রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

৫ জানুয়ারি ঘিরে জামায়াত বিএনপির মিশন আপাতত ব্যর্থ

প্রকাশিত : ৬ জানুয়ারী ২০১৫
৫ জানুয়ারি ঘিরে জামায়াত বিএনপির মিশন আপাতত ব্যর্থ
  • অধিকাংশ বিএনপি নেতা ছিলেন আত্মগোপনে, মওদুদ সারাদিন বিশ্রাম নেন

বিভাষ বাড়ৈ ॥ সরকার ও বিএনপি-জামায়াত জোটের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে জনমনে সৃষ্ট প্রবল উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে বড় ধরনের কোন অস্থিরতা ছাড়াই কাটল আলোচিত ৫ জানুয়ারি। এক বছর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ আখ্যায়িত করে সরকারের ভিত নাড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছিল। জামায়াতসহ উগ্রবাদীদের সহায়তায় ২০১৩ সালের ৫ মের মতো কর্মসূচীর নামে নাশকতা চালিয়ে সরকারকে ফেলে দেয়ার গোপন মিশনও ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কাছে বিএনপি-জামায়াত জোটের মিশনও আপাতত ব্যর্থ। যে কোন মূল্যে সমাবেশ এবং সেখানে চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার যোগদানতো হলোই না বরং রাজপথ ছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দখলে। দিন শেষে ২০ দলীয় জোটের নেত্রী যে কর্মসূচী দিলেন তা নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা। এ অবস্থায় সরকারকে নাড়া দিতে জোটকে আরও অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

এদিকে নির্বাচনের বর্ষপূর্তির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাশকতার পথ পরিহার করে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে শান্তির পথে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নাশকতার পথ পরিহার করে শান্তির পথে আসুন। দেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য কী কী করতে চান তা মানুষকে জানান। নিজের দলকে গড়ে তুলুন। তাহলেই হয়তো ভবিষ্যতে সম্ভাবনা থাকবে। যে পথে আপনি চলছেন তা জনগণের কল্যাণ বয়ে আনবে না। বরং মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা আরও হারাবেন। শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির নির্বাচনে অংশ না নেয়াটা ছিল একটি রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্ত। তাদের এই রাজনৈতিক ভুলের খেসারত কেন জনগণকে দিতে হবে? বিএনপি নেত্রীকে আমি আহ্বান জানাচ্ছি, নাশকতা, মানুষ হত্যা, বোমা-গ্রেনেড হামলা, অগ্নিসংযোগ, জানমালের ক্ষতি করা বন্ধ করুন। এক বছর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনটিকে সরকার ‘গণতন্ত্র রক্ষা দিবস‘ ও বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ অভিহিত করে মুখোমুখি অবস্থান নেয়ায় জনমনে অজানা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। রাজনৈতিক হানাহানির শঙ্কার দু’দিন ধরেই দেশজুড়ে ছিল উৎকণ্ঠা। কর্মসূচী বাস্তবায়ন হোক আর না হোক, তবু ২০ দলের নেতাদের অব্যাহত হুঙ্কার আর কর্মসূচী ব্যর্থ করতে সরকারের বহুমুখী অবস্থান ছিল প্রকাশ্যেই। ৫ জানুয়ারির দিনটিতে আগেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঢাকার ১৬টি স্পটে সমাবেশের ঘোষণা দেয়। আওয়ামী লীগসহ সরকারের শরিকরা দিনটিকে বিশেষভাবে মর্যাদার সহিত পালনের ঘোষণা দিয়ে বলেন, গত বছরের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নিবার্চন ছিল সংবিধান ও সাংবিধানিক ধারা অক্ষুণœœ রাখা, একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের অর্জনসমূহ রক্ষা ও অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এগিয়ে নেয়ার চ্যালেঞ্জ। সাংবিধানিক ধারা অক্ষুণœ রাখার ওই নির্বাচন বানচালের জন্য বিএনপি-জামায়াত ছিল মরিয়া। এজন্য তারা সারাদেশে সন্ত্রাস চালায়। তারা দেশব্যাপী বোমা হামলা, হরতাল-অবরোধের নামে নির্বিচারে গাছ কেটে রাস্তায় ফেলা, যানবাহন, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ এবং বিভিন্ন এলাকায় প্রায় অর্ধশতাধিক শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে এর অবমাননা করে। সাধারণ মানুষের বাড়িতে হত্যা-হামলা সংঘটিত করে, সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িতে আক্রমণ চালিয়ে এক নারকীয় ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল। বিএনপি-জামায়াত ওই নির্বাচন বানচাল করে দেশে অসাংবিধানিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চক্রান্তে নিয়োজিত হয়। বিএনপি-জামায়াত ও তাদের জঙ্গীবাদী মিত্ররা এ দেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের অর্জনসমূহ ও অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে সাম্প্রদায়িক, জঙ্গীবাদী রাষ্ট্র বানানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। সাংবিধানিক ধারা অক্ষুণœ রাখতেই জনগণ মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সকল হামলা, আক্রমণ ও ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোট দিয়ে ’৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র রক্ষায় সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন।

তাই ৫ জানুয়ারির ওই নির্বাচন সফল করার মধ্য দিয়ে সাংবিধানিক ধারা অক্ষুণœ থাকা মুক্তিযুদ্ধের অর্জন ও অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা। অন্যদিকে ডিএমপির অনুমোদন না পেয়েও যে কোনো মূল্যে ঢাকায় সমাবেশ করার বিষয়ে অনড় অবস্থানে ছিল বিএনপি-জামায়াত জোট। এক দিন আগে থেকেই বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে তার গুলশান কার্যালয়ে ব্যাপক নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে রাখা হয়।

এক সপ্তাহ আগে বেগম জিয়া তার নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। সেই জিডির কৌশলেই নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে পড়ে যান বিএনপি চেয়ারপার্সন। তারপরেও এক দিন আগে থেকেই বিএনপি নেতারা দফায় দফায় ঘোষণা করতে থাকেন তাদের সমাবেশ হবে এবং যে কোন মূল্যে সেখানে যোগ দেবেন চেয়ারপার্সন। ফলে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে জনমনে। জনমনে সৃষ্ট এমন এক অজানা আতঙ্কের মধ্যেই শুরু হয়েছিল দিনটি। কেউ হরতাল বা অবরোধ ডাকেনি। তারপরও রাজনৈতিক হানাহানির শঙ্কার মধ্যে নির্বাচনের বর্ষপূর্তির দিনটি শুরু হয়েছিল হরতালের আবহের মধ্য দিয়েই। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সোমবার পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী দেয়ায় পুলিশ ঢাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছিল। মোড়ে মোড়ে পুলিশের উপস্থিতির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন করা হয়েছিল বিজিবিও। উত্তেজনার মধ্যে রবিবার থেকেই বাস ও লঞ্চ চলাচল আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সারাদেশ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় রাজধানী ঢাকা। সোমবার সকাল থেকে গণপরিবহনও একপ্রকার বন্ধ থাকায় ফাঁকা রাস্তা হরতালের কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে।

বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, নগর পরিবহনের বাস প্রায় নেই বললেই চলে। কিছু রিকশা ও অটোরিকশা রাস্তায় থাকলেও বাস না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ে কর্মজীবী মানুষ। পোশাক শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে বিভিন্ন মোড়ে বাসের অপেক্ষায় থেকে তারপর হেঁটেই কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হতে দেখা গেছে। নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা ও সার্বিক পরিস্থিতির কারণে কোনো বাস মালিকই গাড়ি ছাড়েননি। সদরঘাটেও ঢাকার বাইরে থেকে কোনো লঞ্চ আসেনি।

৫ জানুয়ারি পূর্বঘোষিত কর্মসূচী পালনের অংশ হিসেবে রাজধানীতে ব্যাপক শোডাউন করেছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। রাজধানীতে ছিল ক্ষমতাসীনদের একচেটিয়া শোডাউন। সোমবার সকাল থেকেই সরকার সমর্থক নেতাকর্মীরা রাজপথে নেমে আসে। রাজধানীর মোড়ে মোড়ে অবস্থানের পাশাপাশি নগরীতে মোটর শোভাযাত্রাসহ মহড়া দেয় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের অনেককে ঢাকঢোল পিটিয়ে উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে। পাশাপাশি সরকারবিরোধীরা যেন রাজপথে কোন বিশৃঙ্খলা করতে না পারে সেজন্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউতে দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, আজকে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ না করা হলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করত বিএনপি-জামায়াত। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাজধানীতে সর্তকভাবে অবস্থান করছে। যেহেতু রাজপথের কোথাও তাদের দেখা যাচ্ছে না, তাহলে আমার মনে হয় তারা আড়াইটার দিকে হেলিকপ্টারযোগে আকাশ থেকে সোহরাওয়ার্দীতে নেমে সমাবেশ করে আবার হেলিকপ্টারেই চলে যাবে। এছাড়া আর তো কোন উপায় দেখছি না।

নিষেধাজ্ঞার মধ্যে এই কর্মসূচীর বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিক রুহুল আমীন গাজী মারফত আমরা জানতে পারলাম, যে কোন মূল্যে বিএনপি আজ সমাবেশ করবে। কিন্তু বাস্তবে তাদের কোন নেতাকর্মীকে রাজপথে দেখা যায়নি। তারা আইন অমান্য করে কিভাবে সমাবেশ করবে তা দেখার জন্যই আমরা অবস্থান নিয়েছি। আমরা কোন সভা-সমাবেশ করছি না। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, আইন মেনেই তাদের নেতাকর্মীরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়েছেন। সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও আমরা একসঙ্গে জড়ো হয়ে বসে থাকব, এ ব্যাপারে কোন নিষেধাজ্ঞা সরকার দেয়নি। আমরা আইন মেনেই বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নিয়েছি।

এদিকে ক্ষমতাসীনরা রাজপথে শক্ত অবস্থান নিলেও অনেকটা লাপাত্তা ছিল ২০ দলে বিশেষত বিএনপি নেতারা। দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছিল। বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া অন্য কারও উপস্থিতি চোখে পড়েনি কর্মীদের। দুুদিন লাপাত্তা থেকে সোমবার দুপুরের পর প্রেসক্লাবে হাজির হয়ে হুঙ্কার দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে গত ৩ জানুয়ারি মির্জা ফখরুলের উত্তরার বাসায় পুলিশ তল্লাশি চালায়। এরপর তাঁকে কোন কর্মসূচীতে দেখা যায়নি।

বিএনপির বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মামলা এবং কারাগারে যাওয়ার ভয়ে দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে থাকেন। এ ছাড়া দলটির চেয়ারপার্সনের সম্প্রতি ঘোষণা দেয়া সাত দফা এবং হঠাৎ করে শনিবার রাতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাওয়ার ঘটনাও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং শীর্ষ নেতারা জানতেন না বলে জানা গেছে। তাই খালেদা জিয়া জানুয়ারির পাঁচ তারিখের সমাবেশ এবং আন্দোলনকে ঘিরে শীর্ষ নেতাদের কাছে পাননি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগমীর মামলা এবং কারাগারের ভয়ে রাজধানীতে লুকিয়ে ছিলেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) আ স ম হান্নান শাহ নিজ বাসভবনে ছিলেন। এরপর থেকে তিনি কোথায় আছেন তা জানা যায়নি। হান্নান শাহর ব্যক্তিগত মুঠোফোনটিও বন্ধ ছিল সোমবার বিকেল পর্যন্ত। স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বিএনপির ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক মির্জা আব্বাসও মামলা এবং কারাগারের ভয়ে আত্মগোপনে আছেন। তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনটিও বন্ধ। স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এবং ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া তাদের বাসভবনে ছিলেন। অনেকভাবে চেষ্টা করেও এই তিন স্থায়ী কমিটির সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হন সাংবাদিকরা। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের ব্যক্তিগত সহকারীকে সকালে কল করা হলে তিনি বলেন, স্যার এখন খাচ্ছেন। খাওয়ার পর বিশ্রাম নেবেন। আজকে কারও সঙ্গে আলাপ করবেন না।’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম সোমবার একাধিক সাংবাদিককে সেলফোনে বলেছেন, আমি অসুস্থ। যশোরে আছি। যারা ঢাকায় আছেন তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করুন। আমি কিছু জানি না। রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও দফতরের দায়িত্বে থাকা রুহুল কবির রিজভী জানেন না তিনি গ্রেফতার কিনা। রিজভী বলেন, আমাকে গ্রেফতার করা হয়েছে কিনা জানি না। তবে হাসপাতালে আমাকে পুলিশ ঘিরে রেখেছে। তবে ফলাফল যাই হোক শীর্ষ নেতাদের লাপাত্তার মধ্যে একাই চেষ্টা করেছেন বেগম জিয়া। দিনভর চেষ্টা করেছেন বের হওয়ার। কখনও বের হওয়ার নামে মানুষের সহানুভূতি আদায়েরও চেষ্টা করেছেন। তবে বের হতে ব্যর্থ হয়ে সন্ধ্যায় বলেছেন, পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আমরা সমাবেশ করব। তাকে কেন বন্দী করে রাখা হয়েছে সে প্রশ্নের জবাব চেয়েছেন খালেদা জিয়া। তারা যদি আমাকে বন্দী না করে তবে কেন বের হতে দেয়া হচ্ছে না? কেন চারপাশে এত পাহারা? আমাকে কেন অবরুদ্ধ করা হয়েছে? কেন সমাবেশ করতে দেয়া হলো না ইত্যাদি ইত্যাদি। তিনি আরও বলেন, আমার কর্মসূচী আসল আর হঠাৎ করে তারা নিরাপত্তা দেয়া শুরু করল। এটা কোন ধরনের নিরাপত্তা? আমি তো চেয়েছি পল্টনে আমাদের পার্টি অফিসে নিরাপত্তা, যেখানে আমাদের সমাবেশ হবে।

প্রকাশিত : ৬ জানুয়ারী ২০১৫

০৬/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: