আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ই-বর্জ্য নিয়ে আতঙ্ক

প্রকাশিত : ১০ জানুয়ারী ২০১৫
  • রেজা নওফল হায়দার

নষ্ট হয়ে যাওয়া পিসিটা হাজার চেষ্টা করেও ঠিক করতে পারল না নাবিদ। বেশকিছু যন্ত্র পরিবর্তন করে মোটামুটি একটা কাঠামো দাঁড় করানো গেল। কিন্তু ফেলতে হলো বেশকিছু জিনিস। নাবিদ যেখানে তার পিসিটা ঠিক করছিল, সেখানে সে দেখতে পেল ক্ষুদ্র একটি স্তূপ। টোনার, ব্যাটারি, নষ্ট কিবোর্ড, মাউস, কেসিং আরও কত কী। এলিফ্যান্ট রোডের বিভিন্ন সার্ভিসিং করা দোকানগুলোতে এ রকম স্তূপ চোখে ধরা পড়বে হরহামেশাই।

ই-বর্জ্য নাম করা হয়েছে এই ফেলে দেয়া যন্ত্রগুলোর। পরিবেশের জন্য কতখানি ভয়ঙ্কর। ই-বর্জ্য থেকে কতখানি রেডিয়েশন বের হয় সেটা পরিমাপ করার যন্ত্র এখনও দেশে আসেনি। তবে এটাই ঠিক যে পরিমাণ বর্জ্যবেষ্টিত এই দেশ সেটার দ্বারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ক্ষতির মাপ নিরূপণ করে ই-বর্জ্যরে দ্বারা কতখানি ক্ষতি

পরিবেশের হয়, সেটা মনে হয় এখনও বলার মতো পরিবেশ হয়নিÑ দেশের বেশকিছু প্রযুক্তিবিদ এমনটাই মনে করেন। কিন্তু উদ্বেগের কথা হলো এরই মধ্যে ই-বর্জ্যরে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আমাদের পরিবেশে।

আধুনিক এ সভ্যতায়, প্রযুক্তির হাত ধরে মানুষের জীবনে এসেছে গতি। বেড়েছে আস্থা, নির্ভুল হয়েছে হিসাব। কিন্তু সবকিছুরই ‘সাইড এফেক্ট’ আছে। ঠিক তেমনি প্রযুক্তি পণ্যগুলোরও রয়েছে সাইড এফেক্ট।

এমনকি বাড়িতে ইউজ করা ওয়াইফাই থেকেও আপনি নিরাপদ নন। এ প্রসঙ্গে দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল বলেছিলেন, মানুষের জ্ঞানের বৃদ্ধিই দুঃখবোধ বাড়াবে। এ কথাটা এখন আরও বেশি সত্যি যে, আজকের পৃথিবীর পরিবেশ বিপর্যয়ের নেপথ্যে মানুষের অধিক মাত্রায় আবিষ্কৃত প্রযুক্তিগত যন্ত্র ও যন্ত্রাংশের ব্যবহার দায়ী। একদিকে আবিষ্কার হচ্ছে নতুন প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি আর অন্যদিকে বাড়ছে পরিবেশগত ভিন্ন ভিন্ন মাত্রার দূষণ।

ইতোমধ্যেই পরিবেশগত দূষণে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, জলবায়ুতে দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক পরিবর্তন, শিল্প বিপ্লবোত্তর সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। জীবনযাত্রার পরিবর্তনের লক্ষ্যে প্রাত্যহিক জীবন বাড়ছে ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতির বিবিধ ব্যবহার ও প্রয়োগ। এ সব ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতির বিবিধ ব্যবহার ও প্রয়োগের মাধ্যমে সৃষ্ট হচ্ছে ইলেক্ট্রনিক আবর্জনা বা ইলেক্ট্রনিক বর্জ্য। আমরা সংক্ষেপে বলি ই-বর্জ্য।

ই-আবর্জনা হলো ব্যবহার অনুপযোগী ও পরিত্যক্ত ইলেক্ট্রনিক যন্ত্র বা যন্ত্রাংশ ও যন্ত্রপাতিসমূহ। অকেজো ইলেক্ট্রনিক যন্ত্র বা যন্ত্রাংশ ও যন্ত্রপাতিসমূহ যখন ময়লা ও আবর্জনা সংরক্ষণাগারে বর্জ্য পদার্থ হিসেবে ফেলে রাখা হয় সেগুলোই ই-আবর্জনা। এই ই-আবর্জনা হলো অকেজো কম্পিউটার, টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর, মোবাইল ফোনসেট, ভিসিআর, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, কেমিক্যাল (টোনার থেকে নির্গত কালি), ব্যাটারি, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স কাজে ব্যবহারকৃতÑ তার, খ- খ- প্লাস্টিক ও আরও অনেক কিছু।

ই-বর্জ্যরে ভয়াবহ প্রভাব হলো এটা মাটির সঙ্গে মেশে না। বরং এ সব বস্তু থেকে নির্গত তেজষ্ক্রিয় রশ্মি থেকে ক্ষতির পরিমাণ অনেক। বেসেল এ্যাকশন নেটওয়ার্ক বিশ্বব্যাপী ৫০০ মিলিয়ন কম্পিউটারে ২.৮৭ বিলিয়ন কিলোগ্রাম প্লাস্টিক ৭১৬.৭ মিলিয়ন কিলোগ্রাম সিসা এবং ২৮৬৭০০ কিলোগ্রাম মারকারি উদ্ধার করেন। কম্পিউটার চিপ গলানোর ফলে মাটির অম্লতা বেড়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ হংকংয়ের গুইড নামক স্থানে অবৈধভাবে ই-আবর্জনা রিসাইক্লিংয়ের ফলে পানি সঙ্কটের সৃষ্টি হয়। সর্বোপরি বায়ু-মাটি-পানি ভূ-গর্ভস্থ পানিকে দূষিত করে পানি সঙ্কটসহ প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। বর্তমানে ই-আবর্জনার বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ ই-আবর্জনা ক্ষেত্রে পুরনো জাহাজভাঙ্গা শিল্প বর্জ্যরে প্রভাব বেশি। বিগত কয়েক বছর যাবত বাংলাদেশে পরিবেশ আইনজীবী সংস্থা শিল্প বর্জ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্যাম্পেন করে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বেসেল কনভেনশনও স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। আর তাতে শর্তানুযায়ী সরকারের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সেই কনভেনশনে স্বাক্ষর করার পর জাতীয় ই-আবর্জনা ব্যবস্থাপনা বিষয়ক নীতিমালা তৈরি করছে।

প্রকাশিত : ১০ জানুয়ারী ২০১৫

১০/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: