কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

এস এস সি পরীক্ষার পড়াশোনা

প্রকাশিত : ৮ জানুয়ারী ২০১৫
  • বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা

সৃজনশীল প্রশ্ন :

১। শফিক একজন শিক্ষিত তরুণ। পড়ালেখা শেষ করে গ্রামে ফিরে যায় ও কৃষির উন্নয়নে মন দেয়। মহাজনী শোষণ থেকে অসহায় গ্রামবাসীকে রক্ষা করতে তাদের সংগঠিত করে রুখে দাঁড়ায়। মহাজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের সাহায্যে শফিকের ওপর আক্রমণ চালায়। প্রাণপণ লড়াই করে অবশেষ শফিক প্রাণ হারায়। গ্রামবাসীরা তার আত্মদানকে বৃথা যেতে দেননি, তারা আরো সংগঠিত হয়ে মহাজনী শোষণ থেকে বেরিয়ে আসে।

ক। ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা কে?

খ। ফরায়েজি আন্দোলন কী? ব্যাখ্যা কর।

গ। শফিকের সাথে পাঠ্যপুস্তকের কোন বীরের মিল পাওয়া যায়Ñনির্দেশ কর।

ঘ। শফিকের মৃত্যু জনতার আন্দোলনের প্রেরণার উৎসÑ এ ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে তোমার মতামত বিশ্লেষণ কর।

সম্ভাব্য উত্তর :

ক. হাজী শরীয়ত উল্লাহ ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

খ. মূলত ‘ফরয’ শব্দ হতেই ফরায়েজি আন্দোলনের সূত্রপাত। ধর্মের ফরযগুলো যথাযথ পালনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে হাজী শরীয়ত উল্লাহ মুসলিম সমাজকে আত্মসচেতনতায় উদ্বুদ্ধ করা, নৈতিকভাবে বলীয়ান করা, ধর্মীয় শিক্ষাদান, অধিকার ও কর্তব্য সচেতন করতে উদ্যোগ নেন। তার মূল উদ্দেশ্য ছিল কৃষক ও প্রজাদেরকে সরকার, জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচার থেকে মুক্ত করে তাদের সামাজিক ও অর্থনেতিক মুক্তি সাধন। প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করার জন্য তিনি লাঠিয়াল বাহিনী গঠন করেন। ফরিদপুর জেলায় এ আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল তবে পরবর্তীতে ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা জেলায় এ আন্দোলনটি জনপ্রিয়তা পায়।

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত শফিকের সাথে ইতিহাসখ্যাত বাঙালি বীর শহীদ তিতুমীরের চারিত্রিক মিল পাওয়া যায়। তিতুমীর জমিদারের উৎপীড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সরকারের কাছে প্রতিকার চেয়ে ব্যর্থ হন। তাদের নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়ে গেলে সরকারের সাথে তার সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে পড়ে। তিতুমীর ৮৩ হাজার সেনা বা কৃষক সেনা নিয়ে বারাসাতে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। এতে ইংরেজ শক্তি পরাজিত হয়ে পুনরায় আধুনিক অস্ত্র, অধিকসংখ্যক সেনা নিয়ে নারিকেলবাড়িয়ার বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে। কামানের গোলায় বাঁশের কেল্লা ভেঙ্গে পড়ে তিতুমীর শহীদ হন। তিনি ভবিষ্যৎ স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাদের পথ প্রদর্শক হয়ে আছেন।

মহাজনদের শোষণের বিরুদ্ধে শফিকের গ্রামবাসীকে সংগঠিত করাও রুখে দাঁড়ানো লড়াই করে বীরের মতো আত্মত্যাগ করা পরবর্তীতে গ্রামবাসীর জন্য অনুপ্রেরণা সঞ্চয় করে। তারা আন্দোলনে পূর্ণশক্তি নিয়োজিত করে সফলতা লাভে উদ্বুদ্ধ হয়। তাই বলা যায় তিতুমীরের সাথে শফিকের অনেক মিল রয়েছে।

ঘ. সৈয়দ মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর মুসলমানদের প্রতি দেশীয় জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচার, শোষণ ও অবিচার দেখে সংগ্রামী চেতনায় অনুপ্রাণিত হন। রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার লক্ষ্যে তিনি ইংরেজদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবতীর্ণ হন। তিনি বারাসাতে স্বাধীনতা ঘোষণা করলে ইংরেজ সেনাপতি ম্যাজিস্ট্রেট আলেকজান্ডারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। ইংরেজ শক্তি পরাজিত হয়ে ১৮৩১ সালে কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী প্রেরণ করে। এ বাহিনীর কামানের আঘাতে তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা ধ্বংস হয় ও তিনি শহীদ হন। তার এ আত্মত্যাগের ফলে যুগে যুগে বাঙালি তার অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলনের অণুপ্রেরণা লাভ করে। ইংরেজ পরাশক্তির হাত হতে দেশকে মুক্ত করতে সমর্থ হয়।

উদ্দীপকে শফিক গ্রামবাসীকে সংগঠিত করে অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। এতে করে মহাজনদের স্বার্থে আঘাত পড়ে, তারা সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালায়।

প্রকাশিত : ৮ জানুয়ারী ২০১৫

০৮/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: