কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

স্বপ্নের শুরু সিমোনার

প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারী ২০১৫
  • মাহমুদা সুবর্ণা

চলতি মৌসুমটা দারুণভাবে শুরুর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন সিমোনা হ্যালেপ। আর চীনের শেনঝেন ওপেন জিতে যেন নিজের জাত চেনালেন রোমানিয়ার এই টেনিস তারকা। পারফরমেন্সের এই ধারাবাহিকতা মৌসুমের বাকি টুর্নামেন্টেও ধরে রাখতে চান ২৩ বছর বয়সী সিমোনা হ্যালেপ। আর তার প্রমাণ দেখাতে চান মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেই।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেরই প্রস্তুতি-মঞ্চ শেনঝেন ওপেন। আর সেই ইভেন্টে ফেবারিট ছিলেন সিমোনা। কারণ এ ডব্লিউটিএ আসরে তিনিই শীর্ষ বাছাই। পারফরমেন্সেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। শনিবার ফাইনালে সহজ জয় তুলে নেন তিনি। প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ডের টিমিয়া ব্যাসিনস্কি কোন ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তুলতে পারেননি। যে কারণে সিমোনা হ্যালেপ মৌসুমের প্রথম টুর্নামেন্টে ৬-২, ৬-২ গেমে হারিয়েছেন তাকে। এই জয়ের জন্য তাকে লড়াই করতে হয় মাত্র ৬২ মিনিট। আর এটি তার ক্যারিয়ারের নবম ডব্লিউটিএ শিরোপা। এর ফলে নতুন বছরটা বেশ ভালভাবেই শুরু করলেন হ্যালেপ।

শুরুটা করেছিলেন মাত্র চার বছর বয়সে। আর বয়স যখন ছয় তখন থেকেই নিয়মিত অনুশীলন শুরু করেন তিনি। ষোল বছর বয়সে টেনিসেই ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে গত মৌসুমে পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন রোমানিয়ার এই তরুণ প্রতিভাবান টেনিস তারকা। নতুন মৌসুমে স্বপ্ন দেখছেন নতুন কিছু করার। পূরণ করতে চান গ্র্যান্ডসøাম জয়ের স্বপ্ন। গত মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেন তিনি। আর দ্বিতীয় গ্র্যান্ডসøাম ফ্রেঞ্চ ওপেনেই ফাইনালে উঠার কীর্তি গড়েন হ্যালেপ। আর উইম্বল্ডনের সেমিফাইনাল। কিন্তু দুর্ভাগ্য। ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেও শিরোপা ছোঁয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি তাঁর। টুর্নামেন্টের ফাইনালে রাশিয়ান টেনিস তারকা মারিয়া শারাপোভার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় তাঁর। তারপরও হতাশ নন সিমোনা হ্যালেপ। বরং গত মৌসুমের পারফরমেন্সই নতুন মৌসুমের অনুপ্রেরণা তাঁর।

অসাধারণ পারফরমেন্সের কারণেই প্রথমবারের মতো বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ পাঁচে থেকে মৌসুম শেষ করেন তিনি। আর তাতেই গর্বিত ছিলেন হ্যালেপ। আর নতুন মৌসুমে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান নয় সিমোনা হ্যালেপের লক্ষ্য গ্র্যান্ডসøাম। এ বিষয়ে শেনঝেন ওপেন জয়ের পর সিমোনা বলেন, ‘দিনে দিনে নিজের পারফরমেন্স ভাল করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। পরের টুর্নামেন্টেও আমি খুব ভাল করতে চাই। সম্ভবত এর চেয়েও আরও বেশি ভাল’। গত দুটি মৌসুম এই শেনঝেন ওপেন জিতেই শুরু করেছিলেন চীনের লি না। আর গত দুটি মৌসুমেই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠেন তিনি। প্রথমবার ব্যর্থ হলেও গত মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপাটা নিজের শোকেসেই তুলেন সিমোনা হ্যালেপ। তাই এবার তার কি সুযোগ আছে? এমন প্রশ্নের জবাবে হ্যালেপ বলেন, ‘এমন প্রশ্নের উত্তর দেয়াটা খুব কঠিন। এই দিনের পর কী হবে তা আসলে কখনোই বলা যায় না। তবে এটা ঠিক যে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের জন্য আমার ওপর কোন চাপ নিতে চাই না। আমার পুরো মনোযোগ এখন সেই টুর্নামেন্টকে ঘিরেই। সেখানে আমাকে অনেক ম্যাচ জিততে হবে। শেনঝেনে যা করেছি ঠিক সেখানেও তাই করার চেষ্টা করব।’ তবে মৌসুমের প্রথম ইভেন্টে নেমেই চ্যাম্পিয়ন হলেও পরের সময়টা যে একইরকম হবে তা মানতে নারাজ এই রোমানিয়ার টেনিস তারকা। বরং তিনি মনে করেন এই মৌসুমটা কঠিন হবে তার কাছে, ‘২০১৫ সালটা হবে কঠিন একটি বছর। তবে এ বছর আমার অভিজ্ঞতাও কাজে লাগবে। এ বছরটা দেখারও। নিজেকে কতটুকু উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারি। তবে এ বছর র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখলের চেয়ে কোন একটি গ্র্যান্ডসøাম জেতাটা হবে আমার কাছে বেশি সন্তুষ্টির। আর র‌্যাঙ্কিংয়ে সেরা দশের মধ্যে থাকাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

বর্র্তমান টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ তারকা সেরেনা উইলিয়ামস। হপম্যান কাপে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের দুই নাম্বার তারকা মারিয়া শারাপোভা। সদ্যসমাপ্ত ব্রিসবেন ইন্টারন্যাশনাল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তিনি। এই দুই অভিজ্ঞ তারকাই এবার সিমোনার বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন। শুধু তাই নয়। সেরেনা-শারাপোভাদের সঙ্গে সিমোনা হ্যালেপের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন ইউজেনি বাউচার্ড-এ্যাঞ্জেলিক কারবার, পেত্রা কেভিতোভা এবং রাদওয়ানস্কারা। গত মৌসুমটা দুর্দান্ত কেটেছে তাদের। বিশেষ করে ইউজেনি বাউচার্ডের। মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে উঠেন তিনি। ধারাবাহিক পারফরমেন্সের সৌজন্যে ফ্রেঞ্চ ওপেনেও শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করেন বাউচার্ড। আর উইম্বল্ডনে নিজেকে আরও একধাপ এগিয়ে নেন কানাডার তরুণ প্রতিভাবান এই টেনিস তারকা। প্রথম কানাডিয়ান খেলোয়াড় হিসেবে উইম্বল্ডনের ফাইনালে উঠার বিস্ময়কর এক কীর্তি গড়নে তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্য। শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে চেকপ্রজাতন্ত্রের পেত্রা কেভিতোভার কাছে পরাজয় মানেন বাউচার্ড। তবে বিশ্ব টেনিসকে চমকে দিয়েই র‌্যাঙ্কিংয়ের পাঁচে থেকে মৌসুম শেষ করার অসাধারণ এক রেকর্ড গড়েন তরুণ প্রতিভাবান এই খেলোয়াড়। আর গত বছরের অসাধারণ পারফরমেন্সই নতুন মৌসুমে আরও বেশি আশা দেখাচ্ছেন ইউজেনি বাউচার্ডকে। গত বছর জার্মানীর সেরা টেনিস খেলোয়াড় ছিলেন এ্যাঞ্জেলিক কারবার। যিনি র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা দশে থেকে মৌসুম শেষ করতে সক্ষম হয়েছেন। ধৈর্য্য ধরে টেনিস কোর্টে নিজের সেরাটা ঢেলে দেয়ার প্রত্যাশায় বারবারই সচেষ্ট ছিলেন এ্যাঞ্জেলিক কারবার। জার্মানীর টেনিস এখন এই তারকাদের ওপরই নির্ভরশীল। কারবার-পেটকোভিচদেরও প্রত্যাশা নিজেদের সেরাটা ঢেলে দিয়ে ভক্ত-অনুরাগীদের শিরোপা উপহার দেয়া। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট জিতেছেন গত মৌসুমে। চেকপ্রজাতন্ত্রকে দিয়েছেন ফেড কাপের শিরোপা উপহার। তাই গত মৌসুমটা দারুণভাবেই কেটেছে চেক তারকা পেত্রা কেভিতোভার।

প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারী ২০১৫

১৪/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: