মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

একনেকে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচীসহ ৫ প্রকল্প অনুমোদন

প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারী ২০১৫

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচীর (পিইডিপি-৩) প্রথম সংশোধনীসহ ৫ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৪০৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারী তহবিলের ১৪ হাজার ২১২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৪ হাজার ১৯১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এবং পরিকল্পনা সচিব ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম।

অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে, বিসিক শিল্পনগরী চুয়াডাঙ্গা, এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আওতায় চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে ক্রীড়া স্কুল প্রতিষ্ঠা প্রকল্প, এর ব্যয় ৭৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। ভোলা টেক্সটাইল ইনস্টিউট স্থাপন প্রকল্প, এর ব্যয় ৬৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প, এর ব্যয় ৭৪ কোটি টাকা।

প্রেস ব্রিফিং এ পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, মূল অনুমোদিত প্রকল্পে উপবৃত্তি কর্মসূচী এবং শিক্ষার জন্য খাদ্য কর্মসূচীতে যথাক্রমে ৩ হাজার ৩শ’ ৫১ কোটি টাকা ও ১ হাজার ৯শ’ ৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। কিন্তু এ দুটো কর্মসূচীর জন্য আলাদা আলাদা প্রকল্প ইতোমধ্যে নেয়া হয়েছে। এজন্যই পিইডিপি-৩ সংশোধিত প্রকল্প থেকে এ দুটো কর্মসূচী বাদ দেয়া হয়েছে। ফলে প্রকল্প ব্যয় সরকারী অংশে কমে এসেছে। তবে প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল মূল অনুমোদিত প্রকল্পে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত থাকলেও তা ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

পিইডিপি-৩ প্রকল্পের বিস্তারিত হচ্ছে, প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে অতিরিক্ত অর্থায়ন করছে দাতারা। ফলে এটি বাস্তবায়নে বৈদেশিক সহায়তা অংশের বরাদ্দ বাড়ছে। তবে কমছে সরকারী অংশের ব্যয়। এসব কারণে কর্মসূচীটির প্রথম সংশোধন হয়েছে। এ পর্যায় সংশোধনীতে মোট কর্মসূচীর ব্যয় ২২ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা থেকে ৪ হাজার ৩২ কোটি টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা। তবে মোট ব্যয় কমলেও দাতাদের অংশের অর্থায়ন বেড়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করণ ও শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা বাড়াতে ২০১১ এ কর্মসূচী হাতে নেয় সরকার। দাতা গোষ্ঠীর সহায়তা নির্ভর মেগা কর্মসূচী বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয় ২২ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা। এটি বাস্তবায়নে শুরুতেই বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করেছিল প্রায় দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকা এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) অর্থায়ন করেছিল প্রায় দুই হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এছাড়া পিইডিপি-৩ কর্মসূচীতে অর্থায়নকারী দাতা সংস্থাগুলো হচ্ছে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ডিএফআইডি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস এইড, সিডা, জাপান আন্তর্জাতিক সহাযোগিতা সংস্থা (জাইকা), কানাডিয়ান সিডা এবং ইউনিসেফ। পিইডিপি-৩ কর্মসূচীর অধিনে দেশব্যাপী ৩ হাজার ৬৮৫টি শ্রেণী কক্ষ নির্মাণ, ২ হাজার ৭০৯টি বিদ্যালয় পুনর্নির্মাণ, একজন শিক্ষকের অনুকূলে ৪০ জন ছাত্রের সমন্নয় তথা অনুপাত ১ : ৪০ তে নামিয়ে আনা, ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৫৫টি টয়লেট স্থাপন, ৪৯ হাজার ৩০০টি নলকূপ, ৫৩ হাজার ৭৫০টি প্রশ্রাবখানা নির্মাণ, ১১ হাজার ৬০০টি শ্রেণী কক্ষ মেরামত ও জেলা উপজেলায় রিসোর্স সেন্টার করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া রংপুরে অবস্থিত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ছাত্রী হল নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। এজন্য বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প নামক একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ সরকারী অর্থায়নে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় জানুয়ারি, ২০১৫ থেকে জুন, ২০১৮ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ১০০০ আসনের ছাত্রী হল, ড. ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিরিয়ারিং বিভাগ এবং ইলেকট্রনিক্স ও টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে গবেষণা ল্যাবরেটরিও এ প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত হবে। অপরদিকে, ভোলায় একটি টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট তৈরি করবে সরকার। সম্পূর্ণ সরকারী অর্থায়নে প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত। এ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটটি স্থাপিত হলে প্রতি বছর ৮০ জন বস্ত্র প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ তৈরি হবে। অপরদিকে রাজশাহী ও চট্টগ্রামে আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধাদিসহ দুটি ক্রীড়া স্কুল প্রতিষ্ঠা করবে সরকার। সম্পূর্ণ সরকারী অর্থায়নে বিকেএসপি এটি বাস্তবায়ন করবে। এর বাস্তবায়ন কাল ধরা হয়েছে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত। চুয়াডাঙ্গায় একটি শিল্পনগরী স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার। সম্পূর্ণ সরকারী অর্থায়নে ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। সভায় জানানো হয় এ প্রকল্পের আওতায় ১৬৯টি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ইউনিট স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে ৬ হাজার বর্গফুটের এ টাইপ প্লট থাকবে ৬২টি। ৪ হাজার ৫০০ বর্গফুটের বি টাইপ প্লট ৪৩টি। ৩ হাজার বর্গফুটের সি টাইপ প্লট থাকবে ৪৬টি। বাকি ১৮টি বিভিন্ন সাইজের এস টাইপ প্লট স্থাপিত হবে।

প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারী ২০১৫

১৪/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: