মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

সেরা ৬ মজার ঘটনা

প্রকাশিত : ৯ জানুয়ারী ২০১৫
  • ডাইনি অভিযোগে বরখাস্ত

জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে গত সেপ্টেম্বর মাসে দীর্ঘ দশ বছর ধরে দায়িত্ব থাকা ভাইস প্রেসিডেন্ট জয়েস মুজুরেকে বরখাস্ত করেন। বরখাস্ত করার সময় মুগাবে তাকে ‘ডাইনি’ বলে সম্বোধন করেন। প্রেসিডেন্টকে হত্যার জন্য মুজুরে যাদুটোনার আশ্রয় নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছিল। সরকারী রেডিওতে দেয়া এক বিবৃতিতে ৯০ বছর বয়সী মুগাবে বলেন, ‘এই ডাইনি তার যাদুবিদ্যা দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করেছে। স্বয়ং ঈশ্বরও তাকে ভয় পায়।’

তৃতীয় বিশ্বের একজন সরকার প্রধান যে কোন কর্মকর্তাকে যে কোন সময় বাদ দিতে পারেন। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিশ্বে ‘ডাইনিচর্চার’ জন্য কোন ভাইস প্রেসিডেন্টকে বরখাস্ত করার এটিই সম্ভবত প্রথম ঘটনা। মুজুরে হচ্ছেন জিম্বাবুয়ের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট, যিনি বরখাস্ত হলেন। তার আগের চার ভাইস প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় মারা যান।

পায়রা কাহিনী

পয়েলা অক্টোবর সাড়ম্বরে পালিত হয়েছে চীনের জাতীয় দিবস। অনুষ্ঠানটির সূচনা হয়েছিল কয়েক হাজার পায়রা ওড়ানোর মধ্য দিয়ে। এর আগে এই পাখিগুলোকে নিয়ে চীনা সরকার যেসব কাণ্ড করেছে, তা অনেকেরই হাসির খোরাক যুগিয়েছে। বেইজিংয়ের স্থানীয় চার পায়রা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল দশ হাজার পায়রা। এক একটি পায়রার জন্য তাদের দেয়া হয়েছিল চীনা মুদ্রায় ৪ ইয়েন (৬৫ সেন্ট)। এরপর পায়রাগুলোকে দেয়া হয় প্রশিক্ষণ। দীর্ঘ ছয় মাসেরও বেশি সময় চলে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। ওড়ানোর আগেই ঘটে বিপত্তি। প্রশ্ন ওঠে ওড়ানোর জন্য এগুলো সম্পূর্ণ নিরাপদ তো? এগুলোর গায়ে কোনও বিস্ফোরকজুড়ে দেয়া হযনি তো? এরপরই শুরু হয় পায়রাগুলোর দেহ তল্লাশি। অনুষ্ঠানের আগের দিন পাখিগুলোর লেজ, ডানা, পা এবং গুহ্যদ্বার খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হয়। সে এক মহাযজ্ঞ! এরপর প্রতিটির গায়ে আবার পুশ করা হয় বার্ড ফ্লু রোগের প্রতিষেধক। সকল আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি শেষ হতেই চারটি ট্রাকে করে এদেরকে তিয়েনমেন স্কয়ারে নিয়ে আসা হয়। পয়েলা অক্টোবর সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে উত্তোলিত হতে থাকে চীনা পতাকা। পাশাপাশি আকাশে উড়িয়ে দেয়া হয় প্রশিক্ষিত পায়রাগুলো। কিন্তু উড়ানোর মাত্র দশ মিনিটের মধ্যেই সেগুলো নিজেদের মালিকের কাছেই ফিরে আসে। এরপরই পায়রাগুলোর প্রশিক্ষণ নিয়ে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।

টেবিলের ধাক্কায় দৃষ্টি ফেরত

চোখের সামান্য অসুখ সারাতে লোকজন কত কি করে। সেখানে স্রেফ টেবিলের ধাক্কায় দৃষ্টিশক্তি ফেরত! এ যে রুপকথাকেও হার মানাল। অবিশ্বাস্য মনে হলেও ঘটনা সত্য। ১৯৮৭ সালে দৃষ্টি হারিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের লিসা রেইড। তখন তিনি ১১ বছরের বালিকা। এরপর এক দশকেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে।

দু’হাজর সালের ১৫ নবেম্বর। তখন লিসা ২৪ বছরের যুবতী। রাতে শুতে যাওয়ার আগে অভ্যাসবশত প্রিয় কুকুরটিকে আদর করতে গেছেন। ওকে চুমু খাওয়ার জন্য মুখটা নিচু করেছেন। সঙ্গে সঙ্গে কফি টেবিলের সঙ্গে সজোরে ঠুকে গেল মাথাটা। কী আর করা। ব্যথা নিয়েই গেলেন ঘুমুতে। পরদিন সকালে ঘুম থেকে জেগে দেখেন তার চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরে এসেছে। মানে তিনি সবই দেখতে পাচ্ছেন। একটা ধাক্কা তার হারানো দৃষ্টি ফিরিয়ে দিয়েছে। একে মিরাকল বললেও কম বলা হয়। নিউজিল্যান্ডের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এখনও এর কারণ খুঁজে বের করতে পারেননি।

গত ১৬ নবেম্বর ছিল তার দৃষ্টি ফিরে পাওয়ার ১৪তম বার্ষিকী। বিশেষ এ দিনকে ঘটা করেই উদ্যাপন করেছেন ৩৮ বছর বয়সী লিসা রেইড। এ সম্পর্কে স্থানীয় এক পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনা বর্ণনা করার মতো ভাষা আমার জানা নেই। এই সুন্দর পৃথিবীকে আবার দেখতে পাওয়া আমার জন্য ঈশ্বরের উপহারস্বরূপ।’

প্যান্টে লুকানো ৫১ কচ্ছপ

গত বছরের মাঝামাঝি কানাডা সীমান্তে প্রবেশের সময় ৫১টি জীবিত কচ্ছপসহ ধরা পড়েছিলেন কাই ঝু। এই কানাডীয় নাগরিক যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবৈধভাবে এগুলো পাচার করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কাই ঝু যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট থেকে কানাডার উইন্ডসর যাওয়ার পথে কানাডীয় সীমান্ত রক্ষীদের হাতে আটক হন। প্রথমবার তল্লাশি শেষে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তার প্যান্টের সাইজ দেখে এক কর্মকর্তার সন্দেহ হয়। দ্বিতীয়বার তল্লাশি চালিয়ে তার প্যান্ট এবং গোপন স্থান থেকে বের করা হয় ৫১টি জীবিত কচ্ছপ। ছোট আকারের এ কচ্ছপগুলো তিনি বেশ কসরৎ করে টেপ দিয়ে আটকে নিয়েছিলেন নিজের দুই পা এবং ঊরুসন্ধির সঙ্গে। এ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের মৎস্য এবং বন্যপ্রাণী বিভাগের কর্মকর্তা কেনেথ এ্যাডামস বলেন, ‘দ্বিতীয় দফা তল্লাশির সময় তার প্যান্টের ভিতর থেকে ৫১টি জীবিত কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়। ৪১টি কচ্ছপ নিজের দু’পায়ের সঙ্গে এবং বাকি ১০টি পায়ের মাঝখানে গোপনাঙ্গের ফাঁকে লুকিয়ে রেখেছিলেন।’ উদ্ধার শেষে এগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে কানাডা কর্তৃপক্ষ। ইস্টার্ন বক্স জাতের এ কচ্ছপগুলো অত্যন্ত মূল্যবান। এগুলোর এক একটির দাম ৮শ’ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৬৩ হাজার টাকা)। এ ঘটনায় টরেন্টোর বাসিন্দা ঝুয়ের সহযোগী লিহুয়া লিকেও আটক করা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল আদালতে তাদের বিচার শুরু হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে চোরাচালান, অবৈধ ব্যবসা এবং পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রত্যেকের দশ বছর করে জেল হবে।

জানা যায়, ডেট্রয়েট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছের এক হেটেলে ওঠেছিলেন ঝু। সেখানে তিনি দু’রাত কাটান। সেখানেই জন্তুগুলোকে প্যাকেটে ভরে তার পায়ের সঙ্গে টেপ দিয়ে ভালভাবে বেঁধে নেন।

প্রেমিক যখন কুকুর

গত ৮ এপ্রিল লন্ডনের রাস্তায় এক বিচিত্র জুটি দেখে চমকে উঠেছিলেন অনেকেই। সকাল সাড়ে আটটার দিকে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়েছেন এক স্মার্ট তরুণী। তার এক হাতে ধরা একটি কফি মগ। অন্য হাতে কুকুরের চেইন। কিন্তু ওই চেইনে কুকুরের বদলে বাঁধা রয়েছেন সুবেশী এক ভদ্রলোক। তিনি নারীটির পিছনে হামাগুঁড়ি দিচ্ছেন- ঠিক যেন এক প্রভুভক্ত কুকুর। কফি মগে আয়েশ করে চুমুক দিতে দিতে হাঁটছেন ওই সুন্দরী যুবতী। বাধ্য পশুর মতো তার পেছন পেছন হাঁটছেন থুক্কু হামাগুঁড়ি দিচ্ছেন প্রেমিক পুরুষটি। লন্ডনের ফারিনডন এলাকায় এ অদ্ভুত ঘটনাটি নিজের স্মার্টফোনে ভিডিও করেন এক পথচারী। পরে নিজের টুইটারে এটি ছেড়ে দেন। এরপর ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তখন সবার মুখে একটাই প্রশ্ন কে এই লোক, তিনি এভাবে মেয়েটির সঙ্গে যাচ্ছেন কেন? এসব প্রশ্নের কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। হতে পারে স্রেফ মজা করার জন্য তারা এমনটি করেছেন। এমনও তো হতে পারে তারা সত্যিকারের প্রেমিক- প্রেমিকা। প্রেমিকার মন রাখতে পুরুষরা কত কিছুই করেন। আর প্রেমিকাটি যদি সুন্দরী হয় তাহলে তো কথাই নেই!

ভালবাসার কঠিন ফাঁদে

গত জুনে জার্মানি ভ্রমণে গিয়েছিল এক মার্কিন ছাত্র। ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয় শহর তুবিনজেনের চিত্রকর্ম ঘুরে ঘুরে দেখছিলেন। দেখতে দেখতে খানিকটা বেখায়াল হয়ে যান। ফলে আটকা পড়েন ‘ভালবাসার’ কঠিন ফাঁদে, মানে বিশাল এক ভাস্কর্যের চিপায়। ভালবাসার ফাঁদ বলে কথা। সেখান থেকে বের হওয়া কি এতই সোজা! শেষে ডাকা হলো দমকল বাহিনী। একজন দু’জন নয়Ñ চারটি ট্রাক আর ২২ দমকল কর্মীর কঠিন পরিশ্রমের ফলেই না উদ্ধার পেলেন ওই তরুণ। গোটা ঘটনাটি ভিডিও করে ফেসবুকে ছেড়ে দেন তার এক বন্ধু। আর যায় কোথায়। এ ঘটনা স্বচোখে দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন হাজার হাজার মানুষ। ছাত্রটি আটকা পড়েছিলেন পেরুভিয়ার বিখ্যাত ভাস্কর ফার্নান্দো ডি লা জারার এক শিল্পকর্মে। তার তৈরি ওই ভাস্কর্যের নাম ‘পি চাচান’, ইংরেজীতে যার মানে হচ্ছে ‘মেকিং লাভ’। গত ১৩ বছর ধরে এটি দণ্ডায়মান রয়েছে তুবিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে। তবে পি চাচানের ফাঁকে আটকা পড়ার এটিই প্রথম ঘটনা।

বাংলা মেইল

প্রকাশিত : ৯ জানুয়ারী ২০১৫

০৯/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: