মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রিয়াজ রহমান প্রথম টার্গেট কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে ॥ কিলিং মিশনের নীলনক্সা!

প্রকাশিত : ১৫ জানুয়ারী ২০১৫

শংকর কুমার দে ॥ বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা টানা অবরোধকে টেনে নিয়ে যাতে দীর্ঘায়িত করা যায় সেজন্য ‘কিলিং মিশন’ ছক কষা হয়েছে। নিজেরাই নিজেদের ‘লাশ ফেলার’ ষড়যন্ত্র করে অবরোধ টেনে নেয়ার কৌশল নেয়ার আশঙ্কা করছে গোয়েন্দা সংস্থা। তাদের আশঙ্কা, স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা হতে পারে। দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে এই ধরনের নীলনকশা। নাশকতা ও নৈরাজ্যের তৈরি ছক বাস্তবায়নে তৎপরতা চালাচ্ছে জামায়াত-শিবির, জঙ্গী ও যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠী। টানা অবরোধের ওপর এই ধরনের প্রতিবেদন তৈরি করেছে গোয়েন্দা সংস্থা।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র জানান, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বিএনপি নেতাদের হত্যা করে অবরোধ-আন্দোলন ধরে রাখার কৌশল নেয়া হচ্ছে। বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান এই কৌশলের প্রথম টার্গেটে পরিণত হয়েছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রিয়াজ রহমানকে বিএনপির মধ্যে পাকিস্তানপন্থী হিসেবে অভিহিত করা হয়। তিনি বাংলার চেয়েও উর্দু ভাষায় কথা বলতে পারদর্শী। একজন পেশাদার কূটনীতিক হিসেবে তার সঙ্গে পাকিস্তানের শাসক দল মুসলিম লীগ ও সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র ঘনিষ্ঠতা আছে বলে তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। তবে রিয়াজ রহমানের ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একে অপরকে দায়ী ও দোষারূপ করছে। রিয়াজ রহমানের গাড়িতে আগুন দিয়ে তার ওপর গুলি বর্ষণ করে হত্যা চেষ্টাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাকেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র জানায়, টানা অবরোধকে সফল করতে মাঠে তৎপরতা চালাচ্ছে জামায়াত-শিবির ও যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থক জঙ্গী ও ভাড়াটিয়া পেশাদার অপরাধীরা। অবরোধের মধ্যে গভীর রাতে চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ি ভাংচুর ও আগুন দেয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে গাড়ির চাপায় নিহত হয়েছে ইসলামী ছাত্র শিবিরের কর্মী বিশ বছর বয়স্ক মোঃ জুবায়ের। হরতাল-অবরোধে নাশকতার অভিযোগে কয়েকটি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের মিনারখিল নতুন বাজার এলাকার মোঃ ইউনুসের ছেলে শিবিরকর্মী জুবায়ের গাড়িতে আগুন দেয়ার সময় নিহত হওয়ার ঘটনার মধ্য দিয়ে পুলিশী তদন্তে প্রমাণ হচ্ছে, মাঠে তৎপরতা চালাচ্ছে জামায়াত-শিবির। যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে জামায়াত-শিবির এখন বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের কাঁধে ভর করে নাশকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। এ জন্য জঙ্গী গোষ্ঠীকেও মাঠে নামিয়েছে তারা। এর মধ্যে মোস্ট ওয়ান্টেড জেএমবির তিন জঙ্গীকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তারা বোমা তৈরি ও অস্ত্র পরিচালনায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও খুবই দক্ষ। দেশী-বিদেশী মহল থেকে নাশকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টিতে মদদ দেয়া হচ্ছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বুধবার রাজধানীর গুলিস্তান ও ধানম-ির মতো স্থানে দিনেদুপুরে জনাকীর্ণ এলাকায় সর্বক্ষণিক পুলিশী তৎপরতা থাকার মধ্যে একটি যাত্রীবাহী বাসে ও একটি গাড়িতে যে কায়দায় আগুন দিয়ে পোড়ানো হয়েছে তাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও দক্ষ সন্ত্রাসী বা জঙ্গী গোষ্ঠীর সদস্য ছাড়া আর কারও পক্ষে তা সম্ভবপর নয়। বাস ও গাড়িতে পেট্রোল ঢেলে, গান পাউডার ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে চোখের পলকে গা ঢাকা দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তারা যে পেশাদার এবং তাদেরকে কোন মহল থেকে নামানো হয়েছে তা সন্ত্রাসী তৎপরতার ধরনেই প্রমাণ দেয়। এ ছাড়াও রংপুরের মিঠাপুকুরে মঙ্গলবার রাতে একটি বাসে পেট্রোলবোমা হামলা চালিয়ে শিশুসহ চারজন জীবন্ত দ্বগ্ধ করে হত্যাকা-ের ঘটনায় মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়ে দিয়েছে। আগুনে পুড়িয়ে পৈশাচিক কর্মকা-ের ঘটনায় প্রমাণ করে পেশাদার দুর্বৃত্তদের দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির নীলনকশারই প্লট।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, নিজেদের ডাকা টানা অবরোধ টেনে বেশিদিন ধরে রাখার কৌশল হিসেবে যে কিলিং মিশনের নীলনকশা তৈরি করা হয়েছে তাতে নিজেরাই এখন টার্গেটে পরিণত হচ্ছেন। তার প্রমাণ বএনপির নেতা বিশিষ্ট কূটনীতিক রিয়াজ রহমান। ভাড়াটিয়া পেশাদার দুর্বৃত্ত ও সন্ত্রাসীদের মাঠে নামানো হয়েছে যানবাহনে পেট্রোলবোমা মের্ েআগুন ধরিয়ে দেয়া, ব্যাপক বোমাবাজি করা, হত্যাযজ্ঞ চালানো, নাশকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করার জন্য। কিন্তু ভাড়াটিয়া পেশাদার দুর্বৃত্তরা তো আর চিনে না কে বিএনপি আর কে আওয়ামী লীগের নেতা এবং কোন্ দলের গাড়ি। এ জন্য নিজেদের ডাকা অবরোধে নিজেদের ভাড়াটিয়া পেশাদার দুর্বৃত্ত দলের হাতে বিএনপি নেতা রিয়াজ রহমান আক্রান্ত হয়ে গুলিবিদ্ধ ও তার গাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় সেমসাইড হয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আরেক উপদেষ্টা সাবিহউদ্দিনের গাড়িতেও আগুন দেয়ার ঘটনার মতো সেমসাইড ঘটনা ঘটে গেছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, টানা ১০ দিনের অবরোধে ২০ জনকে হত্যা, আগুনে বোমায় ঝলসে ও পুড়ে গিয়ে দগ্ধ হয়ে প্রায় অর্ধশত জন চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ ও দুই শতাধিক যানবাহনে আগুন দিয়ে পোড়ানোর ঘটনার মধ্য দিয়ে আতঙ্ক, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। ৫ জানুয়ারির নির্র্বাচনকে একতরফা অভিহিত করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পদত্যাগের দাবিতে গত ৬ জানুয়ারি থেকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘটনায় রক্তক্ষয়ী সহিংস সংঘাতে নিরীহ-নিরপরাধ মানুষজন বেঘোরে প্রাণ দিচ্ছে। জঙ্গী কায়দায় চোরাগুপ্তা হামলা চালিয়ে, বোমাবাজি, ককটেল নিক্ষেপ, পেট্রোলবোমা মেরে, যানবাহনে আগুন দিয়ে, ভাংচুর করে হতাহতের তালিকা প্রতিদিনই দীর্ঘায়িত করানো হচ্ছে।

গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক ডিসি সৈয়দ বজলুল করিম দৈনিক জনকণ্ঠকে বলেছেন, এটা অবরোধ নয়, জঙ্গী ও সন্ত্রাসী কর্মকা-। এটা কোন রাজনীতি নয়, হত্যাকাণ্ড ও পরিকল্পিত দুর্বৃত্তায়ন। আমরা এই ধরনের সন্ত্রাসের তা-বলীলা দেখেছি যুদ্ধাপরাধীর মামলায় যুদ্ধাপরাধীদের সাজা দেয়ার ঘটনায়। জামায়াতÑশিবির ও জঙ্গী গোষ্ঠী এই ধরনের নাশকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে দেশ অচল করে দেয়ার চেষ্টা করতে দেখেছে গোটা দেশবাসী। আবারও এ ধরনের নাশকতা ও নৈরাজ্য অব্যাহত থাকার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্রের নীলনকশা থাকতে পারে এবং এর পেছনে দেশী-বিদেশী মহলের মদদ থাকাটা স্বাভাবিক বলে মনে করেন সাবেক এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

প্রকাশিত : ১৫ জানুয়ারী ২০১৫

১৫/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: