মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

জনশক্তি রফতানি বৃদ্ধি

প্রকাশিত : ১২ জানুয়ারী ২০১৫

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ নানা জটিলতা সত্ত্বেও গত বছর জনশক্তি রফতানি বেড়েছে। এ বছর বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৪ লাখ ২৫ হাজার ৬৮৪ জন কর্মী রফতানি হয়েছে। আগের বছর ২০১৩ সালে জনশক্তি রফতানি হয়েছিল ৪ লাখ ৯ হাজার ২৫৩ জন। এক বছরের ব্যবধানে জনশক্তি রফতানি বেড়েছে ৬ হাজার ৪৩১ জন।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২০১০ সালে ৩ লাখ ৯০ হাজার ৭০২ জন, ২০১১ সালে ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৬২ জন, ২০১২ সালে ৬ লাখ ৭ হাজার ৭৯৬ জন, ২০১৩ সালে ৪ লাখ ৯ হাজার ২৫৩ জন এবং সদ্য সমাপ্ত ২০১৪ সালে ৪ লাখ ২৫ হাজার ৬৮৪ জন কর্মী রফতানি হয়। অর্থাৎ গত ৫ বছরের মধ্যে ২০১২ সালে সর্বোচ্চ সংখ্যক কর্মী রফতানি হয়।

বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে বাংলাদেশের কর্মীদের চাহিদা বেশি থাকায় ওইসব দেশে বেশি সংখ্যক কর্মী রফতানি হয়ে থাকে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিরাজ করায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী রফতানি আশঙ্কাজনক হারে কমে যায়। যার প্রভাব পড়ে মোট জনশক্তি রফতানির ওপর।’

তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকেও কর্মীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীল দেশগুলোতে কর্মী রফতানিতে রক্ষণশীল ভূমিকা নেয়া হয়। ফলে ওইসব দেশে কর্মী রফতানি কম হয়েছে।

এ ছাড়া, সৌদিআরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে আকামা জটিলতার কারণে দেশ দুটিতে কর্মী রফতানি কম হয়েছে। লিবিয়ার রাজনৈতিক অবস্থার কারণে দেশটিতে কর্মী রফতানি অর্ধেকে নেমে এসেছে। এরপরও ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৪ সালে জনশক্তি রফতানি কিছুটা বেড়েছে।’

গত বছরে জনশক্তি রফতানির দেশভিত্তিক পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০১৪ সালে সৌদি আরবে রফতানি হয়েছে ১০ হাজার ৬৫৭ জন। এর আগের বছরের তুলনায় যা কমেছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০১৩ সালে কর্মী রফতানি হয়েছিল ১৪ হাজার ২৪১ জন। আর গত বছর তা বেড়ে হয়েছে ২৪ হাজার ২৩২ জন কর্মী। গত কয়েক বছর ধরেই কুয়েতে বাংলাদেশী কর্মী রফতানি অনেকটা বন্ধ ছিল। দেশটিতে ২০১৩ সালে মাত্র ৬ জন কর্মী রফতানি হয়েছিল। আর ২০১৪ সালে হয়েছে ৩ হাজার ৯৪ জন। ওমানে কর্মী রফতানি সামান্য কমেছে। দেশটিতে ২০১৩ সালে কর্মী রফতানি হয়েছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ২৮ জন। আর ২০১৪ সালে তা হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৭৪৮ জন।

তবে কাতারে কর্মী রফতানি বেড়েছে। ২০১৩ সালে দেশটিতে রফতানি হয়েছিল ৫৭ হাজার ৫৮৪ জন। আর ২০১৪ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৮৭ হাজার ৫৭৫ জন কর্মী। বাহরাইনেও সামান্য কমেছে। দেশটিতে ২০১৩ সালে রফতানি হয়েছিল ২৫ হাজার ১৫৫ জন। ২০১৪ সালে তা হয়েছে ২৩ হাজার ৩৭৮ জন। ২০১৩ সালের চেয়ে ২০১৪ সালে লেবাননে কর্মী রফতানি সামান্য বেড়েছে।

২০১৩ সালে সে দেশে রফতানি হয়েছিল ১৫ হাজার ৯৮ জন। আর ২০১৪ সালে হয়েছে ১৬ হাজার ৬৪০ জন। জর্ডানে ২০১৩ সালে রফতানি হয়েছিল ২১ হাজার ২৮৩ জন আর ২০১৪ সালে তা হয়েছে ২০ হাজার ৩৩৮ জন। মালয়েশিয়ায় বেসরকারিখাতে জনশক্তি রফতানি বন্ধ আছে। দেশটিতে গত কয়েক বছর ধরে সরকারি পর্যায়ে কর্মী রফতানি হচ্ছে। মালয়েশিয়ায় ২০১৩ সালে কর্মী রফতানি হয়েছে ৩ হাজার ৮৫৩ জন। আর এ বছরে তা হয়েছে ৫ হাজার ১৩৪ জন। সিঙ্গাপুরে ২০১৩ সালে কর্মী রফতানি হয়েছে ৬০ হাজার ৫৭ জন এবং ২০১৪ সালে হয়েছে ৫৪ হাজার ৭৫০ জন কর্মী।

প্রকাশিত : ১২ জানুয়ারী ২০১৫

১২/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: