কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ইন্টার্নশিপ কেন জরুরী

প্রকাশিত : ৬ জানুয়ারী ২০১৫
  • জুয়েইরিয়াহ মউ

পড়ালেখা এখন অনেক বেশি ক্যারিয়ারনির্ভর। প্রতিটি শিক্ষার্থী তাই নিজের স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে সেই সম্পর্কিত বিষয়ে অধ্যয়নের পাশাপাশি প্রত্যক্ষ কাজের সুযোগ চান। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের অধ্যয়নের শেষ ভাগে এমন কাজের সুযোগ করে দেন অথবা শিক্ষার্থী নিজ তাগিদে তাঁর পছন্দসই কাজের অভিজ্ঞতা গ্রহণ করেন। শিক্ষার্থীর পড়ালেখার শেষ অংশের এমন অভিজ্ঞতাই হলো ইন্টার্নশিপ। অতীতে ডাক্তারি পেশায় এমন শব্দ ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে তা প্রতিটি বিষয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

বিজনেস কিংবা টেকনিক্যাল গ্র্যাজুয়েটদের কোন প্রতিষ্ঠান খ-কালীন কোন একটি বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা নেয়াই হলো ইন্টার্নশিপ। ইন্টার্নশিপ বর্তমানে পড়াশোনার একটি অংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার যে অভিজ্ঞতা তা কাজে লাগানোর সুযোগ হলো ইন্টার্নশিপ। তাই বর্তমানে যে কোন বিষয়ের শিক্ষার্থীর কাছেই নিজ নিজ পেশা গ্রহণের জন্য ইন্টার্নশিপ অত্যন্ত জরুরী। দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু বিষয়ে ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক। কারণ ইন্টার্নশিপ রিপোর্ট জমা দেয়ার পরই একজন শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয় সনদ জোটে।

ইন্টার্নশিপ কেন জরুরী

বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা শিক্ষানবিসদের বেশ প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। প্রাধান্যের মূল কারণ নতুনদের কর্মদক্ষতা ও কাজের স্পৃহা। এ প্রতিষ্ঠানে নতুন গ্র্যাজুয়েটরা কাজ করছেন কার্যকর ইনপুট হিসেবে। যদিও তাঁদের এই নিয়োগ খ-কালীন কিংবা অস্থায়ী, তবুও মেধা ও দক্ষতার মাধ্যমে অনেকেই দৃষ্টিআকর্ষণ করতে সক্ষম হোন। ফ্রেশ ইনপুট হিসেবে এই শিক্ষানবিসরা প্রতিষ্ঠানের কাজকর্ম দক্ষতার সঙ্গে আয়ত্ত করে বলেই এখন সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম চালু করা হচ্ছে। বাংলাদেশের চাকরির প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে দেখা যায় অধিকাংশ ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মিডিয়া, মোবাইল কোম্পানি ও অন্যান্য বহুজাতিক কোম্পানিগুলোয় ইন্টার্নশিপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেশ কয়েক বছর আগেই সরকারী খরচে বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারীদের কাজের সুযোগ করে দেয়া হয়। যার সুফল পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। যাঁরা ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের কার্যপরিধি, ভিশন, মিশন, ব্লুচার্ট সর্বোপরি কাজের সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে পারেন। প্রতিষ্ঠানও ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীকে যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ পায়। কারণ কেবলমাত্র ইন্টারভিউ এবং রেজাল্ট যে কোন শিক্ষার্থীকে মূল্যায়নের শেষ কথা নয়। ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে বাস্তব জীবনে একজন শিক্ষার্থী কতটুকু তাঁর শিক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পাওে, তা দেখার সুযোগ থাকে।

ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামে অর্জন

ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামে একজন শিক্ষার্থী বেশ কয়েকটি বিষয় শিখতে ও জানতে পারেন, যা তাঁর কর্মজীবনে অত্যন্ত গুরুত্ববহ হয়ে ওঠে।

সিদ্ধান্ত গ্রহণ

ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ক্যারিয়ার নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন। তাই কোন্ বিষয়ে সে ক্যারিয়ার গড়তে চায় তা নির্বাচন করা আগে জরুরী।

পেশাগত সম্পর্ক স্থাপন

ইন্টার্নশিপ করার সময় একজন শিক্ষার্থী তত্ত্বাবধানে থাকেন একজন চাকরিজীবীর। একজন কর্মজীবীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে থাকার ফলে কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া সহজ হয়। এছাড়া পেশাগত আচরণ সম্পর্কেও সম্যক ধারণা পাওয়া যায়।

এছাড়া ওয়ার্কশপ, কনফারেন্স, মিটিং ও নানা ইভেন্ট তাঁদের কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা যোগায়। ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীর পেশাগত যোগাযোগ ও দক্ষতা প্রমাণ করার সুযোগের পাশাপাশি চাকরির কর্মসংস্থান সম্পর্কে বিস্তর নেটওয়ার্ক তৈরি করার সুযোগ থাকে। এছাড়া ইন্টার্নশিপ যে কোন শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার পোর্টফোলিওকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি একজন উপযুক্ত প্রার্থী হওয়ার সুযোগ করে দেয়। যে কোন প্রতিষ্ঠানের মানব সম্পদ বিভাগে যোগাযোগের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপ কাজ করার জন্য আবেদন করতে পারেন। ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে বাড়তি আয়েরও সুব্যবস্থা রয়েছে।

প্রকাশিত : ৬ জানুয়ারী ২০১৫

০৬/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: