আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

তিন লাখ নকল এ্যান্টিবায়োটিক এখন বাজারে

প্রকাশিত : ১৩ জানুয়ারী ২০১৫
  • * ৫ মিলিগ্রামের এজিথ্রোমাইসিনের মধ্যে মূল উপাদান আছে মাত্র ৩৫ মি.গ্রাম
  • * আয়ুর্বেদিক কারখানায় তৈরি হচ্ছিল এসব নকল ওষুধ
  • * জড়িত ৬ জনের জেল-জরিমানা

স্টাফ রিপোর্টার। সাবধান! জীবন রক্ষাকারী তিন লাখ নকল এ্যান্টিবায়োটিক এজিথ্রোমাইসিন এখন বাজারে। এগুলো মার্কেট থেকে প্রত্যাহার না করা হলে রোগীর সর্বনাশ অনিবার্য। যারা খাবেন, তারাই মাসুল দেবেন। এগুলো দিয়ে ব্যবসা করা মানে, জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা। র‌্যাব তাই শাস্তিটাও দিয়েছে সর্বোচ্চ। জড়িত ছয়জনকে জেল-জরিমানা করা হয়। দু’জনেরই হয়েছে দুই বছরের কারাদ-। বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে। কারখানা সিলগালা।

সোমবার সকালে রাজধানীর মিরপুরে এমনই একটি ভয়াবহ নকল ওষুধের সন্ধান পায় র‌্যাব-২। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এইচ এম আনোয়ার এ সাজা প্রদান করেন। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন-সঞ্জয় বাড়ৈ (৩৬)-দুই বছরের কারাদ- এবং দুই লাখ টাকা জরিমানা,অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদ-। মোঃ কাওছার (২৮)-দুই বছরের কারাদ- ও এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদ-। মোঃ সাইফুল ইসলাম (২০)- এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদ-।

অসিম হালদার (৫২)- এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদ-। মোঃ মোফাজ্জেল খন্দকার (৭৫)- এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদ-। দশরথ মধু (৫০)- এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদ-।

জানা যায়, মিরপর-১১ এর পলাশনগর কালসীতে সেড ফার্মাসিউটিকেলে (আয়ুর্বেদিক) দীর্ঘদিন ধরেই এমন নকল ওষুধ প্রস্তুত হচ্ছিল এমন তথ্য র‌্যাব আগেই জেনে যায়। এতে ব্যাপক নজরদারি ও অনুসন্ধানের পর র‌্যাব তথ্য-প্রমাণাদি নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানে হানা দেয় সোমবার সকালে। তখনও সেখানে তৈরি হচ্ছিল নকল ওষুধ। প্রতিষ্ঠানটিতে আয়ুর্বেদি ওষুধ তৈরি করার লাইসেন্স থাকলেও গোপনে নামকরা কোম্পানির নকল এলোপ্যাথি ওষুধ তৈরি হয়। এ্যান্টিবায়োটিক তৃতীয় প্রজম্মের বহুল পরিচিত একটি নামকরা কোম্পানির প্রায় এক লাখ জিম্যাক্স ওষুধ তৈরি করা হয়। এখানে একটি বহুজাতিক কোম্পানির নাম খোদাই করা ওষুধ তৈরির ছাঁচ পাওয়া যায়।

সাজাপ্রাপ্ত কারখানার মালিক সঞ্জয় বাড়ৈ দুই বছর ধরে তার কারখানায় আয়ুর্বেদি ওষুধের পাশাপাশি এসব দামী এলোপ্যাথি ওষুধ গোপনে তৈরি করছেন। তিনি র‌্যাবকে জানান,একটি সংঘবদ্ধ চক্র নকল ওষুধ তৈরিতে সক্রিয়। বাজারে যে সব ওষুধ বেশি চলে, দামও বেশি, সেগুলোই এখানে ছোট ছোট ওষুধ কোম্পানির নামে নকল করা হয়। এসব কারখানায় যন্ত্রপাতি থাকায় সহজেই এসব তৈরি করা যায়। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন ছাপাখানায় হুবহু নকল ফয়েল তৈরি করা যায় বলে এসব ওষুধের প্যাকেট ধরার উপায় থাকে না। এসব ওষুধদেখতে হুবহু একই রকম হলেও মূল উপাদান না থাকায় এগুলো কাজ করে না। তিনি আরও জানান, তিন লাখ এজিথ্রোমাইসিন তৈরি করতে ৩০ কেজি স্টার্চের (এক ধরনের ময়দা) সঙ্গে এক কেজি নি¤œমানের এজিথ্রোমাইসিন মেশানো হয়। ফলে প্রতিটি ওষুধে মূল উপাদান ৫০০মিলিগ্রাম এজিথ্রোমাইসিনের উল্লেখ থাকলেও থাকে মাত্র ৩৫ মিলিগ্রাম।

ফলে ওষুধে কার্যকর উপাদান অতি কম। নি¤œমানের হওয়ায় মানুষের শরীরে কোন প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় না। মূলত সে জন্যই এ ওষুধে কাজ হয় না। উল্টো ক্ষতির কারণ হয়। সঞ্জয় বাড়ৈ জানান, তিনি আয়ুর্বেদীয় কারখানার পাশে গোপনে একটি গোডাউন ভাড়া নেন। অবৈধ ওষুধতৈরি করেই ওই গোডাউনে তা সরিয়ে ফেলা হয়। আইনে অনুযায়ী ওষুধ রাখার স্থানের জন্যও লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক হলেও এটাও মানা হয় না। এ অভিযান পরিচালনাকারী র‌্যাব-২ উপ-অধিনায়ক মেজর সালাহ্উদ্দিন মাহমুদ জানান, এ ধরনের বিভিন্ন অসাধু কারখানায় নকল ওষুধতৈরির বিষয়ে অভিযান অব্যাহত থাকবে। ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের প্রতিনিধি সৈকত কুমার কর উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশিত : ১৩ জানুয়ারী ২০১৫

১৩/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: