মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ঢাকার দিনরাত

প্রকাশিত : ১৩ জানুয়ারী ২০১৫
  • মারুফ রায়হান

ত সপ্তাহে ঢাকা কখনও কখনও অন্ধকারে ঢাকা পড়ার উৎকণ্ঠায় দিন আর রাত পার করেছে। এই অন্ধকার শীতে জবুথবু সূর্যের অনুপস্থিতিজনিত আঁধার নয়; কিংবা নয় আচমকা ব্ল্যাকআউটের কালো আলখাল্লায় আগামাথা ঢাকা পড়া অন্ধকার। এই অন্ধকার মানবসৃষ্ট। যারা মানুষের মুখের হাসি কেড়ে নিয়ে একদলা অন্ধকার ছুড়ে দেয়ার অপচেষ্টা চালায় তাদের কিভাবে মানুষ বলি! অথবা যারা যাত্রীভর্তি গাড়িতে আগুন দেয়ার ছলে মানুষকেই পুড়িয়ে মারতে চায়, মানুষের মতো অবিকল দেখতে বলেই তাদের বলতে হবে মানুষ? রাজনীতি মানুষের কল্যাণের বদলে যখন অকল্যাণ বয়ে আনে, তখন তাকে কী বলব? রাজ-দুর্নীতি? অপরাজনীতি? যাই বলি না কেন, সে যে পুরোদস্তুর শঙ্কা আর সন্ত্রাস, লাশ-লোভী নাশকতা তাতে কোন সন্দেহ নেই। অবরোধের নামে আজ অনেকেরই অবগুণ্ঠিত কুণ্ঠিত জীবনযাপন। মানুষের দুর্ভোগ কি পরবর্তী সপ্তাহেও বহমান থাকবে? রবিবার জনকণ্ঠে অবরোধের শিকার হয়ে ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে যন্ত্রণাকাতর কয়েকজনের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এসব খেটে খাওয়া মানুষের বিপদগ্রস্ততা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। মানুষ হত্যাকারী জানোয়ারদের থামানোর জন্য একটা শক্ত ব্যবস্থা দরকার বলেই ধারণা হচ্ছে।

ক্ষুদে বার্তা

বড় দুঃসংবাদ

রাজধানীর অনেক স্কুলেই শীতকালীন ছুটি চলছে। উত্তরার একটি স্কুলের ছুটি শেষ, স্কুল খোলার কথা সোমবার। শনিবারেই অভিভাবকদের মোবাইল ফোনে এসএমএস করে জানিয়ে দেয়া হলো আরও সাত দিন ছুটি চলবে। বার্তাটি ক্ষুদে বটে! কিন্তু দুঃসংবাদটি বড়। অনির্দিষ্টকালের জন্য চলমান অবরোধ কর্মসূচীর জন্যই যে স্কুল কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত সেটা উল্লেখ না করলেও চলে। পুরো এক সপ্তাহ স্কুল বন্ধ থাকা মানে শুধু এক সপ্তাহই পিছিয়ে যাওয়া নয়, বরং আরও অনেক কিছু। এমনিতেই শিশুদের ওপর বইয়ের বিপুল বোঝা চাপিয়ে রাখা হয়েছে। তার ওপর এক সপ্তাহের পড়া পুষিয়ে নেয়ার জন্য কি অতিরিক্ত চাপ দেয়া হবে শিক্ষার্থীদের ওপর? সেই চাপ তাদের বহন করা প্রায় অসম্ভব। তাছাড়া এ ধরনের অনির্ধারিত বন্ধ অল্পবয়সীদের মনোজগতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। চারপাশের পরিবেশ পরিস্থিতি সম্বন্ধে কৌতূহলবশত সে যেটুকু জেনে নিতে সক্ষম হয় সেটাও তাকে নেতিবাচক বার্তা দেয়। একদিন বড়জোর দুই দিন স্কুল বন্ধ থাকা এক জিনিস। আর সাত দিন বন্ধ রাখা অনেক বড় ব্যাপার। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছে কি বিষয়টি বিশেষ বিবেচনা পায়? স্কুল কর্তৃপক্ষেরও কি করণীয় কিছু নেই? অবরোধ ডাকা হলে ঘোষণা দিয়ে কোন বেসরকারী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক বা সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান কি বন্ধ রাখা হয়? কেউ কিছু বন্ধ রাখে না, কেবল রাজধানীর কিছু ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলই আগ বাড়িয়ে এমন নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। আমার সন্তানকে নিয়ে আমি ঘরের বাইরে বেরুব কিনা সেটা আমার বিবেচনা। সন্তানের নিরাপত্তার বিষয়টি তো আর তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর কেউ চাপিয়ে দিচ্ছে না। একজন মানুষ, সে বয়সে ছোট হোক বা বড়, সেও তো কারও না কারও সন্তান। বুড়ো ছেলে বাইরে গেলে তার জন্যও মা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকতে পারেন। না, কোন অজুহাতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দরজায় অনির্দিষ্টকালের জন্য তালা ঝুলিয়ে রাখা সমীচীন নয়।

ছুটির বিকেলে

সরগরম শাহবাগ

পরপর দুই শুক্রবার বিকেলে শাহবাগ এলাকা পর্যবেক্ষণ করে স্পষ্ট ধারণা হলো ছুটির দিনে রাজধানীর অন্যতম বিনোদন স্পট হয়ে উঠেছে এই শাহবাগ। শাহবাগ মোড় থেকে টিএসসি পর্যন্ত রীতিমতো তারুণ্যের মেলা বসে যায়। বারডেম-পিজির মাঝের প্রধান সড়ক দিয়ে শাহবাগ মোড় পেরুলেই হাতের ডান পাশে পড়বে জাতীয় জাদুঘর। ছুটির দিনে এটি খোলা থাকে এবং প্রচুর লোকসমাগম হয়। এখানকার বিশাল মুক্ত প্রাঙ্গণ আর ভবনের ভেতরকার বিস্তৃত পরিসর দল বেঁধে আসা লোকেদের জন্য বেশ স্বস্তিকর। ঘুরে বেড়িয়ে ছবি তুলে গল্পে আড্ডায় মনোরম হয়ে ওঠে সন্ধ্যা। জাদুঘরের প্রতিটি ফ্লোরেই দর্শনীয় বস্তু রয়েছে যথেষ্ট সংখ্যক। সে সব তো আছেই। জাদুঘরের নিচতলার ছোট মিলনায়তনে কোন না কোন অনুষ্ঠান থাকে। এছাড়া চিত্র বা আলোকচিত্র প্রদর্শনী তো রয়েছেই। সব মিলিয়ে বাস্তবিকই উপভোগ্য। জাদুঘর লাগোয়া পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণও আরেকটি বিনোদন কেন্দ্র। পাঠের নিমিত্তেই গণগ্রন্থাগার বা পাঠাগার। যদিও এখানে ঘুরতে আসা লোকজনের মধ্যে আগ্রহ কম কোনাকুনি সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে পাঠের জায়গাটিতে যাওয়ার। আবার যারা পড়তে আসেন, তাদের সংখ্যাও একেবারে অল্প নয়, তাদের ভেতরেও তেমন উৎসাহ থাকে না লাইব্রেরি কক্ষ ছাড়া অন্যত্র যাওয়ার। গত সপ্তাহের লেখাতে বলেছি, এখানে একসঙ্গে একাধিক বইমেলা হয়। মহানগরীতে এমনিতেই বইয়ের দোকান কমে গেছে। বলাকা সিনেমার সামনে বেশ দু®প্রাপ্য এবং সদ্যপ্রকাশিত বই পাওয়া যেত একটা বইয়ের দোকানে। সম্ভবত বইপত্র ছিল তার নাম। কতকাল হলো সেটি এখন জুতোর দোকান। যাহোক, পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে ঋতুতে ঋতুতে বইমেলার আয়োজন দারুণ একটি ব্যাপার। তবে ভিড়টা একটু বেশি হয় পেছনের শওকত ওসমান মিলনায়তনের সামনের সবুজ চত্বরে। ওখানে একটা ক্যান্টিনও আছে, যার বাইরেও বসার জায়গা করা হয়েছে ইট-সিমেন্ট দিয়ে। আর মিলনায়তনে নাটক-সিনেমার প্রদর্শনী হয়ে থাকে। আবৃত্তির অনুষ্ঠানও হয় অনেক। তাই ওখানে একটা ভিড় থাকেই। ঘুরে বেড়ানোর জন্যও জায়গাটা মন্দ নয়। দু-চারটে প্রেমিক জুটি থাকে প্রায় শব্দহীনভাবে। দীর্ঘ কয়েকটি গাছের চারদিকে বাঁধানো প্রাচীর ঘেঁষে সংস্কৃতিকর্মী তরুণেরা আড্ডা জমায়। বেশ শান্ত আর নির্ঝঞ্ঝাট জায়গাটা।

তবে সরগরম শাহবাগ বলতে বোঝাবে চারুকলা ইনস্টিটিউটের সামনের জায়গাটা আর জাদুঘরের প্রধান ফটকের সামনের এলাকা। এর নতুন নাম ‘প্রজন্ম চত্বর’। এখানে কত রকমের খাবারের দোকান যে বসে তার ইয়ত্তা নেই। ফুচকা-চটপটির চাইতে এখন নানা ধরনের পিঠা, ডিমসেদ্ধ, ঝটপট বানানো কেক ইত্যাদির কদর বেশি। গানবাজনা-কবিতা-সেøাগানের প্রাণবন্ত আয়োজনটি হয় এখানেই। মাটিতে বসে। গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা ব্যানার টানিয়ে মাইক নিয়ে আসর গরম করেন। রাজপথের ওপর তাজা ফুল দিয়ে জাতীয় পতাকার আদল নির্মাণ কিংবা ‘১৯৭১’ লেখা হয়। গান শুরু হলে আশপাশের পথচারীরাও সেখানে যোগ দেন। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবিতে মূলত এ আয়োজন, যদিও তাতে থাকে মুক্তিযুদ্ধের নানা অনুষঙ্গের পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়। দাবি আদায়ের এই সাংস্কৃতিক উদ্যোগটি ছুটির বিকেলে অনেকের কাছেই আনন্দদায়ক বলে মনে হয়।

বীরাঙ্গনার জীবন

এবং একজন লিসা

বিজয়ের মাস শেষ। বিজয়ের মাসজুড়েই বীরাঙ্গনাদের জীবননির্ভর নাটক নিয়ে ঢাকা-সিরাজগঞ্জ-চট্টগ্রাম করেছেন লন্ডন থেকে আগত নাট্যকার ও অভিনয়শিল্পী লিসা গাজী। তাঁর একক অভিনয়সমৃদ্ধ ‘বীরাঙ্গনা’ নাটকটি বোদ্ধামহলে আলোচিত হয়েছে। লিসাকে হয়ত অনেকেই মনে করতে পারবেন। নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে তিনি লিসা অতন্দ্রিলা নামে কবিতা লিখতেন। ঢাকাতেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। লন্ডনের ব্রিকলেনে সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী একটি মিছিলে লিসাকে দেখে চমকে উঠি। মিছিল শেষে কুশলবিনিময়। তিনি সেখানে মূলধারার অর্থাৎ ব্রিটিশ থিয়েটারের একজন পেশাদার অভিনয়শিল্পী সেটা জানা হয়। এবার ঢাকায় তাঁর সঙ্গে আলাপচারিতায় যতটুকু জানতে পারি তাতে লিসার জন্য এক ধরনের গর্ববোধ হচ্ছে। ব্রিটেনের আর দশজন প্রফেশনাল অভিনয়শিল্পীর মতোই নাট্য দলের ডাকের অপেক্ষায় থাকেন তিনি। একেক সময় একেক দলের হয়ে মাসের পর মাস অভিনয় করতে করতে তাঁর নিজের দল গঠনের ইচ্ছাটি তীব্র হয়। নিজের দলে নিজের মতো করে বিষয় নিয়ে নাটক করার তৃপ্তিই অন্যরকম। তাতে প্রবাসে বসে দেশের জন্যও কিছু করা হবে। লিসা দেখলেন বিভিন্ন দলের হয়ে বিভিন্ন নাটক করতে গিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে শিল্পসখ্য গড়ে উঠেছে। এমন চারজন মিলেই গঠন করেন নাট্য দল ‘কমলা কালেক্টিভ’। দলে আরেকজন বাঙালী আছেন।

বীরাঙ্গনাদের নিয়ে নাটক করার ভাবনার পেছনে নিশ্চয়ই অভিনয়শিল্পী কিংবা নাট্যরচয়িতা হিসেবে একটি দেশাত্মবোধ এবং অঙ্গীকারবোধ তো রয়েছেই। আলাপ করতে করতে আমার কাছে মনে হয়েছে, এর পেছনে লিসার কবিমন এবং নারীসত্তাটিও কাজ করেছে। একজন নারী যিনি একাত্তরে চরমভাবে নির্যাতিত হয়েছেন, স্বাধীন দেশে পদে পদে মানসিকভাবে নির্যাতিত হয়েছেন, সেই নারী কোন্ শক্তিবলে সমাজে টিকে থাকেন! তাঁর ভেতরে নিশ্চয়ই এক গভীর প্রাণশক্তি ও প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে। নারীর এই প্রচ্ছন্ন শক্তিটির অন্বেষণ লিসার মতো একাত্তর-উত্তর প্রজন্মের কাছে কিভাবে গুরুত্বপূর্ণ এক প্রয়োজন হয়ে উঠল- সেটাও ভাববার মতো ব্যাপার। একাত্তর এখনও তার বিভা ও কিরণ যে ছড়িয়ে চলেছে, সিক্ত করে চলেছে ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের প্রত্যন্ত কোনায় কোনায়- এটার দৃষ্টান্ত পাওয়া প্রকৃতপক্ষেই পরম স্বস্তির। দু’বছর আগে নাটকটি প্রথম অভিনীত হয় ঢাকার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে। সিরাজগঞ্জের যে ক’জন বীরাঙ্গনার সঙ্গে সপ্তাহের পর সপ্তাহ কথা বলে, রীতিমতো গবেষণা করে এই নাটকটি দাঁড় করান লিসা (সহরচয়িতা সামিনা লুৎফা), সেই নাটক যখন ওই বীরাঙ্গনাদের সামনেই পরিবেশিত হয় তার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে লিসা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অভিনয় করতে করতে সেদিন তিনি মঞ্চ থেকে শুনেছিলেন বীরাঙ্গনাদের গোঙানি। একজন সংজ্ঞাও হারিয়ে ফেলেন। নাটক শেষে তাঁরা লিসার দিকে ফিরেও তাকাচ্ছিলেন না। লিসার মনে হয়েছিল বীরাঙ্গনাদের জীবনকথা তাঁদেরই সামনে শিল্পমাধ্যমের সহায়তায় উপস্থাপন করে অপরাধ করলেন কিনা। ওরা কি এখন তাঁকে ঘৃণা করবেন? কিন্তু না, সিরাজগঞ্জে ফিরে যাওয়ার সময় তাঁরা লিসাকে জড়িয়ে ধরে আদর করেন এবং গোটা পৃথিবীর কাছে নাটকটি দেখানোর দাবি জানান।

নাটকটি প্রথমে ইংরেজী ভাষাতেই লেখা হয়েছে। লন্ডনে গত মার্চ থেকে এটি প্রদর্শিত হচ্ছে। সেখানেও একজন নির্যাতিতা বিদেশিনী, যার পক্ষে বাংলাদেশের বীরাঙ্গনাদের ইতিহাস জানা সম্ভব হয়নি, তিনি নাটকটি দেখে তাঁর দেশে যুদ্ধাপরাধের শিকার নারী হিসেবে নিজের মর্মবেদনার ছবিটিই প্রতিফলিত হতে দেখেছেন বলে জানিয়েছিলেন লিসাকে। প্রথমবারের মতো ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নাটকটি প্রদর্শন করতে পেরে লিসা ফিরে গিয়েছিলেন সেই পুরনো দিনে। ঢাকার গুলশানে অবশ্য ইংরেজী ভাষাতেও বীরাঙ্গনার প্রদর্শনী হয়েছে।

বিশ্ব এজতেমা

অপ্রতিরোধ্য মুসল্লি

অবরোধ উপেক্ষা করেছেন লাখো মুসল্লি। কিংবা বলা ভাল, মুসল্লিদের অদম্য ইচ্ছেশক্তির কাছে পরাস্ত হয়েছে অন্যায্য রাজনৈতিক কর্মসূচী। যানবাহনের স্বল্পতা ছিল, ছিল চোরাগোপ্তা হামলার আশঙ্কা। তবু ধর্মপ্রাণ মানুষ দলে দলে যাত্রা করেছেন টঙ্গীর তুরাগ তীরে। অতীতে আমরা দেখেছি শুক্রবারে হরতাল-অবরোধের মতো রাজনৈতিক কর্মসূচী দেয়া থেকে বিরত থেকেছে দল। শুক্রবার জুমার নামাজে সমবেতভাবে মানুষের উপস্থিতির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়ে থাকে বলেই সাধারণ ধারণা। শুক্রবার ছুটির দিন এমনিতেই অফিস-আদালত বন্ধ থাকা একটা কারণ হতে পারে। যদিও বেসরকারী অনেক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসাকেন্দ্র শুক্রবার খোলা থাকে। এখন মনে হচ্ছে অতীতে শুক্রবারে হরতাল না দেয়ার ব্যাপারে বিএনপির কাছে ধর্মপালনের বিষয়টি তেমন গুরুত্ব পায়নি। তা না হলে বিশ্ব এজতেমার মতো তিন দিনের ধর্মীয় আয়োজনের সময় তারা অবরোধ তুলে নিল না কেন? অন্তত আখেরি মোনাজাতের দিন তারা ছাড় দিতে পারত।

তবে সত্যি বলতে কি অবরোধের ভয় যতই চোখ রাঙাক না কেন, সে জন্য বিশ্ব এজতেমায় মানুষ কিছু কম হয়েছে এ কথা বলা যাচ্ছে না। যেভাবেই পারুক মানুষ এজতেমায় যোগ দিয়েছে। প্রশাসন থেকে অবশ্য যোগাযোগের ক্ষেত্রে কিছুটা সহযোগিতা দেয়া হয়েছে। আখেরি মোনাজাতের আগের সন্ধ্যায় জনকণ্ঠ ভবন থেকে উত্তরায় ফেরার পথে মহাখালীতে দেখেছি প্রশাসনের পক্ষ থেকে মিনিবাস রাখা আছে টঙ্গীতে এজতেমায় যোগদানকারীদের জন্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সদস্যকেও বাসের মধ্যে দেখলাম যাত্রীদের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য। এজতেমার সমাবেশ নিয়ে বলতে গেলে বলতেই হয় এবারও যথারীতি পার্শ্ববর্তী এলাকাজুড়ে বাসাবাড়ি, কলকারখানা, অফিস, দোকান ও যানবাহনের ছাদ এবং নদীতে অনেক নৌকায় অবস্থান নেন মুসল্লিরা। আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানাসহ বিভিন্ন অফিস ছুটি ঘোষণা এখন সাধারণ নিয়মে পরিণত হয়েছে।

যদ্দুর জানা যায়, ঢাকার রমনা উদ্যানসংলগ্ন কাকরাইল মসজিদে ১৯৪৬ সালে প্রথম এজতেমার আয়োজন করা হয়। মুসল্লির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ১৯৪৮ সালে এজতেমার স্থান পরিবর্তন করে বর্তমান হাজী ক্যাম্পের স্থলে নেয়া হয়। ১৯৫৮ সালে এজতেমা হয় সিদ্ধিরগঞ্জে। মুসল্লি আরও বাড়তে থাকায় সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ১৯৬৬ সালে টঙ্গীর তুরাগ তীরের মাঠে এজতেমার স্থান নির্ধারণ করা হয়। সেই মাঠেও স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় গত ৫ বছর যাবত দুই পর্বে এজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

রাস্তার তিন অবস্থা

এই কলামে ঢাকার রাজপথ ব্যবহারকারীদের সম্পর্কেও মাঝে মধ্যে কিছু বলার চেষ্টা করি। আপনি যে সড়কেই থাকুন না কেন, কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকলে অনেক কাণ্ডকারখানাই চোখে পড়তে বাধ্য। শব্দ করে রাস্তার ওপরে কফ-থুতু ফেলা এখন যেন নাগরিক অধিকারের ভেতরেই পড়ে! দৃশ্যটি যে কুৎসিত এবং কাজটি যে অভদ্রজনোচিত ও অস্বাস্থ্যকর সে কথা অনেকেই জানেন না। কিন্তু বিলক্ষণ মানবেন যে এরাই আবার নিজের ঘরের মেঝেতে ওই কাজটি করেন না। আচ্ছা পরের বাড়ি বেড়াতে গেলেও কি এই কাজ ঘরের মাঝখানে করা যাবে? যাবে না। তাঁরা করেনও না। তাহলে রাস্তার মাঝখানে কেন? তবে হ্যাঁ, রাস্তার মাঝখানে খোলা ডাস্টবিন দেখা যায়, সেখান থেকে আবর্জনা উপচে আশপাশে কয়েক গজ জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। এটা সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তারাও যে দায়িত্বপরায়ণ নন, ‘রাস্তার লোকদের’ অভব্যতার পাশাপাশি সে কথাও আমাদের বারবার বলে যেতে হবে।

১১ জানুয়ারি ২০১৫

marufraihan71@gmail.com

প্রকাশিত : ১৩ জানুয়ারী ২০১৫

১৩/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: