কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ভাংচুর আগুন নিহত ৪

প্রকাশিত : ৬ জানুয়ারী ২০১৫
বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ভাংচুর আগুন নিহত ৪
  • দেড় শতাধিক শক্তিশালী বোমা উদ্ধার ॥ আটক পাঁচ শতাধিক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ক্ষমতাসীন সরকারের বিদায় ঘণ্টা বাজাতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার হুমকির প্রেক্ষিতে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবীর আগের রাত গত রবিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষিপ্তভাবে যানবাহন, আওয়ামী লীগ অফিস ভাংচুরসহ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ভাংচুরের হাত থেকে রক্ষা পায়নি সুপ্রীমকোর্টের বিচারপতির গাড়িও। বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে নাটোরে ২ জন, রাজশাহীতে একজন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে একজনসহ মোট চারজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া সাংবাদিক, পুলিশ, পথচারী, ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষসহ অন্তত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। ২০টি শক্তিশালী তাজা বোমাসহ ঢাকার লালবাগ থানা বিএনপির সভাপতিসহ সারাদেশে অন্তত ৫ শতাধিক নেতাকর্মী আটক হয়েছে। সারাদেশ থেকে উদ্ধার হয়েছে অন্তত দেড় শতাধিক শক্তিশালী বোমা। বিদায়ী বছরের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ের মতো ব্যাপক তা-ব চালানোর আশঙ্কায় সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে সোমবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) মোতায়েন করা হয়েছে।

বিদায়ী বছরে দেয়া বিভিন্ন ভাষণে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ক্ষমতাসীন সরকারের বিদায় ঘণ্টা বাজানোর আগাম ঘোষণা দেন। এমন ঘোষণার পর বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠন গত রবিবার থেকেই সারাদেশে ব্যাপক নাশকতাসহ চোরাগোপ্তা হামলা চালাতে থাকে। রবিবার যাত্রাবাড়ী, শনিরআখড়া, আব্দুল্লাহপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় অন্তত ৭টি যানবাহন ভাংচুর করে। কয়েকটিতে আগুন দেয়। অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে এবং ভয়াবহ নাশকতার আশঙ্কায় নিরাপত্তার স্বার্থে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করে সব ধরনের সভা-সমাবেশ-মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়।

সোমবার সুপ্রীমকোর্টের বিচারপতি ফরিদ আহমেদের গাড়ি ভাংচুর করে বিএনপি-জামায়াতপন্থী আইনজীবী ও আইনজীবীর বেশে থাকা বহিরাগত সন্ত্রাসীরা। দুপুর তিনটার দিকে ফকিরাপুলে পুলিশের ওপর ছাত্রশিবির বোমা হামলা চালায়। এক পুলিশ ও এক সাংবাদিকের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। পুলিশ ধাওয়া করে ৬ জনকে আটক করে। বেলা এগারোটার দিকে ভাটারার কুড়িল বিশ্বরোড থেকে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে রাস্তা অবরোধ করে যানবাহন ও রাস্তার পাশে থাকা বেশ কয়েকটি ব্যাংকের এটিএম বুথ ভাংচুর করে। একটি পিকআপ ভ্যান পুড়িয়ে দেয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ শর্টগান থেকে ফাঁকা রবারবুলেট ছুড়ে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পর পর অন্তত ৫টি বোমা ফাটায়। এছাড়া বিক্ষিপ্তভাবে সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সামনে, পল্টন মোড়, গুলশান-২ নম্বর গোল চত্বর, গাবতলী, শ্যামলী, মিরপুর-১ নম্বর, জাতীয় প্রেসক্লাবসহ রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্ত বোমাবাজি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সারাদেশে থেকে আমাদের নিজস্ব সংবাদদাতা জানান।

নাটোর ॥ জেলার তেবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগ-বিএনপির সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে দু’জন নিহত হয়েছেন। বিএনপি নিহতদের ছাত্রদল কর্মী দাবি করেছে। নিহতদের মধ্যে রাকিব আওয়ামী লীগ কর্মী বলে দাবি করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ নাটোরে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে বিএনপি। নিহতরা হলেনÑ নাটোর শহরের উত্তর তেবাড়িয়া এলাকার চাঁন মিয়ার ছেলে রাকিব (২০) এবং সিংড়া উপজেলার গাইনপাড়া গ্রামের মিঠুন আলীর ছেলে রায়হান (২০)। নিহতরা নাটোর এনএস সরকারী কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সোমবারই রায়হান গ্রামের বাড়ি থেকে বন্ধু রাকিবের বাড়ি বেড়াতে এসে গুলিতে নিহত হন।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের তেবাড়িয়া এলাকায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ কর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নেয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ব্যাপক সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে গুলি বিনিময় হয়। তবে কে-কোন্ পক্ষের গুলিতে মারা গেছে তা নিশ্চিত নয়। নাটোর সদর আসনের এমপি ও নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুলের দাবি, বিএনপি নেতা সন্ত্রাসী আবুল বেপারি নিজে পিস্তল ঠেকিয়ে রাকিবকে গুলি করে হত্যা করেছে। বিএনপি নেতাকর্মী নিজেরাই তাদের কর্মী রায়হানকে হত্যা করে আওয়ামী লীগের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।

রাজধানীতে ২জন গুলিবিদ্ধ ॥ রাজধানীতে বনানী ও খিলগাঁওয়ে দু’জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাদের ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে বিএনপি সমর্থিত নেতাকর্মীরা। সোমবার রাতে ঘটনাগুলো ঘটে।

সাঈদ খোকনের ওপর হামলা ॥ রাতে বংশালের সুরিটোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগ নেতা সাঈদ খোকনের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা। তবে তিনি অক্ষত রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

রাজশাহী ॥ জেলার পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরে পুলিশ-আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপি জামায়াতের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে একজন নিহত, ১০ জন গুলিবিদ্ধ ও সাংবাদিকসহ অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। নিহতের নাম মজির উদ্দিন (৪৫)। তিনি চারঘাট উপজেলার মাড়িয়া গ্রামের স্কুলপাড়ার খয়মুদ্দিনের ছেলে। তিনি চারঘাটের সলুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য বলে দাবি করেছেন জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন।

বিকেলে বানেশ্বর ট্রাফিক মোড়ে জড়ো হয় আওয়ামী লীগ। পুলিশের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিএনপি নেতা আবু সাইদ চাঁদের নেতৃত্বে উপজেলার বানেশ্বর বাজারে সমাবেশের চেষ্টা করে বিএনপি নেতাকর্মীরাও। তারা জোর করে মোড়ে আসার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় বিএনপিকর্মীরা পুলিশের ওপর লাঠিসোঠা ও ইট-পাটকেল নিয়ে হামলা চালায়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও পাল্টা মিছিল বের করে। শুরু হয় ত্রিমুখি সংঘর্ষ। সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ জেলার বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্ত মিছিলকালে সংঘর্ষে পুলিশ ও পথচারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলার শিবনারায়ণপুর গ্রামের মন্তাজ আলীর ছেলে জমশেদ আলীর (৪০) মৃত্যু হয়। বিএনপির দাবি, নিহত জমশেদ বিএনপি কর্মী ছিলেন।

চট্টগ্রাম ॥ জেলার বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষকালে অন্তত ৪০টি যানবাহন ভাংচুর করে। বাধা দিতে গেলে সংঘর্ষে তিন পুলিশ সদস্যসহ ৩০ জন আহত হন।

মুন্সীগঞ্জ ॥ সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহরের দক্ষিণ ইসলামপুর থেকে দুটি ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শাহজাহান মিয়া (৪৮), মনির হোসেন (২৭) ও জুনায়েদ মিয়া (৩৫) নামে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

সিলেট ॥ জেলার বিভিন্ন জায়গায় অন্তত ২৫টি যানবাহন ভাংচুর করে। কয়েকটিতে অগ্নিসংযোগ করে। পুলিশের ওপর বোমা হামলা চালায়। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়। পুলিশ ৭ জনকে আটক করেছে।

সুনামগঞ্জ ॥ আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে ৬ সাংবাদিক ও ২ পুলিশসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।

নোয়াখালী ॥ জেলার বিভিন্ন জায়গায় কালো পতাকা মিছিল করার সময় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। পুলিশ অন্তত ২৫ রাউন্ড রবার বুলেট ছুড়েছে। বিক্ষোভকারীরা ৪টি সিএনজি অটোরিকশা ভাংচুর এবং একটি সিএনজিতে আগুন দিয়েছে। পুলিশ ২৫ জনকে আটক করেছে।

বগুড়া ॥ রবি ও সোমবার জেলার বিভিন্ন জায়গায় গাড়ি ভাংচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ও একটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়ার মধ্য দিয়েই কর্মসূচী পালন করে বিএনপি-জামায়াত।

লক্ষীপুর ॥ জেলার বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত-শিবির নেতাকর্মদের ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় অন্তত ৮ জন আহত হয়েছে। পুলিশ এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ ২৯ জনকে আটক করেছে।

খুলনা ॥ জেলার খালিশপুরে মিছিলকালে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ রবার বুলেট ছুড়ে। একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

ময়মনসিংহ ॥ শহরের চরপাড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে একটি যাত্রীবাহী বাস পুড়িয়ে দেয় বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা। এদিকে গফরগাঁওয়ে রেললাইনে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

পটুয়াখালী ॥ জেলা শহরে কর্মসূচী পালনকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়। পুলিশ ১৫ জনকে আটক করেছে।

সিরাজগঞ্জ ॥ জেলার বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীর সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হন। পুলিশ ৯ জনকে আটক করেছে।

নারায়ণগঞ্জ ॥ জেলার পৃথক তিনটি স্থানে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে ৫জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে। পুড়িয়ে দিয়েছে পুলিশের টেম্পু। পুলিশ ২৭ জনকে গ্রেফতার করেছে।

প্রকাশিত : ৬ জানুয়ারী ২০১৫

০৬/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: