কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ফ্রান্সে সর্বস্তরের ১৫ লাখ মানুষের সংহতি সমাবেশ

প্রকাশিত : ১২ জানুয়ারী ২০১৫
ফ্রান্সে সর্বস্তরের ১৫ লাখ মানুষের সংহতি সমাবেশ
  • ৪৪ দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের অংশগ্রহণ
  • ৪ দেশের রাস্তাও সরকারপ্রধানদের অংশগ্রহণ
  • ৪ দেশের রাষ্ট্রও সরকারপ্রধানদের অংশগ্রহণ

নাজিম মাহমুদ ॥ ফ্রান্সে তিন দফা সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণে রবিবার আয়োজিত সংহতি সমাবেশে প্রায় ১৫ লাখ সাধারণ মানুষ এবং ৪০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান যোগ দেন। বৈরী আবহাওয়া এবং বৃষ্টি উপেক্ষা করে ওই দিন স্থানীয় সময় বিকেল তিনটায় প্যারিসের ‘প্লেস দ্য লা রিপাবলিক’-এ আয়োজিত ওই সমাবেশে ফ্রান্সসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশ এবং বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা নানা ধর্ম এবং বর্ণের লোকজন নিহতদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে। খবর বিবিসি, এএফপি, আল জাজিরা ও ডন অনলাইনের।

সমাবেশে একাধিক মুসলিম দেশের সরকার প্রধানও যোগ দেন। সমাবেশে নেত্বত্ব দেন নিহত ১৭ জনের স্বজনরা। সমাবেশে যোগদান করা অনেকের বুকে ‘আমিই শার্লি’ লেখা ব্যানার দেখা যায়। তাদের প্রত্যেকেই জঙ্গীদের প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রদর্শন করে। সমাবেশ শুরুর আগে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। তারপর আগত বিশ্ব নেতারা একে অন্যের হাত ধরে সমাবেশের সূচনা করেন। এদের মধ্যে ছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, জার্মান চ্যান্সেলর এ্যাঞ্জেলা মেরকেল, ইতালির প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও রেনজি, জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন, তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ দাভুতোগলু, ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং ফিলিস্তিনী প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এবং মালির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম বুকাকার কেইটা।

আর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির এ্যাটর্নি জেনারেল এরিক হোল্ডার এই সমাবেশে প্রতিনিধিত্ব করেন। এর আগে ফরাসি প্রতিরক্ষা মন্ত্রিদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন।

সমাবেশ উপলক্ষে প্যারিস ও এর আশপাশের অঞ্চলসহ সর্বোপরি ফ্রান্সজুড়ে নেয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এলিট বাহিনীর সদস্যসহ সমাবেশের আশপাশের ছাদে দুই হাজার অতিরিক্ত পুলিশ এবং ১ হাজার ৫০ জন সেনা মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তার কথা ভেবে দুই ভাগে এই সমাবেশ করা হয়। উভয় সমাবেশই প্যারিসের ‘প্লেস দ্য লা রিপাবলিক’-এ এসে শেষ হয়। এ সময় সবাই ‘স্বাধীনতা’ এবং শার্লি নাম বলতে থাকে। অনেকে আবার ফরাসি পতাকা বহন করে এবং এবং জাতীয় সঙ্গীত গায়। একই দিন প্যারিস ছাড়াও অন্যান্য শহরেও একই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এসব শহরের সমাবেশেও প্রায় ৬ লাখ লোক অংশ নেয়। ফ্রান্সের সর্বাধিক মুসলিম জনসংখ্যার শহর মার্সেলিতেও এ ধরনের সমাবেশ হয় বলে শহরটির মেয়র শামিয়া ঘালি জানান। ফ্রান্স ছাড়াও রবিবার লন্ডন, মাদ্রিদ, কায়রো, সিডনি এবং টোকিওতে সংহতি সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

গত কয়েক দিন প্যারিসের রম্য সাময়িকী শার্লি হেবদো কার্যালয়সহ অন্যান্য জায়গায় চালানো সন্ত্রাসী হামলায় এই ১৭ জন নিহত হয়।

সমাবেশের শুরুর আগে ফরাসী প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ বলেন, আজ সারাদেশ জেগে উঠেছে। প্যারিস আজ বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এর আগে ফ্রান্সের ইহুদি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এদিকে এই সমাবেশ শুরুর আগে এক আইএস জঙ্গী শার্লি হেবদো কার্যালয়ে হামলার দায় স্বীকার করে। এই জঙ্গির নাম আমোদি কুলিবালি।

আইভরিকোস্ট থেকে আসা লেজিনা তোরে নামের এক ফরাসী মুসলিম রবিবারের ওই সমাবেশে যোগ দেয়। প্লেস দ্য লা রিপাবলিক চত্বরে ১৭টি মোমবাতি জ্বালিয়ে নিহতদের স্মরণ করেন তিনি। এ সময় তার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। লেজিনা তোরের মতো হাজার হাজার মুসলিম রবিবারের ওই সমাবেশে যোগ দেয়।

রবিবারের মতো শনিবারও দেশটির প্যারিস, অর্লিন্স, নিস, পাউ, তুলুজের মতো বড় বড় শহরে প্রায় ৭ লাখ মানুষ সংহতি মিছিলে যোগ দেয়।

বুধবার প্যারিসে শার্লি হেবদো কার্যালয়ে হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া তিনদিনের তাণ্ডবে সাংবাদিক, পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১৭ জন নিহত হন।

পরে পুলিশের গুলিতে তিন হামলাকারী নিহত হন। হামলাকারীদের সহযোগীদের খোঁজে ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। আসছে সপ্তাহগুলোতেও ফ্রান্সজুড়ে উচ্চ সতর্কাবস্থা জারি থাকবে বলে জানিয়েছেন ফরাসী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্নাড ক্যাজনভ।

দুই ভাই শেরিফ কোওয়াচি ও সাইদ কোওয়াচি শার্লি হেবদো কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে আট সাংবাদিক ও দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১২ জনকে হত্যা করেন। হামলায় আহত হন আরও ১১ জন।

এর পর শুক্রবার আরেক হামলাকারী আমেদি কুলিবালি প্যারিসে ক্যাশার নামের একটি সুপার মার্কেটে কয়েকজনকে জিম্মি করেন। পরে এখানে চার জিম্মিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এর আগে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ প্যারিসে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছিলেন, কুলিবালিই তাকে হত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশকে রক্ষার জন্য সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাজনভ। এই সমাবেশের নিরাপত্তার জন্য প্যারিসের ছাদে ছাদে স্নাইপার মোতায়েনসহ ৫,৫০০ পুলিশ ও সেনা মোতায়েন করে ‘নজিরবিহীন নিরাপত্তা’ পদক্ষেপ নেয়া হয় বলে জানিয়েছেন কাজনভ।

প্রকাশিত : ১২ জানুয়ারী ২০১৫

১২/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: