কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বনের ভেতরে ১৩ ইটভাঁটি

প্রকাশিত : ১৫ জানুয়ারী ২০১৫
  • রয়েছে নিষেধাজ্ঞা ॥ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

নিজস্ব সংবাদদাতা, বান্দরবান, ১৪ জানুয়ারি ॥ জেলার লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে বনের মধ্যে গড়ে উঠেছে বনখেকো ১৩ অবৈধ ইটভাঁটি। স্থানীয় প্রশাসনের যোগসাজশে এসব ইটভাঁটিতে বনের কাঠ পোড়ানোয় পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।

সরজমিনে পরিদর্শনে জানা যায়, ২০১২ সালে জেলার লামা উপজেলার দুর্গম ফাইতং ইউনিয়নে তিনটি বিশাল পাহাড় কেটে তৈরি করা হচ্ছে পিবিসি ইটভাঁটি। এটির মতো ইউনিয়নটিতে এভাবে পাহাড় কেটে গড়ে তোলা অবৈধ ইটের ভাঁটিতে বছরের পর বছর বনের কাঠ সংগ্রহ করে ব্যবহার করা হয় জ্বালানি হিসাবে।

স্থানীয় মং ব্রা চিং মার্মা বলেন, ইটভাঁটিগুলো নিয়ে কথা বলে লাভ নেই, প্রশাসন ম্যানেজ। এখানে প্রাকৃতিক পরিবেশ বলতে আর কিছুই নেই, সব শেষ। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্য জেলায় ২০০৯ সাল থেকে ইটভাঁটি স্থাপন ও পরিচালনার ওপর সরকারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এসব এলাকায় ইটভাঁটি স্থাপন না করার ব্যাপারে রয়েছে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা কিন্তু এ নির্দেশ রয়ে গেছে কাগজে-কলমেই। ইউনিয়নে টিএইচবি, ইবিএম, ইউবিএম, এমবিএম, এফবিএম, এবিএম, এমবিআই, পিবিসি, এবিসি, এবিসি, এসবিডব্লিউ, এসএবি, এসবিএম নামের ১৩টি ইটভাঁটির কোন বৈধতা নেই।

পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক শহীদুল আলম বলেন, এই ভাঁটিগুলোর কোন ছাড়পত্র নেই, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেব। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উক্ত ইউনিয়নে বনাঞ্চল বলতে অবশিষ্ট আর কিছুই নেই, বনাঞ্চলের কাঠ ইটভাঁটির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করার কারণে ন্যাড়া হয়ে গেছে এক সময়ের ঘন বনে সমৃদ্ধ পাহাড়গুলো। ভাটায় কাঠ পাচার ও ইট টানার কারণে ইউনিয়নের অধিকাংশ পিচঢালা সড়ক এখন যেন মেটো পথ। গ্রীস্ম-বর্ষায় এই পথ ধরে চলাচলে স্থানীয় আদিবাসীদের যেন দুর্ভোগের শেষ নেই। বন, কৃষি বিভাগের অনাপত্তি ও পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্রের প্রয়োজন হলেও এসব ছাড়াই চলছে ভাটাগুলো।

এই ব্যাপারে লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের একটি ইটভাঁটির মালিক কবির বলেন, আমাদের ইটভাঁটিগুলোর কোন লাইসেন্স নেই এটা সত্য।

ভাঁটির শ্রমিকদের তথ্য মতে, একটি ভাঁটতে দৈনিক গড়ে ৩০০ মণের উপর কাঠের প্রয়োজন হয়, সে হিসাবে এতে ধ্বংস হচ্ছে ভাঁটির আশপাশের বনাঞ্চল। বান্দরবানের লামা বন বিভাগীয় কর্মকর্তা শহিদুল আলম চৌধুরী বলেন, আমাদের লোকবল কম তাই উপজেলা প্রশাসন ও আর্মি ক্যাম্পের সহযোগিতা চেয়েছি যাতে অভিযান চালানো যায়। ইট প্রস্তুত ও ভাঁট স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ এ লাইসেন্স ছাড়া ইটভাঁটি পরিচালনা করলে এক বছরের দ- এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, আবাসিক-সংরক্ষিত-বাণিজ্যিক-বনভূমি -জলাভূমিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এলাকায় ইটভাঁটি স্থাপন করলে এক বছর দ- ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়। জ্বালানি হিসেবে কাঠের ব্যবহারে তিন বছরের কারাদ- এবং তিন লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দ-ে দ-িত হওয়ার বিধান রাখা হয়। বান্দরবানের লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুন নাহার সুমি বলেন, অবৈধ ভাটাগুলোকে তো বৈধ করা যাবে না, ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে। স্থানীয়রা মনে করেন, বর্তমানে দেশে কয়লা সংকটের কারণে অনেক ভাটায় কাঠ ব্যবহার করলেও বান্দরবানে বছরের পর বছর ধরে কয়লার পরিবর্র্তে বনের কাঠ ব্যবহার করে আসছে ভাঁটিগুলো। কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের কয়েকটি উপজেলার ইটভাঁটায় জ্বালানি হিসাবে কাঠ পোড়ানোর জন্য বান্দরবানের বনাঞ্চল থেকে কাঠ সংগ্রহ করা হয়। এই ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া না হলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

প্রকাশিত : ১৫ জানুয়ারী ২০১৫

১৫/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: