কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মেগা নয় প্রকল্পে দুর্নীতি বন্ধে সর্বোচ্চ সতর্কতা

প্রকাশিত : ৯ জানুয়ারী ২০১৫
  • তৈরি হচ্ছে বিশেষ মডালিটি

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন অনিয়ম ও দুর্নীতি মুক্ত চান প্রধানমন্ত্রী। এজন্য ফাস্ট ট্র্যাকের আওতায় থাকা প্রকল্পের দুর্নীতি ঠেকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয় এ প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নতুন বছরের শুরুতেই অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ফাস্ট ট্র্যাক প্রজেক্ট মনিটরিং কমিটির তৃতীয় বৈঠক। বৈঠকে আরও দুটি প্রকল্প ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পের আওতাভুক্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সরকারের এই অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো যথাসময়ে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

নতুন যে দুটি প্রকল্প এই ফাস্ট ট্র্যাক বা অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সেগুলো হলোÑ মাতার বাড়ি বিদ্যুত কেন্দ্র ও পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর। এর আগে পদ্মাসেতু, রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র, মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট (রামপাল), ঢাকা মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প (মেট্রোরেল), এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প ও কক্সবাজারের সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্প সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সবমিলিয়ে এখন সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের সংখ্যা ৯টিতে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন জনকণ্ঠকে বলেন, ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত প্রকল্পগুলোতে আরও দুটি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মনিটরিং কমিটির বৈঠকে প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় আলোচিত ও বড় প্রকল্পগুলোর কাজ এগিয়ে চলছে। মেগা প্রকল্পগুলো ফাস্ট ট্র্যাক মনিটরিং কমিটির আওতায় নিয়ে নিবিড় পরিচর্যার সুফল মিলছে। এসব প্রকল্পের গতি ফিরে আসার পর দুর্নীতি বিষয়টি নিয়ে ভাবছে সরকার। যাতে পদ্মাসেতুর মতো ঘটনা আবার ঘটার কোন সুযোগ সৃষ্টি না হয়। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বিশেষ মডালিটির খসড়া তৈরি করছে।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা একটি খসড়া প্রস্তুত করেছি। এর মাধ্যমে ক্রয় প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা আনা হবে। তবে এখনই সেটি চূড়ান্ত করা হয়নি। ফাস্ট ট্র্যাক প্রজেক্ট মনিটরিং কমিটির বৈঠকে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এ বৈঠকে অন্যান্য আলোচ্যসূচীর মধ্যে ছিলÑ ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত প্রকল্পসমূহের সর্বশেষ অগ্রগতি পর্যালোচনা, প্রকল্পের উন্নয়ন প্রস্তাব প্রণয়ন ও অনুমোদনে বিলম্ব বা ত্রুটি দূরীকরণে কর্মপন্থা নির্ধারণ বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা।

জানা যায়, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের প্রতি তিন মাস পর পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আন্তর্জাতিকভাবে কর্মপন্থা অনুযায়ী আর্থিক তথ্য পাঠানোর বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দিয়েছে সরকার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিষয়ে গুরুত্বসহকারে মনিটরিং চলছে। তিন দফা প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকও হয়েছে। এখন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চায় সরকার। যাতে পদ্মাসেতুর মতো কোন ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ না ওঠে। এসব দিক বিবেচনায় শুধু বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিষয় নয়, দুর্নীতি রোধে বিশেষ মডালিটি অনুযায়ী মনিটরিং করা হবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা বিভাগের সচিব ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম বলেন, দুর্নীতি রোধে নতুন মডালিটি একটি সিলেবাসের মতো। যা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় তৈরি করছে। এই গাইড লাইন অনুযায়ী আলোচিত বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। যাতে কোন ধরনের অনিয়মের ঘটনা না ঘটে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) উর্ধতন কর্মকর্তারা বলছেন, ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত প্রকল্পসমূহ বৃহৎ ও অতিগুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত রাখা জরুরী। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধানের যথাযথ অনুসরণের কোন বিকল্প নেই। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সরকারী ক্রয় নীতি অনুসরণ ও জি টু জি প্রকল্পের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চুক্তি অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সেন্টাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ) এর পরামর্শ নিতে হবে। এসব প্রকল্প নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হবে। বর্তমান পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস অনুযায়ী মডালিটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এর আগেও দুর্নীতির বিষয়ে সর্তক থাকতে চিঠি দেয়া হয়। সম্প্রতি উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা সেলের পরিচালক নুরুল আলম স্বাক্ষরিত চিঠিটি সরকারের ৯ সচিবকে দেয়া হয়। এতে বলা হয়, ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ মনিটরিং কল্পে কর্মপন্থা ও মনিটরিং ফরমেট অনুযায়ী প্রকল্পগুলোর ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন টাস্ক ফোর্সকে দিতে হবে।

প্রকাশিত : ৯ জানুয়ারী ২০১৫

০৯/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: