মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

নতুন জাতের তুলার আবাদ নিয়ে সংশয় চাষীদের

প্রকাশিত : ১০ জানুয়ারী ২০১৫

ইফতেখারুল অনুপম, টাঙ্গাইল থেকে ॥ টাঙ্গাইলের গোপালপুরসহ ৬টি উপজেলায় এবার নতুন জাতের তুলার আবাদ হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে তুলা সংগ্রহ শুরুও হয়েছে। তবে দাম নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন চাষীরা। আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দাম কমে যাওয়ায় চাষীরা তাদের কষ্টার্জিত এ অর্থকরী ফসলের ন্যায্যমূল্য পাবে না বলে আশঙ্কা করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টাঙ্গাইলের মধুপুর, ধনবাড়ি, ঘাটাইল, সখীপুর, দেলদুয়ার ও নাগরপুর উপজেলায় তুলার আবাদ হয়ে থাকে। ১৯৮৩ সালে প্রথম মধুপুর উপজেলার গড় এলাকায় তুলার আবাদ শুরু হয়। পরে এর চাষ ঘাটাইল, সখীপুর, ধনবাড়ি, দেলদুয়ার ও নাগরপুর উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ে। দুই বছর ধরে গোপালপুর উপজেলায় স্বল্প পরিমাণে তুলার আবাদ হচ্ছে। প্রথমে ধোপাকান্দি ইউনিয়নের সাজানপুর এবং পরে নগদাশিমলা ইউনিয়নের উত্তর পাথালিয়া গ্রামে তুলার চাষ শুরু হয়। তুলা উন্নয়ন বোর্ড ময়মনসিংহ জোনের আওতায় মধুপুর, ধনবাড়ি, ঘাটাইল ও সখীপুর এবং ঢাকা জোনের আওতায় দেলদুয়ার ও নাগরপুর উপজেলায় তুলার আবাদ তত্ত্ব¡াবধান করছে। তুলা চাষে ব্যাংক ঋণ জোটে না। সামান্য বিভাগীয় ঋণই ভরসা। পানি জমে না এমন উঁচু এবং ছায়ামুক্ত জমি তুলা চাষের উপযোগী। খরা না হলে তুলা জমিতে খুব একটা সেচ লাগে না। এজন্য মধুপুর গড় এলাকা তুলা চাষের খুবই উপযোগী। নব্বইয়ের দশকে তুলা উন্নয়ন বোর্ড চাষীদের দিয়ে ডেল্টাপাইন জাতের তুলার আবাদ করাত। তিন বছর আগে হাইব্রিড জাতের তুলা চাষের প্রবণতা দেখা দেয়। বিভিন্ন বেসরকারী কোম্পানি চীন থেকে আমদানি করা হাইব্রিড বীজ চাষীদের মধ্যে বিক্রি শুরু করে। এক কেজি হাইব্রিড বীজের দাম পড়ে আড়াই হাজার টাকা। ফলন বেশি হলেও স্পর্শকাতর হওয়ায় হাইব্রিড তুলা আবাদে কিছু অসুবিধাও রয়েছে। যেমন বীজের দাম দশগুণ বেশি। সার, সেচ ও পরিচর্যা লাগে তিন গুণ। পাকার পর বোল তাড়াতাড়ি ফেটে যাওয়ায় সংগ্রহে বিপত্তি ঘটে। কোন কারণে তুলার বাজারদর কমে গেলে কয়েকগুণ লোকসান গুনতে হয়। এ সমস্যা নিরসনের জন্য তুলা উন্নয়ন বোর্ড নিজস্ব গবেষণা কেন্দ্র থেকে এবার সিবি-১৩ এবং সিবি-১৪ দুটি নতুন জাতের উচ্চ ফলনশীল তুলা বীজ উদ্ভাবন করেছে।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নিজস্ব খামারে পরীক্ষামূলক আবাদের পর তুলা উন্নয়ন বোর্ড এ দুটি জাত তৃণমূল পর্যায়ে চাষীদের মধ্যে বিস্তার ঘটায়। ধনবাড়ি ইউনিটের আওতায় পীরগাছা, মমিনপুর, ভবানি টেকি, বাড়ইপাড়া, পাথালিয়া, চালাষ এবং গোপালপুর উপজেলার সাজনপুর ও পাথালিয়া গ্রামে সিবি-১৪ জাতের আবাদ করা হয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, হাইব্রিডের চেয়ে সিবি-১৪ জাতের ফলন আশাব্যঞ্জক। পাথালিয়া গ্রামের তুলা চাষী বিকাশ চন্দ্র তন্ত্রী আড়াই একরে তিনটি পৃথক প্লটে হাইব্রিড, সিবি-১৪, ১১ ও ১২ জাতের আবাদ করেছেন। এর মধ্যে সিবি-১৪ জাতের ফলণ আশাতীত। এ জাতের প্রতিটি গাছে ৬০/৬৫টি করে বোল রয়েছে। পক্ষান্তরে হাইব্রিডে এবং সিবি-১১ ও ১২ জাতে ৪০/৫০টি করে বোল রয়েছে। সিবি-১৪ জাতের বোলের গড় ওজন ৪৭ গ্রাম। সে হিসাবে বিঘা প্রতি ফলন ১০/১২মণ। হাইব্রিডের চেয়ে সিবি-১৪ জাতের বোল বড় এবং সংখ্যায় বেশি। আবাদে খরচও কম। বীজের দাম কেজি ২০/২৫ টাকা। এ জাতে শুংগা কম। ফলধারী শাখা বেশি। বোল পঁচা রোগ এবং জ্যাসিড় পোকার উপদ্রব কম। ফলে কীটনাশক বাবদ খরচ লাগে না।

এ বিষয়ে ধনবাড়ি ইউনিট অফিসার আব্দুল লতিফ জানান, সিবি-১৪ জাত নিয়ে চাষীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ পরিলক্ষিত হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, সম্প্রতি ময়মনসিংহ জোনের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান মধুপুর উপজেলার পীরগাছা ব্লকের মাঠ দিবসে চাষী করিম সরকার, আবু তালেব ভূইয়া এবং নাজিম উদ্দীন ভূইয়ার তুলা ক্ষেত পরিদর্শন করে সিবি-১৪ জাতের ফলন দেখে বিস্মিত হন। এবার ময়মনসিংহ ও ঢাকা জোনের আওতায় টাঙ্গাইল জেলার ৬টি উপজেলায় প্রায় তিন হাজার একরে তুলার আবাদ হয়েছে। গত বছর তুলার সংগ্রহ মূল্য ছিল প্রতি মণ ২৫২০ টাকা থেকে ২৬০০ টাকা। এবার আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দর কমে যাওয়ায় দেশেও তুলার সংগ্রহ মূল্য কমে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রকাশিত : ১০ জানুয়ারী ২০১৫

১০/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: