পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
২৪ জানুয়ারী ২০১৭, ১১ মাঘ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

প্যারিসে শার্লি হেবদোতে হামলা ইউরোপ জুড়ে বাড়ছে মুসলিম বিদ্বেষ

প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারী ২০১৫
  • শিকদার আরিফ

প্যারিসের দক্ষিণাঞ্চলের একটি ওয়্যারহাসে রক্তাক্ত পুলিশী অভিযানের মধ্য দিয়ে শার্লি হেবদোতে হামলাকারী ও পুলিশ হত্যাকারীদের একই দিনের দুই জিম্মি সঙ্কটের অবসান ঘটেছে। এতে বিদ্রƒপ ম্যাগাজিনটিতে হামলাকারী দুই ভাই নিহত হয়েছেন। এর আগে তারা শার্লি হেবদোতে হামলা চালিয়ে ১২ জনকে হত্যা করে।

সাঈদ কোয়াশি ও শেরিফ কোয়াশি নামের এই দুই ভাই দামার্তা-অঁ-গুলুর ওই প্রিন্টিং ওয়্যারহাউসে একজনকে জিম্মি করেছিল, যাকে পুলিশ জীবিত উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় এক পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন।

অন্য ঘটনাটি ঘটে প্যারিসের পূর্ব অংশে হাইপারক্যাশার নামের একটি ইহুদি সুপার শপে। সেখানে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় আমেদি কুলিবালি নামের এক বন্দুকধারী, লাশ পাওয়া যায় চার জিম্মির। শার্লি হেবদোর ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই ভাইকে ধরার চেষ্টা বাদ না দিলে সুপার শপের জিম্মিদের হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন আমেদি। শার্লি হেবদোর হামলাকারীদের মধ্যে অন্তত একজনের সঙ্গে আমেদির পরিচয় ছিল বলে ফরাসী পুলিশ তথ্য পেয়েছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ এ ঘটনাকে উল্লেখ করেছেন ফরাসী জাতির জন্য ‘ট্র্যাজেডি’ হিসেবে। জাতির উদ্দেশে এক ভাষণে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক করার পাশাপাশি তিনি দেশের জনগণকে বলেন, আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে, থাকতে হবে ঐক্যবদ্ধÑ এটাই আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।

ইহুদি সুপার শপের ঘটনাটি উল্লেখ করে ওলাঁদ বলেন, জাতিবিদ্বেষের ঘটনায় ছাড় দেয়ার কোন সুযোগ নেই। ‘যে ধর্মোন্মাদরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের সঙ্গে ইসলাম বিশ্বাসের কোন সম্পর্ক নেই।’ এ ঘটনার পর বিশ্বব্যাপী তীব্র নিন্দার ঝড় বয়ে যায়।

রাজধানী প্যারিস ও এর আশপাশে তিন দিন ধরে চালানো প্রাণঘাতী জঙ্গী হামলার প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে আয়োজিত মিছিলগুলোতে মানুষের ঢল নেমেছিল। শনিবার দেশটির প্যারিস, অর্লেন্স, নিস, পাউ, তুলুজ ও ন্যানেতস্’র মতো বড় বড় শহরগুলোসহ সারাদেশে প্রায় ৭,০০,০০০ লাখ মানুষ এসব মিছিলে অংশ নিয়েছে।

বুধবার প্যারিসে বিদ্রƒপ সাময়িকী শার্লি হেবদোর কার্যালয়ে হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া তিন দিনের তা-বে সাংবাদিক, পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১৭ জন নিহত হন। মূলত ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক নবী মুহাম্মদকে (সা) নিয়ে বিদ্রƒপাত্মক কার্টুন প্রকাশ করায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। ম্যাগাজিনটির দাবি, তারা শিল্পের মাধ্যমে নিজেদের মতামত তুলে ধরেছে।

২০১১ সালে ব্রেইভিক নামে নরওয়ের এক উগ্র খ্রীস্টান তরুণ নৃশংসভাবে ৭৭ জনকে হত্যা করেছিল, যাদের অধিকাংশই ছিল কিশোর-কিশোরী। সে একটি রাজনৈতিক ঘোষণাপত্রের কথাও জানিয়েছিল, যা ছিল চরম ইসলামবিদ্বেষী ও বর্ণবাদী।

পুরো ইউরোপে ইসলামবিদ্বেষী ও বর্ণবাদী রাজনীতির উত্থান ঘটছে। দিনকে দিন আশঙ্কা আরও জোরদার হচ্ছে। সুইডেনের মতো শান্তিপ্রিয় দেশে যা আগে কখনও দেখা যায়নি, তা-ই ঘটছে। স্টকহোমে সম্প্রতি কয়েকটি মসজিদে হামলা হয়েছে। এমনকি আগুন দেয়াও হয়েছে।

এদিকে প্যারিসে হামলাকারীদের প্রশংসা করার পাশাপাশি ফ্রান্সে আরও হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের আল কায়েদা। আল কায়েদা জানায়, মুসলিমদের ওপর ড়আগ্রাসন বন্ধ করুন, নইলে শাস্তি হিসেবে আরও হামলার মুখোমুখি হতে হবে। হামলাকারীদের এক ভাই একটি টেলিভিশনকে বলেছে, তিনি ইয়েমেনের আল কায়েদা নেতা আনওয়ার আল আওলাকির কাছ থেকে এ হামলার জন্য অর্থ পেয়েছেন।

২০০৫ সালে ডেনিশ পত্রিকা জিল্যান্ডস-পোস্টেনে কার্টুনটি প্রথম প্রকাশিত হলে বিশ্বের নানাপ্রান্তে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বিশেষ করে মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে এই প্রতিবাদ তীব্র হয় ও এতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে।

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশে তখন অর্ধশতেরও বেশি লোক নিহত হয়। হেবদো ডিসেম্বরেই বড়দিনের সময় খ্রীস্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্টকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক প্রচ্ছদ করলেও, খ্রীস্টানপ্রধান ইউরোপে বড় কোন প্রতিক্রিয়া হয়নি। তবে ওই একই পত্রিকায় ইহুদিধর্মকে অবমাননার জন্য ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানানোয় মরিস সন নামের ৪০ বছর বয়সী এক কার্টুনিস্টকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। ইহুদিধর্মের প্রতি ব্যঙ্গ-বিদ্রƒপ বা সমালোচনা যদি গ্রহণযোগ্য না হয়, তাহলে মুসলমানদের ধর্মবিশ্বাসকে আহত করে এমন কাজ গ্রহণীয় হওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়।

এদিকে এ হামলার পর ব্রিটেনের মিডিয়া মোগল রুপাট মাডক টুইটারে লিখেছেনÑ সম্ভবত মুসলিম শান্তিপ্রিয়, কিন্তু যতদিন তারা তাদের জিহাদী ক্যান্সারকে শনাক্ত করে ধ্বংস করতে না পারবে, ততদিন এ হামলার দায়-দায়িত্ব তাদেরই বহন করতে হবে।

প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারী ২০১৫

১৪/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: