কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আরিফিন শুভ

প্রকাশিত : ৮ জানুয়ারী ২০১৫

আরিফিন শুভ তখন রেডিও জকি, সে সময়কার কোন একদিন আমাদেরই আলোকচিত্রগ্রাহক আরিফ আহমেদ আরিফিন শুভ’র কিছু এক্সক্লুসিভ ছবি তুলেছিলেন। শুভ’র ভাষায় জনকণ্ঠের সেই ছবিগুলোই এখনও বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ছাপা হয়ে থাকে। যেহেতু পুরনো ছবিই ঘুরে ফিরে বার বার ছাপা হয় তাই আবারও আরিফ আহমেদরই ক্যামেরায় আরিফিন শুভকে জনকণ্ঠের সাপ্তাহিক আয়োজনে বিশেষভাবে তুলে ধরার জন্য ছবি তোলা হলো। জনকেণ্ঠর প্রতি আরিফিন শুভর আন্তরিকতা সবসময়ই একটু বেশি বেশি। যে কারণে গত ৫ জানুয়ারি দেশের পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকা সত্ত্বেও আরিফিন শুভ বুসন্ধরা আবাসিক এলাকায় সময় দিয়েছেন ইচ্ছেমতো। বেশকিছু ভাল ছবিও সেদিন তোলা হলো। শুভ জানান, আগামীকাল তাঁর অভিনীত ‘ওয়ার্নিং’ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে। এই চলচ্চিত্রটি তাঁর ক্যারিয়ারের ‘লাকি সেভেন’ চলচ্চিত্র। তাই চলচ্চিত্রটি নিয়ে অনেক বেশি আশাবাদী তিনি। শুভ বলেন, ‘আমি ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ ম্যাপল ফিল্মসের কর্ণধার টপি খান ভাইয়ের কাছে। কারণ তিনি যদি চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা না করতেন তাহলে এত ভাল একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা সম্ভব হয়ে উঠত না। আমি এখানে একটি বিশেষ কথা বলতে চাই, তা হলো দর্শক যেন হলে গিয়ে চলচ্চিত্রটি দেখেন। কারণ দর্শক হলে না গেলে চলচ্চিত্রের ব্যবসা হবে না। যদি ব্যবসা নাই হয় তবে টপি ভাইদের মতো আন্তরিক প্রযোজকদের আমরা হারাব। চলচ্চিত্রের ব্যবসা টিকিয়ে লাখতে হলে তাঁদের মতো প্রযোজকদের অবশ্যই আমাদের ইন্ড্রাস্টির জন্য দরকার। আমি আরও অনেক বেশি কৃতজ্ঞ ‘ওয়ার্নিং’ চলচ্চিত্রের পরিচালক সাফি উদ্দিন সাফি স্যারের কাছে। কারণ তিনি সবসময়ই আমাকে নিয়ে এক্সপেরিমেন্টাল কাজ করার চেষ্টা করেছেন। আমি কৃতজ্ঞ আমার বন্ধু মাহিয়া মাহির কাছে। একজন কো-আর্টিস্ট কতটা ভাল হলে কাজ ভাল হয়। মাহির সঙ্গে কাজ না করা হলে জানাই হতো না।’ ‘ওয়ার্নিং’ চলচ্চিত্রে আরিফিন শুভ একজন রিপোর্টারের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। চরিত্রটিতে ভিন্নতা আনার যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন তিনি। নিজের অভিনয় নিয়ে তাই দারুণ আশাবাদী শুভ। চলচ্চিত্রটির কাহিনী, সংলাপ ও চিত্রনাট্য করেছেন আব্দুল্লাহ জহির বাবু। সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন শুকত আলী ইমন। গত ৫ জানুয়ারি টাইগার মিডিয়ার ব্যানারে ‘ওয়ার্নিং’ এর অডিও এ্যালবাম বাজারে এসেছে। শুভ তাঁর নতুন এই চলচ্চিত্রটির গান নিয়েও দারুণ আশাবাদী। লোকেশনের ভিন্নতা, গান, শিল্পীদের আন্তরিক অভিনয় সবমিলিয়ে ‘ওয়ার্নিং’ হতে পারে শুভ’র ক্যারিয়ারে আগামী দিনের আরও দৃঢ় পথ চলার শুভ সূচনা এমনটাই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শুভ। এসএম শামছুল হক ও খায়রুন্নাহার দম্পতির ছোট ছেলে শুভ পুরো নাম মাহবুবুল আরিফিন শুভ। ২ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেয়া এই চিত্রনায়ক ‘ওয়ার্নিং’ চলচ্চিত্রটির মুক্তি উপলক্ষে শুক্রবার থেকে তাঁর নায়িকাকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন হলে হলে ঘুরে বেড়াবেন। প্রযোজক টপি খান জানান, একশোটিরও অধিক সিনেমা হলে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাবে। কিন্তু অনেক হলে নায়ককে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো সম্ভব নয়। তারপরও তিনি চেষ্টা করবেন কয়েকটি হলে শুভ ও মাহিকে নিয়ে দর্শকের সঙ্গে বসে সিনেমাটি উপভোগ করার জন্য। ‘ওয়ার্নিং’ চলচ্চিত্র নিয়ে নতুন বছরে নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়েই আসছেন শুভ। চলতি বছরের শুরুতেই আরও একটি চলচ্চিত্র মুক্তির অপেক্ষায় আছে তাঁর। শিহাব শাহীন পরিচালিত ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ চলচ্চিত্রেও শুভকে দেখা যাবে ভিন্ন এক চরিত্রে। এই চলচ্চিত্রে তাঁর বিপরীতে আছেন ছোটপর্দার দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম। এরইমধ্যে চলচ্চিত্রটি সেন্সর সনদপত্র লাভ করেছে। ‘ওয়ার্নিং’ চলচ্চিত্রে নিজের অভিনয় সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন জানতে চাচ্ছি? জবাবে আরিফিন শুভ বলেন, ‘আমার নিজের অভিনয় নিয়ে আমি কখনই সন্তুষ্ট নই। তবে আমি চেষ্টা করেছি পরিচালককে সন্তুষ্ট করে অভিনয় করতে। আমি টানা অভিনয় করে গেছি। তিনি যখন চূড়ান্তভাবে তা ক্যামেরায় ধারণ করেছেন তখনই আমি নিজে সন্তুষ্ট থেকেছি। সত্যি বলতে কী আমি প্রতিনিয়তই অভিনয় শিখছি। আমি কারও কাছ থেকে অভিনয় শিখিনি। আমার পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা দিয়েই মূলত আমি আমার ভেতর অভিনয়কে লালন করার চেষ্টা করি এবং পরবর্তীতে চরিত্রানুযায়ী তা উপস্থাপন করার চেষ্টা করি।’ শুভর পরিবারের কেউই তাঁর মিডিয়াতে কাজ করাটাকে প্রথমদিকে সমর্থন না দিলেও এখন নীরব সম্মতি আছে। তবে তাঁর বন্ধু আসিফ, অন্তু, রানা, স্টিভ, বিটু, জন, সুজন তাঁকে সবসময়ই চলচ্চিত্রে কাজ করার ব্যাপারে উৎসাহ দিয়ে এসেছে। শুভ নির্দ্বিধায় স্বীকার করেন তাঁর আজকের অবস্থানের পেছনে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের ভূমিকা। সর্বোপরি দর্শকের ভালবাসা ছাড়া তাঁর আজকের এই অবস্থানে পৌঁছানো কোনভাবেই সম্ভব হতো না, তাও স্বীকার করেন শুভ। চলচ্চিত্রে নায়ক হবার আগে টিভি নাটকে শুভ অভিনয় করেছেন। সেখানেও তিনি প্রশংসিত হয়েছেন তাঁর অভিনয়ের কারণে। তবে সেখানে ফিরে যেতে চান না সহসা।

কারণ চলচ্চিত্রের মতো বড় মাধ্যমেই কাজ করতে ভাললাগে তাঁর। এই মাধ্যমের প্রতি তাঁর ভাললাগাটা যেন ঠিক নিজের জন্মস্থানের মতোই। তবে দেশের বড় বড় কোরিওগ্রাফারদের তৈরি পোশাক নিজের গায়ে জড়িয়ে শুভ আবারও ‘র‌্যাম্প মডেল’ হয়ে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু যাই করুন না কেন শুভ চলচ্চিত্রের ক্যারিয়ারে ক্ষতি হোক এমন কোনকিছুই করবেন না তিনি। কারণ এই মুহূর্তে শুভ’র কাছে দেশের প্রতিথযশা বেশ কয়েকজন পরিচালকের চলচ্চিত্রে কাজ করার প্রস্তাব আছে। খুব শীঘ্রই তিনি শুরু করবেন মনতাজুর রহমান আকবরের দুটি এবং সোহানুর রহমান সোহানের একটি চলচ্চিত্রের কাজ। সেসঙ্গে জাহিদ রেজওয়ানের ‘মৃত্যুপুরী’ চলচ্চিত্রের কাজও করবেন ফাঁকে ফাঁকে। তবে শুভ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নায়িকা পূর্ণিমার সঙ্গে শেষ হওয়া মোস্তফা কামাল রাজের ‘ছায়াছবি’ চলচ্চিত্রের মুক্তির অপেক্ষায় আছেন। সালমান শাহ ও শাবনূরের ভীষণ ভক্ত আরিফিন শুভর জন্য জনকণ্ঠের পক্ষ থেকে রইল নতুন বছরের শুভ কামনা।

প্রকাশিত : ৮ জানুয়ারী ২০১৫

০৮/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: