘটা মাত্রই রেল কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে নতুন দুর্ঘটনা নিয়ে। অনেকটা হারিয়ে যায় পূর্বের সকল রেল দুর্ঘটনার ইতিহাস।

রেলের তথ্যমতে, ৩ বছরে ছোট-বড় ৪ হাজার ৯১৪টি ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ৯৮ জন যাত্রী তাৎক্ষণিকভাবে নিহত হয়েছেন। পরে আহত হয়ে হাসপাতালে কিংবা বাড়িতে গিয়ে অনেক যাত্রীর মৃত্যু হয়। প্রকৃতপক্ষে মৃতের সংখ্যা সরকারী হিসেবের চেয়ে অনেক বেশি। তাছাড়া দুর্ঘটনায় বিভিন্ন ভাবে আহত হয়েছেন কয়েক হাজার যাত্রী। আহতদের মাঝে অনেকেই পরবর্তীতে নিহত হলেও এ সংখ্যার সঠিক হিসাব রাখেন না কেউ। এছাড়া হাত-পা ভেঙ্গে বা কেটে যাওয়া, দু’ পা থেতলে যাওয়া বা যে কোন প্রকার দুর্ঘটনায় সামান্য বা গুরুতর আহত হলে ঐ যাত্রীগণ সম্পূর্ণ নিজ দায়িত্বে হাসপাতালে ভর্তি থেকে শুরু করে চিকিৎসার ব্যয়ভার সম্পূর্ণ যাত্রীর পক্ষ থেকে বহন করতে হয়। দুর্ঘটনায় আহতদের কেউ কেউ চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছে। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ আহত এসব ব্যক্তিদের তাদের পক্ষ থেকে আর্থিকসহ কোন প্রকার সহায়তাও প্রদান করে না।

সরকারী হিসেবে রেল দুর্ঘটনায় গত ৩ বছরে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ১৬ কোটি ৫৫ লাখ ৪৮ হাজার ৮৬৪ টাকা।

রেলসূত্র জানায়, সারা দেশে ২ হাজার ৮৩৫ কিলোমিটার রেলপথে লেভেল ক্রসিং আছে ২ হাজার ৫৪১টি। এর মধ্যে ১ হাজার ৪১৩টি রেলওয়ের অনুমোদিত। বাকি ১ হাজার ১২৮টি ক্রসিং অনুমোদনহীন, যেগুলোয় নেই কোন প্রতিবন্ধক। ফলে অন্যান্য যানবাহনের সঙ্গে প্রায়ই ট্রেনের সংঘর্ষ হচ্ছে। লেভেল ক্রসিংয়ে কোন প্রকার প্রতিবন্ধক না থাকায় গত ৩ বছরে ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে ৮৭১টি। গত ১ বছরে প্রতিবন্ধক না থাকার ফলে ঘটা দুর্ঘটনায় ৪১ জনের প্রাণহানি ঘটে, আহত হয় প্রায় ২৫০ জন। এজন্য বেশ কয়েকটি যানবাহন চালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে রেলওয়ে। দুর্ঘটনা রোধে রেলের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ লেভেল ক্রসিংগুলোয় প্রতিবন্ধক নির্মাণে ২টি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে পূর্বাঞ্চলে ৩২৬টি লেভেল ক্রসিংয়ে গেট পুনর্বাসন ও মানোন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা। আর পশ্চিমাঞ্চলে ১৮৯টি লেভেল ক্রসিংয়ে গেট পুনর্বাসন ও আধুনিকায়ন এবং ১৮৮টি গেট নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৯ কোটি টাকা।

রেল দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রেল কর্তৃপক্ষের কোন প্রকার অনুমতি ছাড়াই যত্রতত্র যে কোন ব্যক্তি বা সরকারী সংস্থা তার নিজেদের প্রয়োজনমতো অবৈধ লেভেল ক্রসিং তৈরি করা, রেলক্রসিংয়ে গেটম্যান ও প্রতিবন্ধক না থাকা, সংশ্লিষ্টদের অবহেলা, দক্ষ লোকবলের সংকট ও সাধারণ মানুষের অসচেতনতা, অন্যান্য পরিবহনের চালকদের অসচেতনতা, সিগনাল না মেনে ট্রেন আসার মুহূর্তেও রাস্তা পারাপারের চেষ্টা করা, ক্রসিংয়ে গার্ডদের সময়মতো প্রতিবন্ধকতা না দেয়া, চুক্তিভিত্তিক চালক ও গার্ড নিয়োগ দেয়ায় চালকদের মাঝে অবহেলা কাজ করে, তাছাড়া দুর্ঘটনা ঘটলেও এদের চাকরি স্থায়ী না হয়ে চুক্তিভিত্তিক হওয়ায় চালক ও গার্ডদের তেমন সমস্যায় পড়তে হয় না। গাছাড়া মনোভাব ও দায়িত্ব সম্পর্কে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে তেমন কোন কৈফিয়ত দিতে হয় না বিধায় ট্রেন দুর্ঘটনা বাড়ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, রেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় ঘটেছে বড় ও অস্বাভাবিক বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা। এর পাশাপাশি গেটকিপারদের অসতর্কতায় রেল ক্রসিংগুলোতে ট্রেনের সঙ্গে যাত্রীবাহী গাড়ি, তেলবাহী ট্যাঙ্কলরি, বাস ইত্যাদির মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটেছে উল্লেখযোগ্য হতাহতের ঘটনা।

রেলসূত্র জানায়, ২০১৪ সালে ছোট-বড় মিলিয়ে সারা দেশে ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে ২ হাজার ৫১৯টি। ২০১৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২৩৬। ২০১৩ সালে ট্রেনে বড় দুর্ঘটনা ঘটে ৪৭টি। ২০১৪ সালে এ ধরনের দুর্ঘটনার সংখ্যা দাঁড়ায় ১২৮টিতে। অর্থাৎ গত একবছরে রেল দুর্ঘটনা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। স্বল্পব্যয় ও কম দুর্ঘটনাপ্রবণ যান হিসেবে রেলওয়ের এখনও ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তবে গত ১ বছরে বড় কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটায় এ পরিবহনেও ঝুঁকি বেড়েছে। এ অবস্থা থেকে যাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব আরামদায়ক পরিবহন ট্রেনকে রক্ষায় সরকারকে এখনোই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় রেল হারাবে তার শত বছরেরও অধিক সুনাম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, সারাদেশে ২ হাজার ৮৭৭ কিলোমিচার রেলপথের মধ্যে সকল রুটে আমাদের প্রতিদিন ৩৩৪টি ট্রেন যাত্রীদের আনা-নেয়ার কাজে যাতায়াত করে। এর মধ্যে অনেক সময় ছোট-বড় ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে। তবে ট্রেন দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা এর কারণ উদ্ঘাটন করতে রেলের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে প্রতিটি দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে কমিটি গঠন করি। যার ফলাফরের উপর ভিত্তি করে ট্রেন দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে দায়ীদের শাস্তিস্বরূপ সাময়িক বরখাস্ত করা, বেতন বন্ধ করা, বিভাগীয় মামলা দায়ের করা থেকে শুরু করে চূড়ান্ত বরখাস্তও করা হয়। তবে দুর্ঘটনার জন্য শুধু ট্রেনের কর্মকর্তা বা কর্মচারীরাই দায়ী নয়। বর্তমানে বিএনপি জোটের ডাকা চলমান অবরোধে নাশকতার উদ্দেশ্যে দুষ্কৃতকারীরা রেলপথের সিপার উপড়ে ফেলে, ফিশপ্লেট খুলে ফেলে, নাটবল্টু খুলে নানাভাবে ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। এসব কারণে ট্রেন দুর্ঘটনা রোধে সারাদেশের রেলপথ পাহারা দিয়ে যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে সারাদেশে বর্তমানে আট হাজারের বেশি আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর পাশপাশি যত্রতত্র অনুমতি না নিয়ে অবৈধ রেলক্রসিং তৈরি করা, এসব গেটে গেটম্যান না থাকা, রাস্তা পারাপারে পথচারীদের ধৈর্য না থাকা ও অসচেতন হওয়া, কোন কোন ক্ষেত্রে চালকদের অবহেলার কারণেও ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া রাস্তা পারাপারে সাধারণ পরিবহনগুলো নিয়ম না মেনে, সিগনালের জন্য অপেক্ষা না করে রেলক্রসিং করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে। এর পাশপাশি রেলপথে বাজার বা বিভিন্ন অবৈধ স্থপনাও ট্রেন দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। তবে আমরা সারাদেশের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রেখে ট্রেন দুর্ঘটনা রোধে নিয়মিত মনিটরিং করাসহ রেলক্রসিংয়ে প্রতিবন্ধক তৈরির জন্য প্রায় ৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করা গেলে ট্রেনের দুর্ঘটনার হার বর্তমানের চেয়ে অনেক কমে যাবে। দুর্ঘটনা রোধে পথচারীদেরকেও রাস্তা পারাপারে সচেতন হতে হবে। জাতীয় সম্পদ ট্রেনকে রক্ষায় নাশকতাসহ নানা দুর্ঘটনা রোধে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারী ২০১৫

১৬/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: