মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ওবামার ভারত সফর পরমাণু প্রশ্নে অচলাবস্থা কাটবে কি

প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারী ২০১৫
  • এনামুল হক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উৎসবে যোগ দেবেন। এমন অনুষ্ঠানে কোন মার্কিন প্রেসিডেন্টের যোগদান হবে এই প্রথম। তাঁর ভারত সফর এমন এক সময়ে হবে যখন ভারত মার্কিন পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি ঘোষণার দশ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। স্বভাবতই ভারতীয় পক্ষ এই সুযোগে এই চুক্তি নিয়ে দুদেশের মধ্যে সৃষ্ট অচলাবস্থা এবং সেসঙ্গে উদ্ভূত ভুল বোঝাবুঝি দূর করার চেষ্টা করবেন বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন।

২০০৫ সালের ১৮ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের ওয়াশিংটন সফরকালে দুদেশের মধ্যে পরমাণু সংযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির বদৌলতে ভারতে ২০৩২ সালের মধ্যে ৬৩ গিগাওয়ার্ট পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। পরে সেই লক্ষ্যমাত্রাই কমিয়ে সাড়ে ২৭ গিগাওয়ার্ট করা হয়। চুক্তিতে সেসব মাইলফলক অতিক্রম করার কথা ছিল তার কোনটাই অর্জিত হয়নি। অন্যদিকে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবার সময় মার্কিন ব্যবসায়ী মহল বেশ ফুরফুরে মেজাজে ছিল। তারা সঙ্গত কারণেই আশা করেছিল যে দুদেশের মধ্যেকার পারমাণবিক বাণিজ্য থেকে মার্কিন কোম্পানিগুলো প্রকৃত লাভবান হবে। ভারতে মার্কিন সামরিক সম্ভার রফতানি বাড়বে। অন্যদিকে এর পরিণতিতে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বাড়বে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনটাই হয়নি। যেমন চুক্তির অধীনে ভারত ২০১২ সালের মধ্যে ৮টি পরমাণু চুল্লি আমদানির পরিকল্পনা করেছিল। তার মধ্যে মার্কিন কোম্পািনগুলো যদি দুটি রিএ্যাক্টর বিক্রির ঠিকাদারি চুক্তি পেত তাহলেই যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার শ্রমিকের নতুন কর্মসংস্থান হতে পারত।

ভারত-মার্কিন পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাই অচলাবস্থা থেকে গেছে এবং এই অচলাবস্থার জন্য দায়ী হচ্ছে সিভিল লায়াবিলিটি ফর নিউক্লিয়ার ড্যামেজ এ্যাক্ট ২০১০ সেখানে পারমাণবিক দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বিশেষ করে এই আইনের ১৭ (বি) অনুচ্ছেদেটিকে ভারতের পারমাণবিক জ্বালানির বিষয়ে সরবরাহকারী দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পরিচারণার পথে বড় ধরনের বাধা বলে গণ্য করা হয়।

সিভিল লায়াবিলিটি ফর নিউক্লিয়ার ড্যামেজ এ্যাক্ট বা সংলাপে সিএলএনডি আইনটি ২০১০ সালে ভারতের লোকসভায় পাস হয়। আইনটি এ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক রীতিনীতির একটা ব্যত্যয়। কারণ এই আইনে বলা আছে যে, কোন দুর্ঘটনা ঘটলে শুধু রিএ্যাক্টর পরিচালনাকারীই দায়ী হবে না, উপরন্তু রিএ্যাক্টরের উপাদান সরবরাহকারীরাও সীমাহীন আইনগত দায়বদ্ধতার সম্মুখীন হবে। আমেরিকান রিএ্যাক্টরগুলো বিক্রির কাজটা করে থাকে বেসরকারী কোম্পানিগুলো। তারা বলেছে যে আইনে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সরবরাহকারীদের দায়বদ্ধ করার ফলে তাদের রিএ্যাক্টরের খরচ অনেক বেশি পড়ে যাবে। কারণ তখন ওদের বীমার ব্যবস্থা করতে হবে। তাই তারা এমন আইনে রীতিমতো অসন্তোষ্ট হয়। শুধু আমেরিকানরাই নয়, রাশিয়া, জাপান ও অন্যান্য রিএ্যাক্টর প্রস্তুতকারী দেশেও এই একই কারণে ভারতকে তার এই আইন পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছে।

উল্লেখ করা যেতে পারে যে, নতুন আইনটির কারণে ভারত বিদেশ থেকে এখনও পর্যন্ত একটি রিএ্যাক্টরও আমদানি করতে পারেনি। সমস্ত রিএ্যাক্টরই সারা বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানি উৎপাদিত হাজার হাজার উপাদান দিয়ে তৈরি। কাজেই কোন একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দায়বদ্ধতা মানতে অস্বীকার করলে গোটা রিএ্যাক্টর বিক্রিই বন্ধ হয়ে যায়। বলাবাহুল্য নতুন বিধান অনুযায়ী দেশী হোক বিদেশী হোক সকল সরবরাহকারীর ক্ষেত্রে সাধারণ দায়বদ্ধতার পরিমাণ দেড় হাজার কোটি রুপি ধার্য করা হয়েছে। বিদেশী সরবরাহকারীদের জন্য এটা নিদারুণ নিরুৎসাহজনক।

ওবামার আসন্ন ভারত সফরে এই ইস্যুটি সম্ভবত আলোচনায় প্রাধান্য পাবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র চায় ভারতে এ আইনের ব্যাপারে এমন কিছু করা হোক, যাতে করে মার্কিন কোম্পানিগুলো ভারতের বাজারে প্রবেশ করে পরমাণু সহযোগিতা চুক্তিটি সত্যিকার অর্থে কার্যকর করে তুলতে পারে। ভারতও নিশ্চয়ই এই সংক্রান্ত অচলাবস্থা ভাঙ্গার ব্যাপারে উদগ্রীব থাকবে এবং সে উদ্দেশ্যে ভারত-মার্কিন পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল সেই উদ্দেশ্য সিদ্ধির পথ প্রশস্ত করে তুলবে। সূত্র : দি হিন্দু

প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারী ২০১৫

১৪/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: