আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

টাইগারদের স্বপ্ন, সম্ভাবনা, বাস্তবতা

প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারী ২০১৫
  • তোফায়েল আহমেদ রবিন

চারবছর পর আরও একটি বিশ্বকাপ যখন দোরগোড়ায়, ক্রিকেটের গায়ে তখন আবারও নতুন করে রং লাগতে শুরু করেছে। এটা অন্য কোন রং নয়, বিশ্বকাপের রং। ক্রিকেটার-ক্রিকেট অনুরাগীরা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন বিশ্বকাপকে ঘিরে। ইতোমধ্যে ঘোষিত হয়ে গেছে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াড়। তাই সবার ভাবনা এখন অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য একাদশ বিশ্বকাপ ঘিরে। ১২ ফেব্রুয়ারি মেলবোর্ন ও ক্রাইস্টচার্চে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে যার আনুষ্ঠানিকতা। আর ১৪ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ময়দানের লড়াই।

১৮ ফেব্রুয়ারি ক্যানবেরায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের পঞ্চম বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে বাংলদেশ। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড় ঘোষণা হওয়ার পর সোমবার থেকে হোম অব ক্রিকেট মিরপুরে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করেছে টাইগাররা। এবারের বিশ্বকাপে যাদের লক্ষ্য অন্তত দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলা।

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার স্বপ্ন বাংলাদেশের জন্য নতুন কোন ঘটনা নয়। ২০০৭ ক্যারিবীয় বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার স্বপ্ন দেখেছিল টাইগাররা। সেবার স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পর ঘরের মাঠে ২০১১ বিশ্বকাপে সেমিফইনালের স্বপ্ন পর্যন্ত দেখেছিলেন অনেকে (যদিও সেবার প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়েছিল টাইগাররা)। তাই বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের স্বপ্ন কিংবা স্বপ্নের বাস্তবায়ন দুটোর সঙ্গেই পরিচিত টাইগাররা। কিন্তু কন্ডিশন এবং প্রতিপক্ষ বিবেচনায় এবারের বিশ্বকাপ মাশরাফিদের জন্য কঠিন পরীক্ষা বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধরণ দর্শকরা। একে তো ভিন্ন আবহাওয়া, তার উপর রয়েছে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের বাউন্সি উইকেটে খেলার ভয়। যেখানে ফাস্ট বোলারদের হাত ঘোরা মানেই এক-একটি আগুনের গোলা বেরিয়ে আসা। মন্থর উইকেটে খেলে অভ্যস্ত টাইগাররা সেখানে কতটা সুবিধা করতে পারবে তা নিয়ে ভাবনার শেষ নেই সবার। তবুও সব কিছু মাথায় রেখেই টাইগারদের স্বপ্ন দ্বিতীয় রাউন্ড। দল ঘোষণার দিন প্রধান নির্বাচক এবং পরবর্তিতে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছেন লঙ্কান কোচ চন্ডিকা হাতুরুসিংহে।

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার স্বপ্ন দেখা নিশ্চই টাইগারদের জন্য অন্যায় কিছু নয়। ২০০৭ ক্যারিবীয় বিশ্বকাপে যখন দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলল হাবিবুল বাশাররা, তখনও বাংলাদেশ বড় দল হয়ে ওঠেনি। মূলত সেবারই ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে টাইগাররা ইঙ্গিত দিয়েছিল বড় দল হয়ে ওঠার। এর পরের সময়গুলোতে বলতে গেলে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠা লাভ করে ফেলেছে টাইগাররা। দেশে এবং কি দেশের বাইরেও দেখিয়েছে উদ্ভাসিত নৈপুণ্য। তাই বিশ্বকাপে অন্তত দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার স্বপ্ন তো দেখতেই পারে মাশরাফি-সাকিবরা।

এবারের বিশ্বকাপে টাইগারদের প্রতিপক্ষ দুই স্বাগতিক দেশ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডসহ শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং আফগানিস্তান। এ অবস্থায় দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলতে হলে টাইগারদের জিততে হবে অন্তত চারটি ম্যাচ। তাই স্কটল্যান্ড এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দুটোই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মনে করেন সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান। টাইগাররা দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলবে এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্কটল্যান্ড এবং আফগানিস্তান এই দুইটা ম্যাচই আমাদের প্রধান টার্গেট হতে হবে। কিছুতেই ম্যাচ দুটি হাত ছাড়া হতে দেয়া যাবে না। এরপরে যে ম্যাচগুলো আসবে সেগুলোতে যদি আমরা ভাল ক্রিকেট খেলতে পারি এবং একটা-দুইটা ম্যাচ যদি জিতে ফেলতে পরি তাহলে নিশ্চই আমরা দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলব।’ ২০০৩ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেয়া খালেদ মাসুদ পাইলট মনে করেন স্কটল্যান্ড এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দুটি অবশ্যই জেতা উচিত টাইগারদের, ‘বিশ্বকাপে নিজেদের ১৫-১৬ বছর বয়সে এসে এই ম্যাচ দুটি হেরে গেলে সেটা আমাদের জন্য খুবই লজ্জার হবে। আশা করি এমন কিছু হবে না। সঙ্গে ভাল ক্রিকেট খেলতে পারলে বড় দলগুলোর বিপক্ষেও একটা-দুইটি ম্যাচ জিতব আমরা।’

জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে ভাল করা প্লেয়ারদের উপরই অধিক প্রত্যাশা রকিবুল হাসানের, ‘জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে এক ঝাঁক ব্যাটসম্যান এবং বোলার ভাল পারফর্মেন্স দেখিয়েছে। সঙ্গত কারণেই তাদের আত্মবিশ্বস অনেক ভাল। তারা যদি ভিন্ন কন্ডিশনে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিয়ে একটু ভাল ক্রিকেট উপহার দিতে পারে, ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে পারে তবে আমার বিশ্বাস টাইগাররা আমাদের গর্বিত করবে।’ বিশ্বকাপে ভাল ক্রিকেট খেলতে পারাটাই বাংলাদেশের জন্য বড় প্রাপ্তি হবে বলে মনে করেন সাবেক এ অধিনায়ক।

উইকেট প্রসঙ্গে রকিবুল হাসানের অভিমত, ‘ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ থেকে যা মনে হচ্ছে তাতে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাটিং উইকেটই হবে। দক্ষতা দেখাতে পারলে টুর্নামেন্ট ব্যাটসম্যানদেরই হবে। যারা স্কয়ার অব দ্য উইকেটে ভাল খেলতে পারবে, পুল শট ভাল খেলবে তারা রান পাবে।’ তবে নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন একটু কঠিন হবে বলে মনে করেন রকিবুল, ‘নেলসনে অনেক ঠা-া বাতাস বইবে, বল অনেক মুভমেন্ট করবে। সেখানকার কন্ডিশনটা কঠিন হবে আমাদের জন্য।’

বিশ্বকাপের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে নির্ধারিত সময়ের দুই সপ্তাহ আগে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ। এই সময়টাই টাইগারদের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন রকিবুল, ‘যেহেতু বাংলাদেশ দুই সপ্তাহ আগে যাচ্ছে তাই এই সময়টা তাদের সুন্দরভাবে কাজে লাগাতে হবে। এই সয়টাতেই কন্ডিশনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে হবে।’ আর সেটা হলে বাংলাদেশ ভাল কিছু করবে বলেই বিশ্বাস তার। তবে বিশ্বকাপের আগে টাইগারদের প্রস্তুতিটা ভাল হয়নি বলে মনে করেন পাইলট। বিশ্বকাপকে লক্ষ্য করে আরও সুদূর প্রসারি পরিকল্পনার প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন তিনি। তবে টাইগারদের ট্যালেন্টের প্রতি আস্থা পাইলটের, ‘আমাদের প্লেয়ারদের ট্যালেন্টের কোন কমতি নেই। তারা যদি বিশ্বকাপকে টার্গেট করে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে তবে অবশ্যই ভাল কিছু হবে এবং বাংলাদেশ দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠবে।’

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে পারলে স্বপ্নের পরিধি যে আরও বিস্তৃত হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। ক্যারিবীয় বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠার পর যেমন দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ, এবারও সে রকম কিছু ঘটলে কেউ বিস্মিত হবে না। তবে এটা ঠিক ঘরের মাঠে সর্বশেষ বিশ্বকাপের মতো বিষাদময় কোন টুর্নামেন্ট নিশ্চই প্রত্যাশা করবে না কেউ।

প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারী ২০১৫

১৪/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: