মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বাণিজ্যমেলায় খণ্ড কালীন পেশায় তরুণীরা

প্রকাশিত : ৯ জানুয়ারী ২০১৫

বিবিএ শেষ বর্ষের পরীক্ষা শেষ হয়েছে রাইনার। এখন রেজাল্টের জন্য অপেক্ষার পালা। মাঝে দু’তিন মাসের জন্য লেখাপড়া থেকে বিরতি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা নিয়েই সারাদিন ব্যস্ততায় কেটে যেত তার। এখন হঠাৎ অবসর পেয়ে সময় যেন কাটতেই চায় না। খ-কালীন কাজ করার কথা ভাবতে ভাবতেই একদিন বান্ধবী স্বর্ণার কাছ থেকেই জানতে পারল বাণিজ্যমেলায় কাজ করার কথা। কয়েকজন বান্ধবীর সঙ্গে গিয়ে একটি কোম্পানিতে সাক্ষাতকার দেন তিনি। কিছুদিন পরই কোম্পানি থেকে সেলস এক্সিকিউটিভ পদে তাকে নির্বাচিত হওয়ার কথা জানানো হয়। আর এ সুযোগ পেয়ে অনেক খুশি রাইনা। কাজের মাঝে কেটে যাবে একটা মাস। একেবারে নতুন এই কাজে শুধু অর্থই নয় পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক কাজের একটা অভিজ্ঞতার কথা ভেবে নিজেকে মানসিকভাবে তৈরি করেও নেন তিনি।

রাইনার মতো অনেক তরুণীই লেখাপড়ার ফাঁকে অর্থ উপার্জন ও অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় কাজ করছেন। মেলার স্টলগুলোয় খ- বা সারাদিনের জন্য ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। মাসব্যাপী কাজের জন্য ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মানজনক বেতন ভাতার ভিত্তিতে তাদের নিয়োগ দিচ্ছে। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান নারী কর্মীদের যানবাহন সুবিধার পাশাপাশি খাবারও সরবরাহ করছে। এসব সুবিধা প্রদানের একমাত্র উদ্দেশ্য যাতে তাদের নিয়োগকৃত কর্মীরা স্বচ্ছন্দে কাজ করতে পারে। আর এতসব সুবিধার মধ্য দিয়ে কর্মীরাও তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন।

একটি ইলেক্ট্রনিক্স কোম্পানির স্টলে কর্মরত আফরীন জানান, সেলস্্ অফিসার হিসেবে ক্রেতার সঙ্গে সরাসরি কাজ করার একদিকে যেমন চ্যালেঞ্জের অন্যদিকে এটি বেশ উপভোগ্যও। কেননা একজন ক্রেতাকে পণ্যের গুণগত মান সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেয়ার পাশাপাশি তাকে এ পণ্য ক্রয়ে আগ্রহী করে তোলা বেশ কঠিন। আবার অনেক সময় পণ্য সম্পর্কে ক্রেতাদের প্রশ্ন ও আগ্রহ আমাদের কাজের গুরুত্বটাকে মনে করিয়ে দেয়। আর বিক্রয়কর্মী হিসেবে এসবই আমরা উপভোগ করি।

প্রায় সব স্টলেই কমবেশী নারী বিক্রয়কর্মী চোখে পড়ে। তবে বিশেষ করে কসমেটিক্স, পোশাক ও গৃহসজ্জা, আসবাব, খাদ্যপণ্য সামগ্রী, জুয়েলারিসহ ইলেকট্রনিক্সের স্টলে পুরুষকর্মীর পাশাপাশি সমানসংখ্যক বা তারও বেশি নারী বিক্রয়কর্মী চোখে পড়ে।

এসব ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের বিপণন কর্মকর্তারা জানান, অধিকসংখ্যক নারী কর্মী রাখার সুবিধা হলো এতে নারী ক্রেতারা সহজেই তাদের পণ্য সম্পর্কে জানতে পারেন এবং তাদের সঙ্গে স্বচ্ছন্দে কথা বলে সঠিক পণ্য কিনতে পারেন আর এসব পদে নিয়োগ দেয়া তরুণীরা সবাই কোন না কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। তাই শিক্ষিত এ তরুণীরা সহজেই স্বল্প ট্রেনিংয়ে তাদের দায়িত্ব বুঝে নিতে পারে এবং নিজেদের কাজে দক্ষতার পরিচয় দিতে সচেষ্ট থাকে। এক সময় সেলস্্ টিমে মেয়েদের কাজ করার ব্যাপারে অনেকের নেতিবাচক ধারণা ছিল। কিন্তু বর্তমানে এ ধারণার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। শিক্ষিত এবং সচ্ছল পরিবারের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অনেক তরুণীই এখন এ পেশাকে সম্মানের চোখে দেখছেন। আর তাই লেখাপড়ার ফাঁকে খানিক সময় পেলেই এ ধরনের খ-কালীন কাজে নিজেদের নিয়োজিত করছে। লেখাপড়ার খরচ যোগানো কিংবা বাড়তি কিছু হাতখরচ পাবার পাশাপাশি চ্যালেঞ্জিং পেশার খানিক অভিজ্ঞতাও নিজেদের ঝুলিতে জমা করছে। যা ভবিষ্যতে চাকরি জীবনে প্রবেশে তাকে কিছুটা সহায়তা করবে বলেও অনেকে মনে করছে। চাকরি ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়েদের সমান প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হয়। তাই মেয়েরাও এখন এ পেশায় এগিয়েছে। আর কর্মক্ষেত্রে নারীর সততা ও নিষ্ঠার কথা বিবেচনা করে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোও নারীর জন্য কর্মক্ষেত্রের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি উন্নত কর্ম পরিবেশও নিশ্চিত করছে। আর এতে স্টলগুলোয় বাড়ছে ক্রেতা সমাগম। বাড়ছে কোম্পানির সেলস ভলিউমও। কর্মস্থলের পরিধি বাড়া আর উন্নত পরিবেশ সৃষ্টি ও পাশাপাশি সুযোগ-সুবিধা বাড়ার কারণে খ-কালীন পেশায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। আর এর ফলে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বাড়ছে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নও। যা সত্যিই উন্নয়নের পথে ইতিবাচক ইঙ্গিত প্রদান করে। এ ধারা অব্যাহত থাকুক এ প্রত্যাশা সবার।

সাবিনা ইয়াসমিন

প্রকাশিত : ৯ জানুয়ারী ২০১৫

০৯/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: