কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ময়মনসিংহ দেশের অষ্টম বিভাগ হতে চলেছে

প্রকাশিত : ১৩ জানুয়ারী ২০১৫
  • মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ অমিত শাহর ফোনালাপ এবং কংগ্রেসম্যানদের বিবৃতি মিথ্যা প্রমাণ হওয়ার পর বিএনপির পাল্টা বিবৃতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয় মন্ত্রিসভায়। পাশাপাশি খালেদা জিয়ার অতীত নিয়েও মুখরোচক আলোচনা চলে। এছাড়া ময়মনসিংহ দেশের অষ্টম বিভাগ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সচিবালয় মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শেষে অনির্ধারিত আলোচনায় এ সকল বিষয়ে আলোচনা হয়।

মন্ত্রিসভার শেষে অনির্ধারিত আলোচনায় খালেদা জিয়ার ‘অবরুদ্ধ’ থাকার গুঞ্জন নিয়ে কথা ওঠে। এ সময় অমিত শাহর ফোনালাপ এবং মার্কিন কংগ্রেসম্যানদের নামে ইস্যু করা ভুয়া বিবৃতি নিয়ে কয়েক সদস্য তীব্র সমালোচনা করেন বলে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক মন্ত্রী জনকণ্ঠকে বলেন।

সোমবারের মন্ত্রিসভায় এ বিষয় নিয়ে সমালোচনায় অংশ নেন কয়েক মন্ত্রী। সমালোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রিসভায় কয়েক সদস্য বলেন, বিএনপির এ ধরনের মিথ্যাচার এটিই প্রথম না। তাদের রাজনীতি মিথ্যাচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত আর খালেদা জিয়ার জীবনাচরণ মিথ্যাচারে ভরপুর। আলোচনার সময় মন্ত্রিসভার কয়েক সদস্য খালেদা জিয়ার অতীত ইতিহাস নিয়েও কাটাছেঁড়া করেন। ১৯৮৭ সালে খালেদা জিয়ার হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া নিয়ে কথা ওঠে মন্ত্রিসভায়। এ সময় হাস্যরসেরও সৃষ্টি হয়।

মন্ত্রিসভায় অবরোধ নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিসভার এক সদস্য বলেন, ‘অবরোধ তো নেই। তাই আলোচনাও হয়নি।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রিসভার ওই সদস্য অবরোধ প্রসঙ্গে বলেন, ‘অবরোধ হচ্ছে না। আর দূরপাল্লার যানবাহন চলাচলেও বিকল্প ব্যবস্থা নেবে সরকার।’ তবে কী পদ্ধতি নেয়া হবে তা বলতে চাননি ওই সদস্য। যানবাহন চলাচলে দলীয় কর্মীরা সক্রিয় ভূমিকা নেবে মাঠপর্যায়ে এমন ইঙ্গিত দেন তিনি। তিনি বলেন, তারা যেটা করছে এটা কোন রাজনৈতিক কর্মসূচী নয়। এটি সন্ত্রাসী কর্মকা-। এর বিরুদ্ধে সরকার অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে।

বিভাগ হচ্ছে ময়মনসিংহ ॥ শীঘ্রই ময়মনসিংহ আলাদা বিভাগের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে অনির্ধারিত আলোচনায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। বৈঠকের পর মন্ত্রিসভার সিনিয়র এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ময়মনসিংহকে আলাদা বিভাগ করার কার্যক্রম শীঘ্রই শুরু হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম উদ্বোধনের দিন প্রধানমন্ত্রী আরও একটি নতুন বিভাগ করার বিষয়ে কথা বলেন।

মন্ত্রিপরিষদ সূত্র জানায়, এর আগে ‘বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত মেয়াদে রংপুরকে আলাদা বিভাগ ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে এ বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে মোট সাতটি বিভাগ রয়েছে।

এছাড়া মন্ত্রিসভা বৈদেশিক মুদ্রা ও সিকিউরিটিজ ক্রয়-বিক্রয় নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন সময়োপযোগী করতে ‘ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন (সংশোধন) আইন-২০১৫-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। প্রস্তাবিত এই আইনে যে কোন স্থানীয় ও বিদেশী নাগরিকের বৈদেশিক মুদ্রা ও সিকিউরিটিজ এবং অস্থাবর বা অন্যান্য সম্পত্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সরকারকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসাইন ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, খসড়ায় কোন বিদেশী সংস্থার ফরেন এক্সচেঞ্জ এজেন্সির লাইসেন্স নেয়া এবং শাখা ও লিয়াজোঁ অফিস খোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের আগাম অনুমতি নেয়ার বিদ্যমান আবশ্যিক বিধান রহিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নতুন আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, বর্তমান আইনের সামান্য সংশোধনী আনা হয়েছে। আইনটি বাংলাদেশে বসবাসরত দেশী ও বিদেশী নাগরিক উভয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এতে তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে ইলেক্ট্রোনিক লেনদেনের আওতায় আনতে মুদ্রা, রফতানি, আমদানি পণ্যের সঙ্গে কর্মসম্পাদনার ধারণা সম্পৃক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংককে আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারের বিরুদ্ধে জরিমানা করার ক্ষমতা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। আইনে ফরেন এক্সচেঞ্জ এজেন্সির লাইসেন্স নেয়ার আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নেয়ার বিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বোর্ড (বিওআই) অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অনুমতি দিতে পারে।

কোন বিদেশী প্রতিষ্ঠানের শাখা অথবা লিয়াজোঁ অফিস খোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নেয়ার বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সময় সাশ্রয় এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিনিয়োগ বোর্ডকে (বিওআই) দায়িত্ব দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভা, কূটনীতিক ও সরকারী পাসপোর্ট ভিসা নেয়াসংক্রান্ত বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুমোদনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুয়ালালামপুর সফরকালে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

প্রকাশিত : ১৩ জানুয়ারী ২০১৫

১৩/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: