আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

অবরোধে দূরপাল্লার বাস চলাচলও স্বাভাবিক

প্রকাশিত : ১০ জানুয়ারী ২০১৫
  • ট্রেন লঞ্চও চলছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা দেশব্যাপী টানা অবরোধের কবল থেকে রক্ষা পায়নি সমস্ত বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম সম্মেলন বিশ্ব এজতেমার শুরুর দিনও। যদিও রাজধানীতে অবরোধের ছিটেফোঁটা প্রভাবও পড়েনি। রাস্তায় যানবাহনের চলাচল ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। মানুষজন অন্যান্য শুক্রবারের মতো স্বাভাবিক কাজ কর্ম করেছেন। তবে শুধু গুলশানের শাহজাদপুরে অবরোধের সমর্থনে একটি ঝটিকা মিছিল হয়েছে। গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ থেকে দূরপাল্লার বাসের চলাচলও ছিল অনেকটাই স্বাভাবিক। নিয়মিত ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল করেছে।

শুক্রবার দুপুর সাড়ে বারোটায় গুলশান থানাধীন শাহজাদপুর এলাকায় অবরোধের সমর্থনে ঝটিকা মিছিল করে ১০ থেকে ১৫ জন। মিছিলকারীরা রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। এ সময় মিছিলকারীরা দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। মিছিলকারীরা একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের ধাওয়ার মুখে তারা চালিয়ে যায়। পুলিশ দুজনকে আটক করেছে।

এদিকে শুক্রবার সকাল থেকেই মহাখালী, গাবতলী ও সায়েদাবাস বাস টার্মিনালের প্রতিটি যাত্রীবাহী বাসের কাউন্টার খোলা ছিল। যাত্রীর চাপও ছিল যথেষ্ট। অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিকভাবে বাস ছেড়ে গেছে। তবে বাস ছাড়ার ক্ষেত্রে সময়ের হেরফের হয়েছে। কোন কোন বাসকে যাত্রী পরিপূর্ণ হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই ছাড়তে হয়েছে। আবার কোন কোন বাসে যাত্রীর সংখ্যা কম হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের পরে ছাড়তে হয়েছে। তবে নিয়মিত বাস যাতায়াত করতে দেখা গেছে। এছাড়া রাজধানীতে গণপরিবহনের চলাচল ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। ঢাকা থেকে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, কালিয়াকৈর, চন্দ্রা, ইপিজেড, মাওয়া, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, সোনারগাঁও, মানিকগঞ্জ, আরিচা, দৌলদিয়া, পাটুরিয়াসহ আশপাশের স্থানগুলোতে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচল ছিল স্বাভাবিক। রাস্তায় কোন প্রকার ঝামেলাও ছিল না।

অনেক আগ থেকেই গত ৫ জানুয়ারি সরকারের বিদায় ঘণ্টা বাজানোর হুমকি দিয়ে আসছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। ওই দিন ব্যাপক নাশকতার আশঙ্কায় সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। নিষিদ্ধ করা হয় সব সভা সমাবেশ। মহাসমাবেশ করতে ব্যর্থ হয়ে গত ৬ জানুয়ারি থেকে সারাদেশে লাগাতার অবরোধ কর্মসূচী ঘোষণা করেন খালেদা জিয়া। অবরোধের প্রথম দিন মঙ্গলবার সারাদেশে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে চারজনের মৃত্যু হয়। আহত হয় দেড়শতাধিক। দ্বিতীয় দিন থেকেই অবরোধ স্বাভাবিক হতে থাকে। তবে ওইদিন সারাদেশে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, যানবাহন ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সারাদেশে দূরপাল্লার বাস যাতায়াত ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল বিঘিœত হয়। তবে অবরোধের শুরু থেকেই রাজধানীতে তেমন কোন প্রভাব পড়েনি। শুধু অবরোধের প্রথম দুদিন মহাখালী, গাবতলী ও সায়েদাবাদ থেকে দূরপাল্লার বাস যাতায়াত করেনি। তবে বৃহস্পতিবার থেকেই বাস চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক হতে থাকে।

এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার রাজধানীর বনানী থানা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সর্বশক্তি দিয়ে দেশবাসী ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির দফতর বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

প্রকাশিত : ১০ জানুয়ারী ২০১৫

১০/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: