আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা প্রত্যাশার সঙ্গে আছে শঙ্কাও

প্রকাশিত : ৪ জানুয়ারী ২০১৫
  • আরিফুর সবুজ

রৌদ্রোকরোজ্জ্বল দিনের আলোয় ঝকমক করছে পুরো চত্বর। প্যাভেলিয়নের পর প্যাভেলিয়ন, স্টলের পর স্টলের বৈচিত্র্যপূর্ণ কারুকার্য মুগ্ধতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। বিক্রেতারা বাহারি পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসে আছে। কোন কোন দোকানের বিক্রয়কর্মীরা নিজেরা খোশ গল্পে মত্ত। কেউবা বসে ঝিমুচ্ছে। মাছিমারা যাকে বলে আরকি! দু’একজন ক্রেতা হঠাৎ হঠাৎ এসে পড়লে তাকে নিয়েই সদাব্যস্ত হয়ে পড়ছে কেউ কেউ। তেমন একটা ক্রেতা সমাগম নেই। ভরদুপুরে যান্ত্রিক নগরীর সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত। ক্রেতা আসবে কোত্থেকে? তবুও আসে। অল্প বিস্তর। অফুরন্ত সময় যাদের হাতে, তারা আসে। প্রচ- আগ্রহ যাদের, তারা আসে। কেউ কিনতে আসে, কেউবা ঘুরতে। তবে আসে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আসার পরিমাণও বাড়তে থাকে। সূর্য পশ্চিমে যখন হেলে পড়ে তখন লোকে লোকারণ্যে হয়ে পড়ে পুরো চত্বর। বিক্রয়কর্মীরা দম ফেলার সময় পাচ্ছে না। হরদম চলছে বেচাকেনা। এই চিত্র বিশতম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার তৃতীয় দিনের। শেষ দিকে দিনে-রাতে সর্বক্ষণই হবে বিপুলসংখ্যক ক্রেতার সমাগম। হবে বিপুল কেনাবেচা। দেশের অর্থনীতিতে আরও বেশি গতি সঞ্চারিত হবে। অতীত অভিজ্ঞতা তাই বলে।

ফিরে দেখা

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার ইতিহাস খুব বেশ দিন আগের নয়। এখন থেকে বিশ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৯৫ সালের জানুয়ারি মাসে প্রথম ঢাকা আন্তর্জাতিক মেলা আয়োজন করা হয়েছিল ঢাকার শেরে বাংলা নগর চত্বরে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে দেশের উৎপাদিত পণ্যকে বিদেশের বাজারে ছড়িয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এই মেলা চালু হয়েছিল। ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা নামকরণের মধ্য দিয়ে ইপিবি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ১৯৯৫ সালে এই মেলার প্রচলন ঘটালেও এটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফল। ইপিবি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশে প্রথম রফতানি মেলা হয় কক্সবাজারে। পরবর্তী বছর থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত রফতানি মেলা ঢাকার চন্দ্রিমাতে আয়োজিত হতো। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ বিভিন্ন কারণে নয় বছর এই মেলা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। ১৯৯৫ সালে নতুন করে নতুন আবেশে নতুন মোড়কে রফতানি মেলা ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা নামধারণ করে যাত্রা শুরু করে। প্রথম বাণিজ্যমেলার আয়তন ছিল বারো লাখ বর্গফুট। খুব বেশি সারাও ছিল না। কিন্তু দিনকে দিন মেলার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। দেশী-বিদেশী ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগমে মুখরিত হতে থাকে বাণিজ্যমেলা। স্টলের সংখ্যা বাড়তে থাকে। দর্শনার্থীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে। জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল পণ্য বাণিজ্যমেলায় পাওয়া যায় বলে মেলার প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে ক্রমাগত। বিশেষ করে ঢাকা শহরের বাসিন্দাদের কাছে। কালের খেয়ায় ভেসে উনিশটি আসর শেষে এবার আয়োজিত হলো ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার বিশতম আসর।

বাণিজ্যমেলার খুঁটিনাটি

এবারের বাণিজ্যমেলায় বিশ্বের চৌদ্দটি দেশ অংশগ্রহণ করেছে। দেশগুলো হলো পাকিস্তান, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, তুর্কি, যুক্তরাজ্য, ইরান, মালয়েশিয়া, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কোরিয়া এবং জার্মানি। এই দেশগুলোর বিভিন্ন কোম্পানি মেলায় বিভিন্ন পণ্যের স্টল দিয়েছে। মেলার প্রধান আকর্ষণ বঙ্গবন্ধু প্যাভেলিয়ন। এই প্যাভেলিয়নে বিভিন্ন চিত্রকর্ম, ডকুমেন্ট প্রদর্শনীর মাধ্যেমে তরুণ প্রজন্মের কাছে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস এবং এই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরা হয়েছে। মেলা সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য প্রদানের জন্য আছে রফতানি উন্নয়ন বুরে‌্যার তথ্য কেন্দ্র। আছে মেলা সচিবালয়। এবারের মেলায় প্রিমিয়ার প্যাভেলিয়ন ৫৪টি, জেনারেল প্যাভেলিয়ন ৯টি, বিদেশী প্যাভেলিয়ন ১৮টি, জেনারেল রিজার্ভ প্যাভেলিয়ন ৩টি, মিনি প্যাভেলিয়ন ৪০টি, প্রিমিয়ার স্টল ৫২টি, বিদেশী স্টল ১২টি, জেনারেল স্টল ২৪৮টিসহ মাদার এ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার সেন্টার, স্মোকিং জোন, ই-পার্ক, সুন্দরবন (থিম পার্ক), ই-শপ, বিনোদন পার্ক, নারী স্বাস্থ্য কেন্দ্র, রক্তদান কেন্দ্র, ফাস্ট এইড সেন্টার, খাবারের স্টল ও রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পাশে বিশাল এলাকাজুড়ে স্থাপিত ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন গাড়ি পার্কিং, নিরাপত্তা সুবিধাসহ অনেক সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বাহারি পণ্যের পসরা

বাণিজ্যমেলায় জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সকল পণ্যেই স্থান পেয়েছে। দেশী-বিদেশী পণ্যের সমাহার আর বৈচিত্র্যতার জন্যই নগরবাসী এমনকি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের লোকজনও ছুটে আসে মেলা প্রান্তরে। স্থানীয় পণ্যকেই মেলায় বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তবে আকর্ষণীয় ও প্রয়োজনীয় বিদেশী পণ্যও স্থান পেয়েছে এই মেলায়। মেশিনারিজ, কার্পেটস, কসমেটিকস, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য, পাটজাত পণ্য, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প পণ্য, অলঙ্কার, সিরামিক পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, টেক্সটাইল পণ্য, কৃষিভিত্তিক খাদ্য পণ্য, ক্রীড়া সামগ্রী, স্যানিটারি পণ্য, আসবাবপত্র, খেলনা, ঘড়ি, জুতো, গৃহস্থালির তৈজসপত্র, প্রযুক্তিপণ্য, ফাস্টফুডসহ বিভিন্ন বাহারি জিনিসের স্টল বসেছে বাণিজ্যমেলায়। ক্রেতাদের এই সব পণ্যের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য ডিসকাউন্ট, গিফটসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় অফার দিচ্ছে বিক্রেতারা। ক্রেতারাও হুড়মুড়িয়ে পড়ছেন এজন্য।

দর্শণার্থীর ভিড় যেন উত্তাল সমুদ্র

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার প্রাণ দর্শণার্থী। প্রথম আসরে সর্বমোট মাত্র সত্তর হাজারের মতো দর্শণার্থী আসলেও দিনকে দিন এই মেলার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় বৃদ্ধি পেয়েছে দর্শনার্থীর সংখ্যা। এখন গড়ে প্রতিদিন লক্ষাধিক দর্শনার্থী মেলায় আসে। মেলার প্রথম দিকে তুলনামূলক কম লোক আসলেও তা পুষিয়ে যায় শেষের কয়েকটা দিন। তিল ধারণের জায়গা থাকে না। কর্তৃপক্ষকে তাই বেশ হিমশিম খেতে হয়। বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর আগমনে মেলা হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সংশয়

বাণিজ্যমেলার নিরাপত্তার জন্য আনসার, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব পর্যাপ্ত পরিমাণ নিয়োগ করা হয়েছে। মেলা সচিবালয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত করা হয়েছে। ৮০টিরও বেশি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এতে মনে হবে বাণিজ্যমেলা নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। আসলে কি তাই? গতকাল দুপুরে বাণিজ্যমেলায় প্রবেশের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকি। একজন কর্মী টিকেট ছিঁড়ে দিলে হনহনিয়ে ভেতরে ঢুকে যাই। কেউ শরীর চেক করেনি। কেউ ব্যাগ চেক করেনি। তখনই শঙ্কিত হয়ে পড়লাম, এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। যদি আমার ব্যাগে বোমা থাকত, যদি আমি জামায়াত-শিবির বা অন্য কোন চরমপন্থী দলের জঙ্গী হতাম! এমনিতেই রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত। দেশের অভ্যন্তরে আর বাইরের শত্রুরা ওঁৎ পেতে আছে কিছু ঘটানোর জন্য। এমন অবস্থায় সতর্ক না থাকলে যে কোন সময় বড় রকমের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এই দিকে মেলা কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজর দেয়া উচিত।

আর্থ- সামাজিক উন্নয়নে বাণিজ্যমেলা

বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে উন্নতি করছে। আমদানিনির্ভর দেশটির দিনকে দিন রফতানি সামর্থ্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক্ষেত্রে বাণিজ্যমেলা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বাণিজ্য মেলার মাধ্যমে দেশের বড় কোম্পানিগুলো তাদের পণ্য প্রদর্শনী করছে। এতে বিদেশী ক্রেতারা পণ্য যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ পাচ্ছে এবং ক্রয়ে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। বিগত কয়েক বছরের বাণিজ্যমেলার মাধ্যমে প্রাপ্ত রফতানি অর্ডারের পরিসংখ্যান বিবেচনা করলেই আমাদের কাছে এর অর্থনৈতিক গুরুত্বের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বাণিজ্যমেলা শুধু রফতানি বৃদ্ধিতেই সহায়তা করছে না, দেশী ও বিদেশী ক্রেতাদের কাছে দেশীয় নতুন পণ্য হাজির করছে। এতে দেশীয় পণ্যের পরিচিতি ও প্রসার ঘটার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। দেশীয় পণ্যের বাজারের বিস্তৃতি ঘটছে। দেশীয় ক্রেতারা অতি সহজেই বিদেশী পণ্য ক্রয়ের সুযোগ পাচ্ছে। বাণিজ্যমেলার টিকেটের মূল্য বাবদ অর্থ, গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য অর্থ আদায়, পণ্য ক্রয়ে ভ্যাট আদায়, বিক্রেতাদের থেকে কর আদায়, স্টলের জন্য প্রাপ্ত অর্থ, বিজ্ঞাপনের জন্য প্রাপ্ত অর্থ ইত্যাদির মাধ্যমে সরকার বেশ অর্থলাভ করতে সমর্থ হচ্ছে। যা দেশের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

বাণিজ্যমেলার মাধ্যমে আমাদের দেশের উদ্যোক্তারা বিদেশী উদ্যোক্তাদের সান্নিধ্য লাভ করছে। এতে তারা পণ্যের আকার, গুণগত মান, ডিজাইন, প্যাকেজিং, উৎপাদন ব্যয় প্রভৃতির সঙ্গে তুলনামূলক বিচার বিশ্লেষণ করতে সমর্থ হচ্ছে। বিদেশীরা কিভাবে পণ্যের মানের উন্নয়ন ঘটাচ্ছে সেই সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারছে। এতে জ্ঞানের সঞ্চালন ঘটছে। এই মেলার মাধ্যমে ক্রেতা-বিক্রেতার মাঝে সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হচ্ছে। এতে ক্রেতারা পণ্য সম্পর্কে তাদের মতামত জানাতে পারছেন যা উৎপাদককে পণ্য উন্নয়নে নির্দেশনা দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

সাময়িক কর্মসংস্থানের অসাধারণ এক উৎস

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলাকে ঘিরে সাময়িক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাণিজ্যমেলার নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজে বিপুল পরিমাণ দক্ষ, আধা দক্ষ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। মেলার বিভিন্ন স্টলে প্রচুর পরিমাণ বিক্রয়কর্মীর সাময়িক কর্মসংস্থান হয়েছে। বিভিন্ন প্রাইভেট ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এক মাসের জন্য পার্টটাইম চাকরি জুটিয়ে নিয়েছেন বাণিজ্যমেলায়। এদের দিনভিত্তিক অর্থ প্রদান করা হয়। কয়েকটি স্টলের বিক্রয়কর্মীর সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেল, বিক্রয়কর্মীরা দিনভিত্তিক ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছে। এছাড়া বাণিজ্যমেলার আশপাশে বিভিন্ন ফেরিওয়ালারা তাদের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এদের বিক্রি বেড়ে গেছে বহুগুণ।

কিছু শঙ্কা, কিছু নিরাশা

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা নিয়ে যেমন আশাবাদ আছে, তেমনি আছে কিছু ভয়ও। ব্যবসায়ীরা ভয় পাচ্ছেন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে। গত বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভয়াবহ ছিল। তাই বাণিজ্যমেলা প্রত্যাশানুযায়ী রফতানি অর্ডার পায়নি। দর্শক সমাগম তুলনামূলক কম হয়েছিল। ফলে কাক্সিক্ষত পরিমাণ বিক্রি করাও সম্ভব হয়নি। এবারের জানুয়ারিতেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ ঘোলাটে হয়ে উঠছে যা বাণিজ্যমেলার লক্ষ্যপূরণে শঙ্কা ধ্বনি বাজিয়ে চলছে। আরেকটি বিষয় নিয়েও কথা বলতে হচ্ছে। সেটা হলো স্থায়ী পরিকাঠামো গঠনের বিষয়টি। দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবসায়ীরা স্থায়ী পরিকাঠামো গঠনের দাবী জানিয়ে আসছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে নিরাশই থাকতে হচ্ছে। বাণিজ্যমেলার বিস্তৃতি আরও ব্যাপক হবে যদি স্থায়ী পরিকাঠামো বিষয়ের নিরাশা দূর করা যায়।

শেষ কথা

দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রসারের বৃহত্তম প্লাটফর্ম হিসেবে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার গুরুত্ব অপরিসীম। দেশীয় উৎপাদকদের পণ্যকে বিশ্বব্যাপী পরিচিতিকরণ, অভ্যন্তরীণ বাজারের ব্যাপ্তি, পণ্যের বহুমুখীকরণ ও উন্নয়ন, রফতানি আয় বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, সিজনাল কর্মসংস্থানসহ দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা অবদান রেখে চলছে। তাই এই মেলা নিয়ে যেন কোন শঙ্কা না থাকে, সুনামহানির মতো কোন ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে আরও সতর্ক দৃষ্টি রাখা উচিত।

……arspatuary@gmail.com

প্রকাশিত : ৪ জানুয়ারী ২০১৫

০৪/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: