মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ

প্রকাশিত : ৬ জানুয়ারী ২০১৫

দেশে তামাক চাষ আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে গেছে। ছয় বছরের ভেতর এই চাষের আওতা বেড়েছে দ্বিগুণ। তামাক চাষে ১৫ জেলায় চলছে নীরব আগ্রাসন। বিষয়টি যে কেবল দেশে তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ার নেতিবাচক তথ্যটি দিচ্ছে তা নয়, একই সঙ্গে কৃষি জমি হ্রাসের বিপজ্জনক বার্তাটিও দিচ্ছে। সেটিই গভীর দুশ্চিন্তার ব্যাপার। তামাক চাষের কারণে বছরে ৯৭ হেক্টর জমি চলে যাচ্ছে অকৃষিতে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী দেশে ২০১৩-১৪ মৌসুমে এক লাখ আট হাজার হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে, যেখানে তার আগের মৌসুমে ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়। এটি তাৎক্ষণিকভাবে বড় দুঃসংবাদ। তবে একই সঙ্গে আমাদের আসল বিপদের জায়গাটি হলো পরবর্তীকালে তামাক চাষকৃত জমির উর্বরতা ব্যাপকমাত্রায় কমে যাওয়া। সাময়িক লাভের আশায় এবং তামাক কোম্পানির এজেন্টের প্ররোচনায় বহু কৃষক কৃষিপণ্যের উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকে সরে এসে তামাক চাষ করছেন। এটা রীতিমতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। প্রশ্ন উঠছে ভাত আগে না নেশা আগে? পরিসংখ্যান বলছে তামাকজনিত কারণে বছরে দেশে ৬০ লাখ লোক মারা যায়।

আমাদের অধিক জনসংখ্যার এই দেশটির রয়েছে সীমিত চাষযোগ্য জমি। খাদ্যবস্তুর জমিতে তামাক চাষ খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ, জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। চলনবিল এখন দখল হচ্ছে তামাক চাষে, পার্বত্য এলাকায় এ বিষের ছোবল রন্ধ্রে রন্ধ্রে। তামাক চাষ শুধু খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়, এই বিষবৃক্ষ চাষ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিপণন সকল ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত করে সংশ্লিষ্ট মানুষকে। এ রাসায়নিক ও কীটনাশক মাটির উর্বরতা হ্রাস, পানি ধারণক্ষমতা নষ্ট এবং ক্ষয় বৃদ্ধি করছে। এছাড়া রাসায়নিকের প্রভাবে জনস্বাস্থ্য, বনভূমি, পানি, জলজ প্রাণী, পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পার্বত্য এলাকায় তামাক পাতা শুকানোর জন্য ব্যাপকভাবে বনাঞ্চলের গাছ কাটা হচ্ছে। এভাবে বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে। তামাক চাষ করার ফলে কৃষক এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ারও আশঙ্কা থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, তামাক চাষী ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বার্জার্স এবং গ্রীন টোব্যাকো সিকনেস (এঞঝ) ব্যাপকভাবে লক্ষণীয়। টানা কয়েকদিন তামাক পোড়ানোর পর অনেক কৃষক অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন।

গত মাসেই এ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এ্যালায়েন্সের এক আলোচনা সভায় তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে একটি জাতীয় মঞ্চ গড়ার ওপর জোর দিয়েছেন সাংসদ ও ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। মনে রাখতে হবে, তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে বাজেটে ট্যাক্স বাড়ানোই একমাত্র সমাধান নয়। তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণে ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য ব্যবহারের বিরুদ্ধে বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানোও প্রয়োজন। তামাকের থাবা থেকে কৃষি জমি বাঁচানোর লক্ষ্যে উল্লিখিত ওই ১৫ জেলায় কুটির শিল্পের পাশাপাশি অন্যান্য শিল্পে বিনিয়োগের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ধানের ন্যায্যমূল্যের বিষয়টিও বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ফড়িয়াদের দৌরাত্ম্য বন্ধের উদ্দেশ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই।

প্রকাশিত : ৬ জানুয়ারী ২০১৫

০৬/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: