রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ছোটনের ভূতো বন্ধু

প্রকাশিত : ১০ জানুয়ারী ২০১৫
  • চয়ন বিকাশ ভদ্র

গ্রামের ভেতর সবুজ মাঠ। মাঠের পাশে ছোট এক নদী। নদীর ধারে বিশাল এক বট গাছ। বটগাছের ডালে এক ভূতের বাসা। ভূত হলে কি হবে সে কারও ক্ষতি করে না।

বাসায় একা থাকে এই ভূত। অন্য ভূতেরা যা করে সে তার উল্টো। রাতের বেলায় বট গাছের ডালে ঘুমায়। আর দিনের বেলায় মাঠে ঘাটে ঘুরে বেড়ায়। কখনও পাখি হয়ে উড়ে এই ভূত, কখনও বেড়াল হয়ে মিউমিউ করে, কখনও কুকুর হয়ে করে ঘেউ ঘেউ। কখনও হয়ে যায় সাদা চুলের এক বুড়ো।

গ্রামের ছেলে ছোটন। নদীতে মাছ ধরতে যায় বাবার সঙ্গে। মাছ ধরা শেষে বিশ্রাম নেয় ওই বট গাছের নিচে। তারপর বাড়ি ফিরে যায় বাবার সঙ্গে। বাড়িতে গিয়ে গোসল সারে। স্কুলে যাবার জন্য তৈরি হয়। মা ভাত বেড়ে দেয়। ভাত খেয়ে ছোটন মাঠের পাশ দিয়ে, ছোট নদীর সাঁকো পার হয়ে বট গাছের পাশ দিয়ে স্কুলে যায়।

হঠাৎ বট গাছ থেকে মিউমিউ করে নেমে আসে এক বিড়াল। বিড়ালের রং সাদা। সাদা বিড়ালটি ছুটতে ছুটতে ছোটনের কাছে চলে আসে। সাদা বিড়াল দেখে ছোটন অবাক হয়, ভয় পায়। বিড়ালটাকে তাড়া করতে যাবে হঠাৎ ছোটন দেখে বিড়াল নেই। পায়ের কাছে বসে আছে কাক। কাকটি কা কা করে উড়তে উড়তে বিশাল বটগাছের এক ডালে গিয়ে বসে।

ছোটন তাকিয়ে থাকে কাকের দিকে। হঠাৎ দেখে বট গাছের ডালে বসে থাকা কাকটিও নেই। তার পিলে চমকে যাবার মতো অবস্থা। পেছন থেকে নাকি সুরে এক বুড়ো ডাক দেয়, ছোঁটন, এঁই ছোঁটন, ভঁয় পেয়োঁনা আঁমি তোমাঁর বঁন্ধু হঁতে চাঁই।

ভূতেরাই তো নাকি সুরে কথা বলে ছোটনের ভয় লাগে। সে বলে, তুমি আমার নাম জানলে কি করে? বুড়ো বলে আমি তোমাকে চিনি, তুমি বাবার সঙ্গে মাছ ধরতে এসে এই বট গাছের নিচে বিশ্রাম নাও, আর এই বট গাছের পাশ দিয়েই স্কুলে যাও। আমি সব জানি।

ছোটনের ভয় কেটে যায়।

ভূত বলে , ছোটন তোমাকেঁ আমিঁ খুবঁ পছন্দ করি। তোঁমার স্কুল ব্যাগটা পুঁরনো। তোঁমাকে একটা নতুঁন ব্যাগ এনে দিচ্ছি। ভূত আকাশে হাত তুলে। হাতে চলে আসে চমৎকার একটি স্কুলব্যাাগ। ভূত ব্যাগটি ছোটনকে দিয়ে দেয়। ছোটন ভূতকে বলে, আজ থেকে আমি তোমাকে ভূতো বলে ডাকবো।

ছোটন ব্যাগ পেয়ে খুব খুশি হয়। পুরনো বইগুলো নতুন ব্যাগে ভরে সে স্কুলে যায়। পুরনো ব্যাগটি সঙ্গে রেখে দেয়। তা না হলে মা জিজ্ঞাসা করবে ছোটন নতুন ব্যাগ কোথায় পেলো।

ছোটন প্রতিদিন মাঠের পাশ দিয়ে, ছোট নদীর সাঁকো পার হয়। বটগাছের পাশ দিয়ে স্কুলে যায়। আবার একই পথে বাড়ি ফিরে।

এভাবে দিন যায়, মাস যায়, বছর যায়। একদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ছোটন দেখে সাঁকোটি ভেঙ্গে গেছে। ভাবনায় পড়ে যায় ছোটন, ভূতোর কথা মনে হয়। এমন সময় পেছন থেকে ডাক শোনা যায়, ছোঁটন, এই ছোঁটন আসো আমার নৌকায়, আমি তোমাকে নদী পার করে দিচ্ছি। ছোটন তো অবাক। এইখানে এই নদীতে কোন নৌকা কোন দিন দেখেনি। পেছনে তাকিয়ে দেখে, এ যে তার ভূতো বন্ধু। সে তার পেছন পেছন নৌকায় গিয়ে বসে। ভূতো বুড়ো বৈঠা হাতে নেয়, ছোটনকে নদী পার করে দেয়।

আবার একদিন ছোটন গেছে নদীতে বাবার সঙ্গে মাছ ধরতে। কোন মাছই ধরা পড়ছে না। হঠাৎ তার কানের কাছে ফিসফিস শব্দ। ছোটন কাউকে দেখতে পাচ্ছে না। ফিসফিস শব্দ বলে, ছোঁটন, এই ছোঁটন, আঁমি তোমার ভূতোঁ বন্ধু। তুমি বটগাঁছের দিকটার নদীতে তোমার বাবাকে নিয়ে যাও। অনেক মাছ পাবে। ছোটন তাই করে।

অনেক মাছ ধরা পড়ে সেদিন।

নদীতে নতুন সাঁকো তৈরি হয়েছে। সাঁকো পেরিয়ে ছোটন স্কুলে যাওয়া-আসা করে। একদিন ছোটন দেখে, নদীর ধারে সেই বট গাছটি নেই। গাছটি কেটে ফেলা হয়েছে। ছোটন ডাক দেয়, ভূতো, এই ভূতো, তুমি কোথায়?

ভূতো সাড়া দেয় না, কাছেও আসে না। বট গাছই তো নেই। ভূতো থাকবে কোথায়? ছোটনের কান্না পায়। কাঁদতে থাকে। মার ডাক শোনা যায়, ‘ছোটন, কি হয়েছে? কাঁদছো কেন?’ সকাল হয়ে গেছে, ঘুম থেকে উঠো। স্কুলে যেতে হবে না?’

ছোটনের ঘুম ভেঙে যায়। সে কি তাহলে এতক্ষণ স্বপ্ন দেখছিল!

অলঙ্করণ : সোহেল আশরাফ

প্রকাশিত : ১০ জানুয়ারী ২০১৫

১০/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: