মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

নিখোঁজ বিমানের ইতিকথা

প্রকাশিত : ৭ জানুয়ারী ২০১৫
  • শিকদার আরিফ

অবশেষে সন্ধান মিলল এয়ার এশিয়ার নিখোঁজ বিমান কিউ জেড ৮৫০১-এর ধ্বংসাবশেষের। পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনী জানিয়েছে, তারা এর মধ্যেই ৪০টি দেহ উদ্ধার করেছে। গত শুক্রবার রাতে বোর্নিও দ্বীপের কাছে জাভা সাগরে উদ্ধারকারী দল উড়োজাহাজের চারটি বড় অংশ খুঁজে পায়। উদ্ধার কর্মকর্তা জানান, ‘আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিতে পারি যে, বস্তুগুলো এয়ার এশিয়ার বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটির, যা আমরা খুঁজছি।’ ৩০ মিটার নিচে সাগরতলে থাকা বস্তু চারটির মধ্যে বড়টির আয়তন ৫০ বর্গমিটার বলে জানানো হয়েছে।

এয়ার এশিয়ার এ ৩২০-২০০ নামের বিমানটি সপ্তাহদুয়েক আগে ১৬২ যাত্রী নিয়ে পূর্ব জাভার সুরাবায়ার জুয়ান্দা বিমানবন্দর থেকে জাভা সাগরের ওপর দিয়ে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার পথে বিধ্বস্ত হয়। বিমানটিতে সাতজন ক্রু ও ১৫৫ জন যাত্রী ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে ১৩৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও ১৬ শিশু ছিল। নিখোঁজদের মধ্যে ১৪৯ জন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। বাকি ছয় যাত্রীর তিনজন কোরিয়ার নাগরিক। এ ছাড়া মালয়েশিয়া, ব্রিটেন ও সিঙ্গাপুরের একজন করে নাগরিক ছিলেন।

এর আগে ৮ মার্চ, ২০১৪। মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের একটি বিমান ২৩৯ যাত্রী নিয়ে কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিং যাওয়ার পথে হারিয়ে যায়। এখনও সেই বিমানের হদিস মেলেনি।

এমেলিয়া এচার্টের বিমান

আমেরিকার নারী বৈমানিক এমিলিয়া এচার্ট ১৯৩৭ সালের ২ জুলাই প্রবালদ্বীপ হাউল্যান্ডে যাওয়ার পথে নিখোজ হয়। আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেয়া প্রথম নারী বিমানচালক ছিলেন তিনি। তাঁর ব্যাপারে অনেক কিংবদন্তি প্রচলিত আছে। কেউ কেউ বলেন, তিনি রুজভেল্টের গুপ্তচর ছিলেন বলে জাপানের সেনারা তাঁকে ধরে নিয়ে গেছে। তবে তাঁর নিখোঁজের ব্যাপারে এ পর্যন্ত কোন সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইংলিশ চ্যানেলে বৈমানিক গ্লিন মিলার

তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিমান বাহিনীর পদকপ্রাপ্ত বৈমানিক। ১৯৪৪ সালের গ্রীষ্মে প্যারিসে বিমান বাহিনীর বার্ষিক প্রদর্শনীতে ছিলেন তিনি। প্যারিস থেকে ফেরার পথে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেয়ার সময় নিখোঁজ হন। জার্মান সেনারা তাঁর বিমান ধ্বংস করে দিয়েছে বলে গল্প প্রচলিত আছে। এক জার্মান সাংবাদিক জানান, মিলার বেঁচে ছিলেন, তিনি জার্মানির এক পতিতালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

ফ্লাইট ১৯ এবং বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল

১৯৪৫ সালের ৫ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণ কর্মসূচী চলছিল। বিকেলে ফ্লোরিডার মাটি থেকে আকাশে উড়ল একটি বিমান। তবে সেটি আর ফিরে আসেনি। এরপরই খোঁজ পাওয়া যায় রহস্যময় বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল। বৈমানিকরা বারমুডা ট্রায়াঙ্গালে ঢোকার পর আর ফিরে আসতে পারেননি। তাঁদের ব্যাপারে হালনাগাদ তথ্য ছিল যে, বারমুডা ট্রায়াঙ্গালে ঢোকার পর তাঁরা বায়ুস্তর ছাড়া আর কিছু দেখতে পাননি।

স্টার ডাস্ট ও মোর্স ফোর্ড

১৯৪৭ সালের আগস্টের ২ তারিখ আর্জেন্টিনার বুয়েন্সইয়ারস থেকে চিলির সান্তিয়াগোর উদ্দেশে যাত্রা করে বিএসএএ স্টার ডাস্ট নামের একটি যাত্রীবাহী বিমান। যাত্রার কিছুক্ষণ পরেই বৈমানিক জানান, আকাশে স্টার ডাস্টের সর্বশেষ খবর। এরপর কন্ট্রোল টাওয়ারের রেডিওতে আসে একটি রহস্যময় মোর্স কোড ‘ঝঞঊঘউঊঈ’। তারপর নিখোঁজ হয়ে যায় বিমানটি। কী ঘটে ছিল সেই বিমানের ভাগ্যে তা আজও অজানা। ধারণা করা হয়, বরফাচ্ছাদিত পর্বতের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বরফধসে বিধ্বস্ত হয় এবং বরফে চাপা পড়ে।

বারমুডায় স্টার টাইগার

চিলির সান্তামারিয়া থেকে এরপর রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয় বিএসএএ গ্রুপের স্টার টাইগার নামের একটি বিমান। ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি ২৫ যাত্রী নিয়ে আকাশে উড়ে বিমানটি, এ বিমানে অন্যতম যাত্রী ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক নায়ক স্যার আর্থার কোনিংহাম। বিমান প্রতিকূল আবহাওয়ায় বাতাসের বাধা এড়িয়ে কিছুটা নিচু হয়ে উড়ছিল। আসলে এটি মূলত বারমুডা গন্তব্যই যাচ্ছিল। কন্ট্রোল টাওয়ারে দেখা যাচ্ছিল বিমানটি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে গিয়েছে কিন্তু সেই যাত্রায় ছিল তার অন্তিমযাত্রা। এরপর বিমানটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রহস্যময় বিমান ১৯১

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানের ইতিহাসে ১৯১ নাম্বারটা একটা দুর্যোগের নাম। ১৯৭৯ সালে ফ্লাইট ১৯১ উড্ডয়নের মিনিট খানিক পর বিধ্বস্ত হয়। মারা যান ২৫৮ যাত্রীসহ ১৩ ক্রু। পাইলটের মৃত্যুর কারণে এক্স-১৫ ফ্লাইট ১৯১ নামের পরের বিমানটিও উড়ার কিছুক্ষণ পর বিধ্বস্ত হয়। মারা যান অনেক যাত্রী। এমনকি ২০১২ সালের জেট ব্লু এয়ারওয়ে ফ্লাইট ১৯১ উড়ার মুহূর্তে পাইলট স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর কোন রকমে বিধ্বস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করা যায়।

উরুগুয়ান এয়ারফোর্সের চার্টার বিমান ৪৫ যাত্রীসহ খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে যাত্রা শুরু করে আন্দিজ পর্বতের উপর দিয়ে। যাত্রার প্রায় আধা ঘণ্টা পর বিধ্বস্ত হয় আন্দিজ পর্বতমালায়। বিধ্বস্তের সঙ্গে সঙ্গেই মারা যান ১২ যাত্রী। পরদিন মারা যান আরও ছয়জন। ৮ জন প্লেন দুর্ঘটনার স্থান থেকে হাঁটতে থাকেন লোকালয়ের উদ্দেশে। বাকি ১৬ জন বেঁচে থাকার চেষ্টা করেন নরমাংস ভক্ষণের মাধ্যমে। ৭২ দিন পর্যন্ত তাঁদের কেউ খুঁজে পাননি। বেঁচে থাকে মাত্র দু’জন যাদের খুঁজে পায় একজন গ্রাম্য ফেরিওয়ালা। তিনি কর্তৃপক্ষকে খবর দেন।

এছাড়াও বিএসএএ গ্রুপের আরেকটি ফ্লাইট স্টার এরিয়াল নামের একটি বিমান ১৯৪৯ সালে বারমুডা থেকে জ্যামাইকা যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়। এরপর কর্তৃপক্ষ আজীবনের জন্য বিএসএএ স্টার গ্রুপের সব বিমান বন্ধ করে দেয়।

এই হলো বিমান দুর্ঘটনার ইতিহাসের সাতটি রহস্যময় ঘটনা যেসব ঘটনার আজও সুরাহা হয়নি। কিংবা জানা যায়নি কী ঘটেছিল বিমানগুলোর ভাগ্যে।

প্রকাশিত : ৭ জানুয়ারী ২০১৫

০৭/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: