আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ইউক্রেনের ফেসবুক যোদ্ধারা

প্রকাশিত : ৭ জানুয়ারী ২০১৫

ইউক্রেনে লড়াই চলছে। রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পূর্বাঞ্চলের বিশাল এলাকা দখল করে নিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে লড়ছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী। কিন্তু সেনাবাহিনীর অবস্থা নাজুক। তাদের অর্থবল, অস্ত্রবলের বড়ই অভাব। সেই অভাব মেটাতে এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। এরা জনগণের মধ্যে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে সেনাবাহিনীর জন্য নানা ধরনের সাহায্য সংগ্রহ করছে ফেসবুকের মাধ্যমে। এ জন্য তাদের নাম দেয়া হয়েছে ফেসবুক যোদ্ধা।

এমনি একটি সংস্থা হলো হেলপ দ্য আর্মি অব ইউক্রেন। এরা ফেসবুককে কাজে লাগিয়ে জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে এবং তা দিয়ে অস্ত্র ও সাজসরঞ্জাম কিনে সেনাবাহিনীকে দিচ্ছে। এভাবে সেনাবাহিনীকে বডি আর্মার থেকে শুরু করে নাইট ভিশন গগলস, সিøপিং ব্যাগ থেকে খাদ্য সবকিছুই যোগানো হচ্ছে। গত মার্চ মাসে সংস্থাটি গঠিত হবার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৩ লাখ ডলারেরও বেশি সংগ্রহ করেছে রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্যের জন্য। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা আনা সান্ডালোভা। ইনি একজন প্রাক্তন জনসংযোগ কর্মকর্তা। সান্ডালোভা দেশবাসীর বিশেষত সৈনিকদের কাছে ইতোমধ্যে তারকা জাতীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।

মিজ সান্ডালোভা যে প্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনীকে সাহায্য যুগিয়ে থাকে তা বেশ সহজ। প্রথমে তিনি রণাঙ্গনের সেনা ডিভিশনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারাই তাকে জানিয়ে দেয় তাদের কী কি প্রয়োজন। সে অনুযায়ী সান্ডালোভা তাদের অনুরোধগুলো ফেসবুকে পোস্ট করে দেন। লোকে ফেসবুকে সেই অনুরোধগুলো পাঠ করে সাড়া দেয়। তারা তাদের দান করা অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে ফাউন্ডেশনের এ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করেন। ফাউন্ডেশন এ অর্থ দিয়ে সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে নেয়। ইউক্রেনে লড়াইয়ের বিস্তার ঘটার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের কয়েক ডজন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গড়ে উঠেছে। সান্ডালোভা বলেন, এসবই হলো নেটওয়ার্কের ব্যাপার। আর ফেসবুক হলো আমাদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য আদর্শ। কারণ এই ফেসবুকের বদৌলতেই আমরা এমন ধরনের সংস্থা গড়ে তুলতে পারছি এবং সেই সংস্থাগুলো এমন অনেক কিছু অর্জন করেছে যা সিভিলিয়ানদের পক্ষে করা অসম্ভব হতো।’

মিজ সান্ডালোভা মিনিবাসে করে সেনাবাহিনীর সাজসরঞ্জাম সরাসরি যুদ্ধাঞ্চলে নিয়ে গিয়ে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেন। নিজের ভূমিকা সম্পর্কে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তুরে ধরেন তিনি। সামাজিক মিডিয়ার ক্ষমতা বা শক্তিকে বড় করে দেখান। সেটা মোটেও বেঠিক কিছু নয়। যেমন ইউক্রেনের কোন মানুষকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সামরিক সংবাদ কোথায় পাওয়া যাবে তাহলে খুব সম্ভব সে প্রতিরক্ষা দফতরের ওয়েবসাইটের কথা না বলে ইনফরমেশন রেজিস্টেন্সের কথা বলবে। এই সংস্থাটি বিশ্লেষণধর্মী সংবাদ ফেসবুকে পরিবেশন করে থাকে। এবং সেগুলো বহুল পঠিত। কোন কোন চুক্তি সম্পাদনের জন্য সরকার নিলাম ডাকের ব্যবস্থা করেছে জানতে চাইলে নাগরিক সমাজের ‘রিএ্যানিমেশন প্যাকেজ অব রিফর্মস’ নামক সংগঠনের ফেসবুক পেজ দেখলে সব জবাব মিলবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে যে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচ উৎখাত হয়েছেন তা বিদ্যুত প্রবাহের মতো ইউক্রেন জনগণের মধ্যে প্রচণ্ড উদ্দীপনার সঞ্চার করেছে। এই আন্দোলন তাদেরকে দেখিয়ে দিয়েছে তারা কী করতে পারে। নেতৃত্ব এখন সরকারের হাতে নয়। নেতৃত্ব এখন সামাজিক মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত নাগরিক সমাজের হাতে। সেখানে একটা ল্যাপটপ এবং একটা ফেসবুক এ্যাকাউন্ট থাকলে আর কিছু লাগে না। মিজ সান্ডালোভা পরিচালিত ‘হেলপ দ্য আর্মি অব ইউক্রেন’ -এর মতো সংস্থাগুলোর কাজ কারবারগুলো অতি ত্বরিত গতিতে হয়। কারণ এরা সরকারী চ্যানেলের মাধ্যমে কিছু করে না। সরকারী চ্যানেলে গেলেই হাজারো জনের অনুমতি লাগে। এ জন্য যে সময়টা ব্যয় করতে হয় অনেক ক্ষেত্রে যুদ্ধের সময় সেই সময়টা পাওয়া যায় না। সোজা কথায় সরকারী চ্যানেলের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা এক বড় অন্তরায়। সরকারী চ্যানেলের বাইরে থাকায় এই সংস্থাগুলোর কাজকর্ম এত নিটোল ও সুষ্ঠু।

এভাবে ইউক্রেনের সুশীল সমাজ ক্রমান্বয়েই হারে সেই দায়িত্বই পালন করছে যে দায়িত্ব রাষ্ট্র পালন করছে না। যেখানে রাষ্ট্র দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে সেখানে জনগণ নিজেরাই এগিয়ে এসে সেই ঘাটতি পূরণ করে দিচ্ছে। রাষ্ট্র যেখানে মন্থর ও দুর্বল সেখানে জনগণের ভূমিকা ত্বরিত ও বলিষ্ঠ। সুশীল সমাজ এভাবে রাষ্ট্রের ভূমিকাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

চলমান ডেস্ক

সূত্র : নিউ ইয়র্ক টাইমস

প্রকাশিত : ৭ জানুয়ারী ২০১৫

০৭/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: