আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বিশৃঙ্খলার চেষ্টা হলে সরকার কাল কঠোর হবে ॥ তোফায়েল

প্রকাশিত : ৪ জানুয়ারী ২০১৫

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ নির্বাচনের জন্য বিএনপিকে আরও চার বছর অপেক্ষা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেছেন, এ জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে কোন সংলাপ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আগামীকাল ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র রক্ষা দিবস হিসেবে পালন করবে। আর বিএনপি দিনটিকে কালো দিবস ঘোষণা করে ওইদিন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়। তাই সরকার আইন অনুযায়ী ওইদিন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বিএনপির প্রতি পরামর্শ রেখে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এই সদস্য আরও বলেন, দলটির উচিত হবে তাদের সদ্য ঘোষিত ৭ দফা নিয়ে জনমত তৈরি করে পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত মিট দ্য রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন-ডিআরইউর সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনসহ কমিটির নবনির্বাচিত নেতারা। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির সব সূচকে আমরা এগিয়েছি। রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে যে ইমেজ সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছিল, তা এখন আর নেই। তোফায়েল আহমেদ বলেন, ৫ জানুয়ারিকে আমরা গণতন্ত্র রক্ষা দিবস বলছি। কারণ, সে সময় দেশে নির্বাচনের বিকল্প কিছু ছিল না। এটা ছিল সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। তিনি বলেন, ’৯৬ সালের মধ্য ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি একটি নির্বাচন করেছিল। মার্চের ৩০ তারিখ তারা ক্ষমতা হস্তান্তরও করেছিল। সেই ক্ষমতা হস্তান্তর কি এমনি এমনিই করেছিল? আমি এ বিষয়ে আর কিছু বলতে চাই না। তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা সকল দলকে নিয়ে একটি নির্বাচন করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সে সময়ের বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া তার আহ্বানে সাড়া দেননি। বরং তিনি বিভিন্ন শর্ত জুড়ে দিয়েছিলেন। আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। কিন্তু শর্ত দিয়ে সংলাপ হয় না। আমাদের সংলাপের প্রশ্নে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচী দিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করেছিলেন তখন আমি ব্যক্তিগতভাবে বিরোধিতা করেছিলাম। কারণ, এটা আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে পরাজয় মনে হয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা তারপরও ফোন করেছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, হয়ত নৈতিকভাবে এ নির্বাচন নিয়ে কিছুটা প্রশ্ন থাকতে পারে, কিন্তু এটা ছিল সংবিধানের ধারাবাহিকতার শর্ত। গত নির্বাচনে অংশ না নেয়া বিএনপির ভুল উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, আপনি সে সময় নির্বাচন কমিশন, আরপিওর আলোচনা করতে পারতেন। কিন্তু আপনি তত্ত্বাবধায় সরকারের শর্ত জুড়ে দেন। আমরা নির্বাচন করেছি, সরকার গঠন করেছি। তাই এ সরকার মেয়াদ পূর্ণ করবে। আগামীকাল ৫ জানুয়ারি সম্পর্কে তিনি বলেন, এদিনকে ঘিরে আওয়ামী লীগও বিভিন্ন কর্মসূচী দেবে। ওই দিন রাজপথে যদি কেউ আইন হাতে তুলে না নেয়, তবে সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলবে; আর আইন হাতে তুলে নিলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিএনপির আন্দোলনের সামর্থ্য নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে আওয়ামী নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিএনপি গাজীপুরে সমাবেশ ডেকেছিল। কিন্তু সেখানে একটি মামুলি ১৪৪ ধারা জারি করায় তারা পিছু হটেছে। ছাত্রলীগকেই তারা মোকাবেলা করতে পারেনি। রাজনীতিতে এ রকম ১৪৪ ধারা সব সময়ই থাকে। তিনি বলেন, আমরা যখন ছাত্র রাজনীতি করেছি তখন আমাদের সময়ও অনেক ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। কিন্তু আমরা তা উপেক্ষা করে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলাম, খালি মাঠে পিছু হটিনি। তখন আমরা সেøাগান দিয়েছি ‘বাধা দিলে বাধবে লড়াই, সেই লড়াইয়ে জিততে হবে।’ কিন্তু বিএনপি কর্মসূচী দিয়ে কিছুই তো করতে পারেনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ সরকার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে খুবই শক্ত ও দৃঢ় অবস্থানে। বর্তমানে গ্রামে গ্রামে আওয়ামী লীগের অবস্থাও অনেক শক্ত। নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্য রয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে কোন চাঞ্চল্যই নেই। তারা সাংগঠনিকভাবেও অনেকটা নিষ্ক্রিয় অবস্থানে। তাই এ সরকার তার মেয়াদ পূর্ণ করবে। বিএনপির এ মুহূর্তে উচিত হবে আগামী চার বছর জনমত গড়ে তুলে পরবর্তী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে ডাকসুর সাবেক ভিপি বলেন, প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যদি নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিরা নেতৃত্ব দিতে পারত, তাহলে তাদের মধ্যে কলঙ্ক লাগত না। তাদের মধ্যে অসন্তোষ, ক্ষোভ, ভুল বোঝাবুঝি, বিভেদ থাকত না। এমনকি নতুন নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হতো। নিজেকে ‘ছাত্রলীগের তোফায়েল’ দাবি করে তিনি আরও বলেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল কমিটি থেকে ধীরে ধীরে ডাকসুর ভিপি হয়েছি। দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি করেছি। এখন পর্যন্ত আমি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট চিনি না। এ বিষয়টি ছাত্রলীগ নেতাদের মনে রাখতে হবে।

রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের ইমেজ সঙ্কটের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনার পরে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে যে ইমেজ সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছিল তা এখন আর নেই। গত এ্যাপারেল সামিটে সেটা দূর হয়েছে। এখন বিদেশী ক্রেতারা আবার বাংলাদেশ থেকে পণ্য কিনতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। জিএসপি সুবিধার বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ মুহূর্তে পৃথিবীর কোথাও জিএসপি সুবিধা নেই। জিএসপি সুবিধার মেয়াদ ছিল ২০১৩ সাল পর্যন্ত; যা এরইমধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস তা আর নবায়ন করেনি। তিনি বলেন, নবায়ন না করায় বর্তমানে কোন দেশই জিএসপি সুবিধা পাচ্ছে না। তবে কংগ্রেস যদি এ ব্যবস্থা আবার নবায়ন করে তাহলে বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা পাবে।

প্রকাশিত : ৪ জানুয়ারী ২০১৫

০৪/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: