মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

গণগ্রন্থাগারে দুই দিনব্যাপী শচীন দেববর্মণ সঙ্গীত উৎসব শুরু

প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারী ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একসঙ্গে দুই পরিচয়কে ধারণ করেছিলেন শচীন দেববর্মণ। একদিকে অসাধারণ কণ্ঠশৈলীর মাধুর্যে মুগ্ধ করেছেন শ্রোতাকে, অন্যদিকে রচনা করেছেন অনন্য বাণীময় গান। কালজয়ী সেসব গানের সুরে আজও আলোড়িত হয় সঙ্গীতানুরাগীর অন্তরাত্মা। মঙ্গলবার শীতের সন্ধ্যায় সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান মিলনায়তনে ভেসে বেড়াল পথিকৃৎ ও কিংবদন্তি এই শিল্পীর অজস্র অমর গানের সুর। সঙ্গীতপিপাসুদের সুরের অনুরণনে সিক্ত করে শুরু হলো দুই দিনব্যাপী শচীন দেববর্মণ সঙ্গীত উৎসব। বহ্নিশিখা আয়োজিত তৃতীয়বারের এ উৎসবের সূচনার দিনে সঙ্গীতের পাশাপাশি ছিল আলোচনা ও নৃত্য পরিবেশনা।

প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথি ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ ও আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সারওয়ার। সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংস্থার সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসাদুজ্জামান নূর বলেন, স্বাধীনতার পর পঁচাত্তর-পরবর্তীতে দেশে বিজাতীয় সংস্কৃতি আমদানি করা হয়। আর ওই দুঃসময়ে সংস্কৃতির আলোকবর্তিকার ভূমিকা রাখেন শচীন দেববর্র্মণ। তাঁর গানের সুর জাতিকে মনে করিয়ে দিয়েছিল, এটা হলো বাঙালীর গান। আমাদের মনের জগৎ তৈরিতে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন এই কালজয়ী শিল্পী। প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, অথচ আমরা কি আমাদের সন্তানদের মানসিক বিকাশে সৃজনশীলতার দিকে ধাবিত করছি? তাই দেশের সংস্কৃতি বিকাশের জন্য তাদের মনের জগৎ তৈরিতে আমাদেরও উদ্যোগী হতে হবে। তিনি আরও বলেন, শচীন দেববর্মণের গানগুলো অবেগ ও ভালবাসার জগৎকে ছুঁয়ে যেত। এসব গান নদীর মতো বহমান হয়ে ক্রমাগত বিস্তৃতি লাভ করেছে। আমাদের সকল অসঙ্গতির বিরুদ্ধে যাঁদের গান অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে তাঁদের মধ্য শচীন দেববর্মণ অন্যতম।

শাহ আলম সারওয়ার বলেন, শুরুর দিকে শচীন দেববর্মণের কণ্ঠস্বর যে খুব মধুর ছিল, এমনটা বলা যাবে না। কিন্তু সঙ্গীতের প্রতি ভালবাসা এবং ক্রমাগত অনুশীলন ও চর্চা তাঁকে কালজয়ী শিল্পী হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

সভাপতির বক্তব্যে গোলাম কুদ্দুছ বলেন, আমরা যারা সংস্কৃতিকর্মী তারা সব সময় সুন্দরকে অনুসন্ধান করে অসঙ্গতিকে মোকাবেলা করার চেষ্টা করি। আর এই সুন্দর অন্বেষণের পথে শচীন দেববর্মণকে বার বার খুঁজে পাই। আন্দোলন-সংগ্রামের উৎসাহ হিসেবে বিবেচনা করি।

আলোচনা শেষে শুরু হয় বাংলাদেশ ও ভারতের শিল্পীদের সঙ্গীত পরিবেশনা পর্ব। শচীন দেববর্মণের গানের সুরের অনুরণন ছড়িয়ে পড়ে মিলনায়তনজুড়ে। অপূর্ব বাণীর সঙ্গে শিল্পীদের দরদমাখা কণ্ঠের মাধুর্যে বিমোহিত হয় শ্রোতাকুল। শুরুতেই নিটোল পায়ে রিনিক ঝিনিক গানের সুরে নৃত্য পরিবেশন করেন বহ্নিশিখার শিল্পীরা। কে যাসরে ভাটির গাঙ বাইয়া, গানের কলি সুরের ডুরিতে ও বর্ণে গন্ধে ছন্দে গীতিতে এই তিনটি গান গেয়ে শ্রোতাদের উদ্দীপ্ত করেন সন্দ্বীপন। এছাড়াও সঙ্গীত পরিবেশন করেন কিরণ চন্দ্র রায়, ইফফাত আরা নার্গিস, সুমন চৌধুরী, রূপু খান ও মামুন জাহিদ খান। ভারতের শিল্পীদের মধ্যে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিবপ্রসাদ ধর, তনুজা দেববর্মণ, রাকেশ দেববর্মণ ও ধনঞ্জয় সরকার। এছাড়াও শোনো গো দক্ষিণ হাওয়ার ও ঝিলমিল ঝিলমিল ঝিলের জলে গানের সুরে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন স্পন্দনের শিল্পীরা।

আজ বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় একই স্থানে বসবে উৎসবের সমাপনী আয়োজন। এদিন দেশের শিল্পীদের মধ্যে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন- সুবীর নন্দী, সুজিত মোস্তফা, প্রিয়াংকা গোপ, তানসেন রহমান, আবিদা রহমান সেতু এবং বহ্নিশিখার শিল্পীরা। ভারতের আসামের শিল্পীদের মধ্যে গান শোনাবেন- সৌমিত্র শংকর চৌধুরী, সন্তোষ সূত্রধর, জবা রাণী ঘোষ, শিবাশীষ চক্রবর্তী, সেবায়ন রায় চৌধুরী প্রমুখ।

লেখক-প্রকাশকের প্রথম বই প্রকাশের গল্প ॥ সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারে চলছে আট প্রকাশনী আয়োজিত নববর্ষে বই উৎসব। এ উৎসবের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার গণগ্রন্থাগারের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হলো লেখক ও প্রকাশকের প্রথম বই প্রকাশের গল্প শীর্ষক আড্ডা আঙ্গিকের আলোচনা।

আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক। কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক মনসুর মুসা, কথাসাহিত্যিক সৈয়দ আনোয়ারা হক। প্রথম বই প্রকাশের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে সৈয়দ শামসুল হক বলেন, প্রথম বই প্রকাশের অনুভূতি প্রথম প্রেমের মতো। নতুন বই হাতে পাওয়ামাত্র শিহরণ খেলে গিয়েছিল। নিজের লেখা ছাপার অক্ষরে বিশেষ করে মলাটবদ্ধ দেখা বিস্ময়কর অনুভূতির জন্ম দেয়।

শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম বলেন, ৩৯ বছর আগে আমার প্রথম বইয়ে ফ্ল্যাপ লিখে দিয়েছিলেন কবি শামসুর রাহমান। ওটাই প্রথম তার ফ্ল্যাপ লেখা। প্রথম যেদিন হাতে পাই, সেদিন আমি কেঁপেছিলাম। আজও বইটি হাতে ধরলে কাঁপি।

নবযুগ প্রকাশনীর কর্ণধার অশোক কুমার নন্দী বলেন, প্রকাশকরা নামিদামি লেখক-কবিদের সঙ্গে ঘোরেন, এটা আমার কাছে একটা ঘোর তৈরি করত। চাকরি-বাকরিও ছিল না। ভাবলাম প্রকাশক হলেই ভাল। এমন ভাবনা থেকেই আসলে প্রকাশক হয়ে ওঠা।

শিশু একাডেমিতে পিঠা উৎসব শুরু আজ ॥ আজ বুধবার শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে চার দিনব্যাপী ২১তম জাতীয় পিঠা উৎসব। একাডেমির মতিউর মঞ্চে বিকেল সাড়ে ৫টায় এ উৎসবের উদ্বোধন করবেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথি থাকবেন সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল ও ব্যাংকার নুরুল ফজল বুলবুল। উৎসব উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক ওসমান গণির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঘোষণাপত্র পাঠ করবেন আবৃত্তিকার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বেলায়াত হোসেন।

মঙ্গলবার দুপুরে শিশু একাডেমির সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেনÑ উৎসব উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক ওসমান গণি, সদস্য সচিব মোশাররফ হোসেন, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, থিয়েটারকর্মী বাবুল বিশ্বাস প্রমুখ।

প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারী ২০১৫

১৪/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: