আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নতুন বইয়ের আনন্দ

প্রকাশিত : ৩ জানুয়ারী ২০১৫
  • মুহাম্মাদ আমানুল্লাহ

১.

সূর্যটা লুকোচুরি খেলছে সারাদিন। কুয়াশা এখনও কাটেনি।

আম্মু এক গাদা বই খুলে বসে আছে- ওদেরও এত্তো পড়ালেখা ! আমি বুঝি না- অন্যদের আব্বু-আম্মুরাও কি এত পড়ে? আমার অবশ্য পড়তে ভাল লাগে- গল্পের পর গল্প পড়ি; রূপকথার গল্প, সায়েন্স ফিকসন আমার আনন্দের দোর খুলে দেয়।

- আব্বু, তোমার মোবাইলটা পাচ্ছি না।

- একটু খুঁজে দেখ মিহি। হয়ত কোথাও পড়ে আছে।

- না, আব্বু- আমি বেশ খুঁজেছি; পাচ্ছি না। নাকি তোমরা লুকিয়ে রেখেছ। আমার একটুও ভাল লাগছে না। ভাইয়া, বাবলি, চাচু সবাই তো গ্রামের বাড়িতে গেল। তোমরা আমাকে যেতে দিলে না। পুরোদিন এখন আমি একা বাসায় পড়ে থাকি।

- মামণি, আজ সন্ধ্যায় আমরা শপিংয়ে যাব- মন খারাপ কর না মা। তোমার জন্য নতুন জুতো, নতুন ব্যাগ, নতুন জামা নিতে হবে। আর আমি তোমার খালাকে বলেছি- সেও আসবে সুরিকে নিয়ে।

- বাহ, বেশ মজা হবে তো। আমরা কিন্তু এক ফাঁকে রেডচিলিতে যাব। খাব।

- ওকে মা, অফকোর্স যাব। মা মণি, তুমি তো জান না- এখন নতুন বছর উপলক্ষে বই মেলা চলছে। পাশেই মেলা। আমরা সেখানেও ঘুরব। মেলা থেকে তুমি পছন্দ মতো বই কিনতে পারবে আর আমাকেও বই উপহার দিতে পারবে।

২.

বাবলিটা যখন এলো আমি যেন নাওয়া-খাওয়া ভুলে গেলাম। গল্প আর গল্প। মোল্লা নাসিরুদ্দিনের গল্প, ঈশপের গল্প, ঠাকুরমার ঝুলির গল্প, নানা দেশের রূপকথায় যেন ওর মাথায় গিজগিজ করে। শীতের ছুটিতে ওর কলেজ বন্ধ- এখন সেও নেই; বাড়িতে বেড়াতে গেছে। বাবলি, তুমি তাড়াতাড়ি এসো। আমার কিচ্ছু ভাল লাগে না। একদম না। মাঝে মাঝে গেমস খেলি- এ্যাঙরি বার্ডস, মারমেড বাথিং, ইউনিকর্ন ড্যাশ। বিজয় দিবসের পরদিন রেজাল্ট হলো আর শীতের ছুটি হয়ে গেল। উৎকণ্ঠার নদী পাড়ি দিলাম আমরা। আম্মু যেন কয়েক দিন ধরে কোনভাবেই ইজি হতে পারছে না। ও যে কখন আমার পেছনে এসে দাঁড়াল তা খেয়াল করিনি।

- মামণি, তোমার কি মন খারাপ? মলিন মুখে এভাবে বসে আছ কেন? - আম্মু আমার বাবলির কথা মনে পড়ছে, ভাইয়ার জন্য মনটা ভারি হয়ে আছে- আচ্ছা ওরা কখন ফিরবে?

- আমি তোমার দাদু আপুর সাথে কথা বলেছি- ওরা আগামীকালই ফিরে আসবে। কয়েকদিন পরই তোমার স্কুল খুলবে। নতুন বই, নতুন ব্যাগ, নতুন কেডস, নতুন জামা- তোমার এখন কত আনন্দ!

- আম্মু, তুমি কেন আমাকে নিয়ে এত টেনশন কর বল তো?

- মা, তুমি এসব বুঝবে না। আমি তো তোমাকে পড়াই, তোমাকে নিয়ে স্কুলে যাই, তোমার টিচারদের সাথে যোগাযোগ করি- তাই টেনশনটা আমার বেশি।

- আমি তো বলেছিলাম এবারও ফার্স্ট হব। আব্বু তো তোমার মতো করে না।

- হ্যাঁ, তুমি প্রথম হয়েছো; এবারের মতো আমাদের মুখ রক্ষা হয়েছে মা। তবে এও দেখছি, তুমি এখন আর সিরিয়াসলি পড় না। শুধু গল্প পড় আর গেমস খেল। তোমাকে কতবার বলি মোবাইল আর ধরবে না- বসে বসে অঙ্কগুলো করে নাও। অরণির বই দুটো ধরেও দেখলে না। বইগুলো সাত আট দিন ধরে আমার টেবিলেই পড়ে আছে।

আম্মু, তুমি তো দেখছ- আমি প্রতিদিনই পড়ি, গল্পের বই পড়ি, ছবি আঁকি আর গানের রেয়াজ করি। বলেছিÑ আমার পুরাতন বই পড়তে ইচ্ছে করে না। আব্বুকে তুমি নতুন বই আনতে বললে না তো?

Ñদু’দিন পরেই তো স্কুলে নতুন বই দেবে। হবে বই উৎসব। তোমাদের কত আনন্দ মিহি। অবশ্য আমাদেরও কম খুশি লাগে না। আগে নতুন বই হাতে পাওয়া নিয়ে কত জটিলতা ছিল।

Ñ মিহি ওঠ, এবার একটু রেস্ট নাও।

Ñ তুমি তো বোঝ নাÑ ঘুমুতে গেলে আমার চোখে ঘুম আসে না। নিনু ভাইয়া, বাবলি ও এলিয়েনরা আমাকে ঘুমুতে দেয় না।

৩.

মিহি ঘুমের ঘোরে স্বপ্নের দেশে ঘুরে বেড়ায়। সে চিচিনকে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়ে। চিচিন ভিন গ্রহের এক শিশুÑবন্ধুর খোঁজে বাংলাদেশে এসেছে। ওর লাল-নীল বাহারি পাখায় মিহির ওড়ার সাধ জাগেÑ মঙ্গলের লাল-হলুদ মাটিতে।

Ñ চিচিন, তোমার লাল-নীল ডানাগুলো কিভাবে পেলে বল? এগুলো আমার ভারি পছন্দ।

Ñ এই পাখাগুলোা প্রাকৃতিকভাবেই আমরা পেয়ে থাকি। আমরা উড়তে পারিÑ গাইতে পারি না; আঁকতে পারি না।

Ñ আমারও এ রকম ডানা চাইÑ লাল নীল সোনালি ডানা; যাতে চড়ে সহজে ভিন গ্রহে উড়ে যাওয়া যায়।

Ñমিহি, দেখ আমাদের গ্রহে কোন বই নেই। পড়ালেখার ব্যবস্থা নেই; স্কুল-কলেজ নেই। আমরা বাবা-মা’র কাছেই সবকিছু শিখি। আমি প্রতি বছর এই দিনে বাংলাদেশে আসি বইয়ের গন্ধ নিতে; নতুন বই আমি ভালবাসি। আর তোমাকে বন্ধু ভাবি, কারণ তুমি নতুন বই ভালবাসো, পড়তে পছন্দ কর তাই। একদিন আমি তোমাকে আমাদের গ্রহে বেড়াতে নিয়ে যাব; তুমি ভয় পাবে না তো? তুমি যত দিন এভাবে বই ভালবাসবে ততদিন আমাদের বন্ধুত্ব অটুট থাকবে।

৪. আজ মিহিদের স্কুলে নতুন বই দিয়েছে। বিকেলে সে বাবার সাথে গিয়ে আরো এক সেট নতুন বই কিনে এনেছে; আর এই বইয়ের প্যাকেটে লিখে রেখেছে ‘বন্ধু চিচিনের জন্যে’।

অলঙ্করণ : আইয়ুব

প্রকাশিত : ৩ জানুয়ারী ২০১৫

০৩/০১/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: