মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ক্যাম্পাস জীবনে ‘ফেসবুক’

প্রকাশিত : ৪ জানুয়ারী ২০১৫
ক্যাম্পাস জীবনে ‘ফেসবুক’

স্কুল-কলেজে একসঙ্গে পড়াশোনা করেছেন দুই বন্ধু। কিন্তু উচ্চশিক্ষার জন্য দু’জন শত শত মাইল দূরের দুই ক্যাম্পাসে। সেই থেকে তাদের মধ্যে যোগাযোগ নেই। হঠাৎ একদিন কম্পিউটারের মনিটরে অর্থাৎ ফেসবুকে বন্ধুর ছবি দেখে আলাপ জমিয়ে, মোবাইল নম্বর আদান-প্রদানের মাধ্যমে আবার একত্রিত হন তারা। পাশাপাশি বন্ধুর প্রোফাইল থেকে ক্লাস এইটের সেই রূপসী বান্ধবী মিতু ও শান্তার খোঁজ পেয়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যায় আনন্দ আর উত্তেজনা। এতসব ঘটনা ঘটেছে শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে। জনপ্রিয় এই সামাজিক মাধ্যমের যাত্রা শুরু বিশ্ববিখ্যাত ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে। সারা বিশ্বের হাজার হাজার স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এর বিস্তৃতি। ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মকর্তাদেরও আনাগোনা আছে ফেসবুকে। ক্যাম্পাসের সড়ক, চত্বর, গাছতলা, টেন্ট, ক্যান্টিন, ক্যাফেটারিয়া, মাঠ কিংবা খোদ ডিপার্টমেন্টের বারান্দার আড্ডা আলোচনা বিতর্ক স্থান পরিবর্তন হয়ে এখন তা জায়গা নিয়েছে ফেসবুকের ওয়ালে।

দেশের প্রতিটি সরকারী-বেসরকারী ও অধিকাংশ কলেজের নামে ফেসবুকে একাধিক গ্রুপ এবং পেইজ সৃষ্টি রয়েছে। এসব গ্রুপে গঠনমূলক আলোচনা সমালোচনা হয় প্রতিদিনই। গ্রুপগুলোতে বর্তমান শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দেশ-বিদেশের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করে। এমনকি এক ক্যাম্পাসের আলোচনা আর আড্ডায় অন্য ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণও লক্ষ করা যায়। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মকর্তারাও আলোচনায় দুই একটা লাইন বসিয়ে দেন। এসব গ্রুপগুলো লক্ষ করলে দেখা যায় ক্যাম্পাসগুলোর অ্যালামনাই, শিক্ষা সফর, বর্ষপূর্তি উৎসব ও শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনীর আয়োজন। এসব আয়োজনে দাওয়াত দেয়া, বাজেট প্রণয়ন, চাঁদা সংগ্রহ, সবকিছুই হয় ফেসবুকের মাধ্যমে। ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোর ক্যাম্পাসের নামের পাশাপাশি অনুষদ, ডিপার্টমেন্ট, আবাসিক হল এমনকি কোন বছরের ব্যাচের নামেও ফেসবুকের গ্রুপ এবং পেইজের সন্ধান পাওয়া যায়। কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রুপ বা পেইজের ছবি, ভিডিওচিত্র আর লেখনী এতটাই তথ্যবহুল যে, তা ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের চেয়েও সমৃদ্ধশালী। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি তথ্য, পরীক্ষার রুটিন, সর্বশেষ সংবাদ, সুবিধা-অসুবিধা, সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া যায় এসব গ্রুপ থেকে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট নিয়মিত আপডেট না হওয়ায় ফেসবুক থেকে তথ্য পাওয়া যায়।

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক্স ফিজিক্স এ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্রী নুসরাত জাহান লিজা বলেন, আমার বাসা কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাস এলাকায় হওয়ায় যেদিন ক্লাস থাকে না সেদিন বাসায় চলে যাই। দিনরাত সবসময়ই ফেসবুকে ক্যাম্পাসের কাউকে না কাউকে পাই। মনেই হয় না ক্যাম্পাসের বাইরে আছি। এছাড়া আমার স্মরণীয় ঘটনা হলো এই ফেসবুকের মাধ্যমেই খুঁজে পেয়েছি স্কুল জীবনের বন্ধু বর্তমানে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও প্রকৌশল বিভাগের ছাত্রী সাঈদা আক্তার লিনাকে। জাবির সরকার ও রাজনীতি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র আল-আমিন বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয়। পরিচয়ের সপ্তাহখানেকের মধ্যেই তিনি আমাকে সাভারে দুটো টিউশনি যোগাড় করে দিয়েছেন। তাই বলতে হয় জয়তু ফেইসবুক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নীলিমা ম-ল, শোয়েব, প্রিন্স, লিজা, সিথি, কথা, মিতু, মৈত্রী, সুমি, দিশা ও হুমায়ুনের অভিমত, একজন ফেসবুক ব্যবহারকারীর প্রোফাইল দেখে তার পরিচয়, ঠিকানার পাশাপাশি তার ব্যক্তিত্ব, রুচি, বন্ধুমহল এমনকি মেধা সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়। ফেসবুকের এত ভাল দিকে সঙ্গেও আছে কিছু খারাপ দিক। সে সম্পর্কে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের ১ম সেমিস্টারের ছাত্রী সিফাত আরা বাঁধন, তাসনিমুল জান্নাত হিমি, সৌরভ ও সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের মাঈনুল, শাবিপ্রবির ইংরেজী বিভাগের ফাতেমা তুজ্জোহরা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের হুরে জান্নাত দিবা এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী ডিসিপ্লিনের রিফাত শারমিন জেরিন বলেন, ফেসবুক থেকে খুব সহজে একজনের ছবি অন্যজন ডাউনলোড করতে পারে। ডাউনলোড করা ছবি অনেক সময় বিকৃত করে আবার ফেসবুকের ওয়ালেই ছেড়ে দেয়ার নজির আছে। বিশেষ করে মেয়েদের তথ্য ও ছবি চুরি করে ব্ল্যাকমেইল করার ঘটনা অহরহ ঘটছে।

ইমাদুল হক প্রিন্স

প্রকাশিত : ৪ জানুয়ারী ২০১৫

০৪/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: